
চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিওয়াইডির চাহিদা বাড়ছে। গত জুলাই মাসে বিওয়াইডির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বার্ষিক বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে বিওয়াইডিকে বিক্রি অনেকটা বাড়াতে হবে।
কোম্পানির সদ্য প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিওয়াইডি প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে। টানা তৃতীয় মাসের মতো বিওয়াইডি গাড়ি বিক্রি বেড়েছে। তবে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে গাড়ি বিক্রি করতে পারেনি তারা। সেই লক্ষ্যের তুলনায় পিছিয়ে আছে তারা। খবর রয়টার্স।
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিওয়াইডি গাড়ির চাহদিা বেড়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি শুরু করে বিওয়াইডি। এখন প্রতি মাসেই তাদের বিক্রি বাড়ছে। ঢাকার সড়কে এখন প্রায়ই বিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি চোখে পড়ে। সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে এখন সাড়ে তিন শর বেশি বিওয়াইডি গাড়ি রাস্তায় চলছে।
এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা বিশ্বে ১৮ লাখ গাড়ি বিক্রি হয়। এই বাস্তবতায় ২০২৬ সালে ৫০ লাখ থেকে ৫৫ লাখ গাড়ি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার গাড়ি বিক্রি করতে হবে।
গাড়ির বিক্রির এই প্রবণতা বিওয়াইডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াং ছুয়ানফুর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বছরের প্রথমার্ধে উন্নত ব্যাটারি সংযোজনের প্রস্তুতির জন্য বিওয়াইডি কয়েকটি উৎপাদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। এতে গাড়ির বিক্রি কমেছে।
চলতি বছরেও বিওয়াইডির রপ্তানি বাড়ছে। জুলাইয়ের মোট বিক্রির ৪৩ শতাংশই হয়েছে বিদেশি বাজারে, অর্থাৎ রপ্তানি থেকে। দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বাজার সম্প্রসারণের আগ্রাসী কৌশল নিয়েছে তারা।
অন্যদিকে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে দুর্বল অর্থনীতি ও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে চাহিদা কমছে, সে কারণে তারা রপ্তানিতে জোর দিচ্ছে।
বাংলাদেশে বিওয়াইডি গাড়ি কত চলে
এদিকে দেশের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিওয়াইডি গাড়ির চাহদিা বেড়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি শুরু করে বিওয়াইডি। এখন প্রতি মাসেই তাদের বিক্রি বাড়ছে। ঢাকার সড়কে এখন প্রায়ই বিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি চোখে পড়ে। সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে এখন সাড়ে তিন শ’র বেশি বিওয়াইডি গাড়ি রাস্তায় চলছে।
বিওয়াইডি গাড়ি প্রসারে বাধা কী
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক বাধা ও শুল্ক বাড়ছে, এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিওয়াইডি কতটা সক্ষম, তা মূল্যায়নে বিনিয়োগকারীরা এখন রপ্তানির প্রবণতার দিকে নজর রাখছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করতে বিওয়াইডি একের পর এক নতুন মডেল নিয়ে আসছে। এর মধ্যে আছে সিল ৬ সিরিজের ডিএম-আই ৫.০ হাইব্রিড প্রযুক্তির সংস্করণ। ইউরোপের জন্য আনা হয়েছে বৈদ্যুতিক সিল মডেলের গাড়ি। পাশাপাশি জাপানের ক্ষুদ্র ‘কেই কার’ বাজারে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন মডেল।
ইউরোপে বিওয়াইডির অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্র হচ্ছে হাঙ্গেরি। তবে সেখানে তাদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
হাঙ্গেরির সেজেদ শহরে নির্মীয়মাণ বিওয়াইডির প্রধান কারখানায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সে দেশে সরকার পরিবর্তনের পর বিওয়াইডিকে দেওয়া বিপুল রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি, কর ছাড় ও পরিবেশগত অব্যাহতি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই বাস্তবতায় হাঙ্গেরিতে বিওয়াইডির নতুন কারখানা চালুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। বিওয়াইডি সম্প্রতি জানিয়েছে, সেজেদ কারখানায় গাড়ি সংযোজন কার্যক্রম ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে শুরু হবে। যদিও তাদের মূল পরিকল্পনা ছিল এক বছর আগে শুরু করা।