কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টারের চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রনের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ক্লাবে পৌঁছেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের মূল্য আজ বুধবার ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটি এমন এক ধারাবাহিক উত্থানের অংশ, যেখানে চলতি বছরের শুরু থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদর তিন গুণের বেশি বেড়েছে। এসকে হাইনিক্স এআই চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী।
অন্যদিকে গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেমোরি চিপ নির্মাতা মাইক্রনের শেয়ার প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। এর আগে বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস কোম্পানিটির শেয়ারের লক্ষ্যমূল্য তিন গুণ বাড়িয়ে দেয়।
নতুন করে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্যের কোম্পানির ক্রমবর্ধমান তালিকায় যুক্ত হয়েছে এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রন। এই তালিকায় আগে থেকে রয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়া, অ্যামাজন, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট এবং মেটা।
বিশ্বজুড়ে এআই টুল চালাতে ব্যবহৃত উন্নত কম্পিউটার চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এ চাহিদার উল্লম্ফন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপের ঘাটতি তৈরি করেছে, যা এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রনের মতো নির্মাতাদের বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকসও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করে। এটি তাইওয়ানের টিএসএমসির পর দ্বিতীয় এশীয় কোম্পানি হিসেবে এই মাইলফলক অর্জন করে। স্যামসাংও এনভিডিয়ার অন্যতম বড় সরবরাহকারী।
শ্রমিকদের সঙ্গে একটি বেতনচুক্তিতে পৌঁছানোর পর ধর্মঘটের আশঙ্কা এড়িয়ে যাওয়ায় আজ স্যামসাংয়ের শেয়ার ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে স্যামসাংয়ের বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৩৪ ট্রিলিয়ন ডলার, আর চলতি বছরেই কোম্পানিটির শেয়ারদর দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার কসপি সূচক, যেখানে প্রযুক্তি কোম্পানির প্রভাব বেশি, নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এআই বিনিয়োগের এই ঢেউয়ে সবচেয়ে বড় লাভবান হয়েছে এনভিডিয়া। গত অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম কোম্পানি হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য স্পর্শ করে। কোম্পানিটি এখনো রেকর্ড বিক্রির কথা জানালেও খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ছে—এ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
মাইক্রোসফট এবং অ্যাপল সম্প্রতি ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য অতিক্রম করেছে। তবে কিছু বিনিয়োগকারী সতর্ক করে বলেছেন, এআই খাতে অতিমূল্যায়নের ঝুঁকি রয়েছে। এটি একটি সম্ভাব্য ‘বাবল’ হতে পারে।