‘বিদেশে ইন্টার্নশিপ চাকরি পাওয়ার পথ সহজ করে দেয়’

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন সৈয়দ তাহমিদ হোসেন। স্নাতকোত্তরে দুই সেমিস্টার শেষ করার পর গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ইন্টার্নশিপ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সার্ভে প্রতিষ্ঠানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানে কীভাবে ইন্টার্নশিপ পেলেন এবং সেখানে কাজের বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন সৈয়দ তাহমিদ হোসেন।

সৈয়দ তাহমিদ হোসেন
ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টার্নশিপ পেলেন কীভাবে?

গত বছরের ডিসেম্বরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মেলায় অংশ নেওয়া সাতটি প্রতিষ্ঠানে সিভি দিয়েছিলাম। দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ডাক পাই। ইন্টারভিউ দিই। দুটিতেই তারা অফার দেয়।

প্রশ্ন

সাক্ষাৎকার কেমন হয়?

খুবই সাধারণ কথাবার্তা। আমাকে কোনো টেকনিক্যাল বিষয় জিজ্ঞেস করেনি। তবে সার্ভেয়িং বিষয়ে কোর্স করেছি কি না, সার্ভে যন্ত্রপাতি সম্পর্কে ধারণা আছে কি না, সেসব জিজ্ঞেস করেছে। সবাই অনেক ফ্রেন্ডলি ছিল। আমার দেশের আবহাওয়া কেমন, এ দেশের মানুষ কী খেতে পছন্দ করে—এসব নিয়েই কথা হয়েছে বেশি। সব শেষে স্যালারি কত আশা করি, তা জিজ্ঞেস করেছিল।

প্রশ্ন

ইন্টার্নশিপ পাওয়া কি খুব কঠিন?

আমার মতো ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জন্য একটু কঠিনই বটে। আবার কোন বিষয়ে পড়ছেন, তা–ও একটা বিষয়। ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক সহজ। আমি জব ফেয়ার, লিংকডইন, ইনডিডসহ মোট ২৫টিতে আবেদন করি। ছয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে কল পাই।

প্রশ্ন

ইন্টার্নশিপ পেতে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত?

বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির মেলায় অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। সিভি আপডেট রাখা চাই। আমেরিকান সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে। তাঁরা কোথায় ইন্টার্ন করেছেন, খোঁজ নিন। তাঁদের রিকমেন্ডেশন অনেক কাজে দেয়। যত পারেন, আবেদন করুন। হতাশ হওয়া যাবে না।

প্রশ্ন

কখন ও কীভাবে আবেদন করতে হয়?

বেশির ভাগ ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট সামারের তিন মাস (মে-জুলাই) বন্ধে ইন্টার্নশিপ করে থাকেন। আবেদন শুরু হয় আগের বছরের অক্টোবর/নভেম্বর মাসে, চলে ফেব্রুয়ারি/মার্চ পর্যন্ত। যত আগে আবেদন করা যায়, তত ভালো। সার্কুলার পেতে লিংকডইন আইডি, ইনডিড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জব ফেয়ার কাজে দেয়।

প্রশ্ন

ইন্টার্নশিপে কী কী কাজ করেছেন?

ইন্টার্নশিপ দুই ভাগে বিভক্ত—ট্রেনিং ও ফিল্ড ওয়ার্ক। শুরুর এক সপ্তাহ ট্রেনিং পিরিয়ড। পরে হাতে–কলমে শেখার জন্য একজন টিম লিডারের সঙ্গে কাজ করতে দেবে। সামারে অনেক গরম থাকে, সে জন্য ফিল্ড ওয়ার্ক একটু কঠিন হয়।

প্রশ্ন

ইন্টার্নশিপে বেতন কত দেয়?

বেতন কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি—এই তিন ধরনের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপের বেতনেও পার্থক্য আছে। বড় শহরে তুলনামূলক বেশি বেতন দেয়। অনেক কোম্পানি বাসাভাড়াও দিয়ে থাকে। মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি প্রতি ঘণ্টায় ১৭ ডলার পেতাম। সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এর বেশি হলে প্রতি ঘণ্টায় দেড় গুণ বেশি বেতন দেয়।। বাসাভাড়া ও ট্যাক্স বাদ দিয়ে খুব বেশি টাকা সঞ্চয় না থাকলেও নিজে চলা ও বাসায় পাঠানোর মতো আয় হয়।

প্রশ্ন

চাকরি পেতে ইন্টার্নশিপ কি কাজে দেয়?

অবশ্যই। ইন্টার্ন কোর্সওয়ার্ক হিসেবে ট্রান্সক্রিপ্টে লেখা থাকে, যা চাকরি পাওয়া অনেক সহজ করে দেয়।

প্রশ্ন

বাংলাদেশের ইন্টার্নশিপের সঙ্গে পার্থক্য কেমন?

মূল পার্থক্য বেতনে। বাংলাদেশে যা বেতন দেয়, তাতে বাসা ভাড়া দিয়ে নিজের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। তবে এখানে পুরো উল্টো। সঞ্চয় খুব বেশি না হলেও নিজের খরচ, বাসায় টাকা পাঠানো, গাড়ির তেল খরচ, ইনসুরেন্স সব অনায়াসে করা সম্ভব।