
এবার বিওয়াইডির পেছনে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু বিওয়াইডি নয়, চীনের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ও বাইদুকে চীনের সামরিক কার্যক্রমের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
ফলে চীনের এই বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কালোতালিকায় যুক্ত হলো। এর আগে চীনের প্রযুক্তি খাতের প্রাণ হিসেবে খ্যাত হুয়াওয়েকে কালোতালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল–জাজিরার
পেন্টাগন সোমবার এ হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার যে চেষ্টা চলছে, এ তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর তা আরও জটিল হয়ে উঠল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস এ সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা নিয়ে অযথা টানাটানি করছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদেশে কাজ করা চীনা কোম্পানিগুলো সব সময়ই সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও নিয়ম মেনে চলে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের নীতি থেকে সরে এসে চীনা কোম্পানির জন্য ন্যায্য ও সমান সুযোগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে আলিবাবা জানায়, তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ভিত্তিহীন। কোম্পানিটির বক্তব্য, তারা কোনোভাবেই চীনের সামরিক খাতের অংশ নয় এবং মিলিটারি-সিভিল ফিউশন বা সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়নীতির সঙ্গে তাদের যোগ নেই।
আলিবাবা আরও জানায়, তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিওয়াইডি ও বাইদু এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
পেন্টাগনের এ তালিকা প্রতিবছর হালনাগাদ করা হয়। সর্বশেষ তালিকায় এখন ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, গত বছরের তুলনায় যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এ তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও তাদের নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের চুক্তির জন্য বিবেচিত হবে না—এমন নিয়ম আগামী মাসের শেষ দিকে কার্যকর হওয়ার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বা সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়নীতিতে সহায়তা করে, তাদের এ তালিকায় রাখা হয়। এ নীতির মাধ্যমে বেসামরিক গবেষণা ও সামরিক উন্নয়নের মিশেল ঘটানো হয়।
হালনাগাদ তালিকায় বলা হয়েছে, আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইদু চীনের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে সামরিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
এ সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ পর্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠকের কিছু সময় পরই, যদিও দুই দেশ বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতের উত্তেজনা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছিল।
আলিবাবা, বাইদু ও বিওয়াইডি চীনের প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। যথাক্রমে ই-কমার্স, সার্চ ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর আগে টেনসেন্টকেও একই ধরনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের মূল প্রতিষ্ঠান এই টেনসেন্ট।
নতুন তালিকায় আরও রয়েছে শেনজেনভিত্তিক রোবোটিকস, এআই প্রতিষ্ঠান রোবোসেন্স টেকনোলজি ও হাংঝুভিত্তিক ইউনিট্রি রোবোটিকস।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন বিস্তৃত তালিকা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এসব চীনা কোম্পানির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
তাদের মতে, বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের প্রতিটি দেশ পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন চীনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। ফলে এ ধরনের পদক্ষেপ তেমন একটা ফলপ্রসূ হয় না।
হুয়াওয়ে একসময় অন্যতম জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ছিল। তবে ২০১৯ সালে মার্কিন সরকার হুয়াওয়েকে এনটিটি লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করার পর হুয়াওয়ের অফিশিয়াল স্মার্টফোন ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগে।
এ বিধিনিষেধের কারণে গুগল হুয়াওয়েকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে হুয়াওয়ের ডিভাইসগুলো গুগল প্লে স্টোর ও বহুল ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি গুগল অ্যাপ্লিকেশনসহ গুগল মোবাইল সার্ভিসেস ব্যবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।
গুগলের সেবা থাকায় বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে হুয়াওয়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। কেননা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গ্রাহকেরা গুগলের ইকোসিস্টেমের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ে বড় ধাক্কা খেলেও ধীরে ধীরে ঘরোয়া প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। কোম্পানিটি নিজস্ব অ্যাপগ্যালারি প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী সফটওয়্যার ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। তার ভিত্তিতে কোম্পানিটি বাজারে ফিরে আসছে।