গুগল
গুগল

ক্রোম ব্রাউজার বিক্রি করতে হবে না গুগলকে, মার্কিন আদালতের রায়

ক্রোম ব্রাউজার বিক্রি করতে হবে না অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে। তবে যেটা করতে হবে, সেটা হলো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক এমন আদেশ দিয়েছেন।

মার্কিন বিচার বিভাগ চাইছিল, গুগল যেন ক্রোম বিক্রি করে দেয়। কিন্তু আদালত বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি এই ব্রাউজার নিজেদের মালিকানায় রাখতে পারবে, কিন্তু একচেটিয়া চুক্তি আর করতে পারবে না। সেই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সার্চ-সংক্রান্ত তথ্য ভাগ করে নিতে হবে।

মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ অমিত মেহতা গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন। অনলাইন সার্চে গুগলের আধিপত্য ভাঙতে দীর্ঘদিন ধরে এ মামলা চলছিল।

মামলার মূল বিষয় ছিল, গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ও ক্রোমের মতো নিজস্ব পণ্য ও অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানের ডিভাইসে ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে তার ব্যবহার।

গুগল প্রস্তাব দিয়েছিল, সহজ সমাধান হিসেবে অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি সীমিত করা যেতে পারে, অর্থাৎ ডিজিটাল যন্ত্র ও ব্রাউজারে গুগলকে যেন আর ডিফল্ট বা সার্চ ইঞ্জিন রাখার ধারা পরিবর্তন হয়।

রায়ের পর গুগল বিষয়টিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছে। তাদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উত্থান এই ফলাফলে ভূমিকা রেখেছে।

বিবৃতিতে গুগল বলেছে, আদালতের সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়, এআইয়ের কারণে ডিজিটাল শিল্পে কতটা পরিবর্তন এসেছে, এআই মানুষকে তথ্য খোঁজার আরও অনেক উপায়ের সন্ধান দিয়েছে। তারা আরও জানায়, গুগল ২০২০ সালে মামলার পর থেকে যা বলে আসছে, তা–ই প্রমাণিত হয়, অর্থাৎ প্রতিযোগিতা এখন তীব্র। মানুষ সহজেই নিজেদের পছন্দের সেবা বেছে নিতে পারে।

গুগল শুরু থেকেই একচেটিয়াত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি ছিল, গুগলের সার্চ ইঞ্জিন অন্যদের চেয়ে ভালো। মানুষ স্বাভাবিকভাবে ভালোটাই বেছে নেয়।

গত বছর বিচারক মেহতা রায় দেন, গুগল অনলাইন সার্চ বাজারে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও ধরে রাখতে অন্যায্য পন্থা অবলম্বন করছে। সেটা করতে গিয়ে তারা মার্কিন আইন ভেঙেছে। তিনি আরও বলেন, ক্রোম বিক্রিতে বাধ্য করা এ মামলার সঙ্গে মানানসই নয়। একই সঙ্গে গুগলকে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমও বিক্রি করতে হবে না, যে অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে বিশ্বের বেশির ভাগ স্মার্টফোন চলে।

গুগল যুক্তি দিয়েছিল, অ্যান্ড্রয়েডের মতো অপারেটিং সিস্টেম বিক্রি করে দিলে গুগল ঠিকভাবে কাজ করবে না বা অকেজো হয়ে যাবে।

রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাবিগেইল স্লেটার লেখেন, আজকের নির্দেশে প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। তবে আদেশটি লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

রায়ের পর গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম ৮ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। অ্যাপল, স্যামসাং ও মটোরোলার মতো স্মার্টফোন কোম্পানিগুলোও এতে সুবিধা পাবে।

বিষয়টি হলো ফোন সেটে নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন ও ব্রাউজার আগে থেকে যুক্ত করতে গুগল অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো কোম্পানিকে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার দিত। আদালত জানায়, ২০২১ সালে শুধু অ্যাপল, মজিলা ও অন্যদের সঙ্গে এমন চুক্তির জন্য গুগল ২৬ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার দিয়েছে।

এখন থেকে গুগল সার্চ, ক্রোম, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা জেমিনি অ্যাপের জন্য একচেটিয়া চুক্তি করতে পারবে না। ফলে ফোন কোম্পানিগুলো চাইলে অন্য সার্চ ইঞ্জিন, ব্রাউজার বা এআই অ্যাসিস্ট্যান্টও আগে থেকে ইনস্টল করে দিতে পারেব। তবে ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য গুগল এখনো অর্থ দিতে পারবে।

ডিপওয়াটার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জিন মুনস্টার বলেন, এই রায় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সুখবর। তিনি বলেন, এই রায়ে অ্যাপলও জিতেছে। কেননা এখন গুগলকে প্রতিবছর নতুন করে চুক্তি করতে হবে।

এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল ভিজিবল অ্যালফার গবেষণা–প্রধান মেলিসা অটো বলেছেন, বাজার যতটা প্রত্যাশা করেছিল, এই রায় ততটা কঠোর মনে হচ্ছে না।

এ বছর সার্চ অপারেশন থেকে গুগল প্রায় ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি ডলার আয় করতে পারে বরে ধারণা। এর মধ্যে কয়েক শ কোটি ডলার বিতরণ অংশীদারদের হাতে যাবে। ফলে মামলায় জড়িত বড় করপোরেট সবার জন্যই বিষয়টি লাভজনক হবে, বলেছেন মেলিসা অটো।

তবে গুগলের প্রতিদ্বন্দ্বী ডাকডাকগো বলেছে, এই রায়ে গুগলের অবৈধ আচরণ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আসবে না। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও গ্যাব্রিয়েল ওয়েইনবার্গ বলেন, ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে ধারা ছিল, তা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে যে গুগলের আইনি লড়াই শেষ হয়ে যাবে, তা নয়। এই মাসের শেষের দিকে গুগলকে আরও একটি মামলায় বিচার কার্যক্রমে যেতে হবে। এটি বিচার বিভাগের পৃথক আরেকটি মামলা, যেখানে বিচারক মন্তব্য করেছেন, গুগল অনলাইন বিজ্ঞাপন প্রযুক্তিতে অবৈধভাবে একচেটিয়াত্ব ধরে রেখেছে।