বিসিএসের প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীরা
বিসিএসের প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীরা

৫০তম বিসিএসের ভাইভা শুরু, ঘোষিত রোডম্যাপেই পিএসসি

৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ঘোষিত এক বছরে একটি বিসিএস শেষ করার পরিকল্পনার চূড়ান্ত ধাপ শুরু হলো। পিএসসির পরিক্রমা অনুযায়ী, নির্ধারিত রোডম্যাপ মেনে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার দ্রুত ফল প্রকাশের পর এবার নির্ধারিত সময়েই মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়েছে।

পিএসসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা গ্রহণের মাত্র ১১ দিনের মাথায় ১০ ফেব্রুয়ারি প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করে কমিশন। প্রিলিমিনারিতে ১২ হাজার ৩৮৫ জন উত্তীর্ণ হন।

পরে ৯ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৭৭ দিন বা আড়াই মাসের মধ্যে গত ২৩ জুলাই লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হন ৬ হাজার ১৬৫ জন। আজ পিএসসি কার্যালয়ে তাঁদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হলো।

এই বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫০ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫টি ক্যাডার পদের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে (৬৫০ জন)। এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন এবং শিক্ষা ক্যাডারেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এই পদগুলোর বিপরীতে চূড়ান্ত সুপারিশ পাবেন।

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, অতীতের বিসিএসগুলোতে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেত। পরীক্ষা গ্রহণ থেকে ফল প্রকাশ—প্রতিটি ধাপেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতেন চাকরিপ্রার্থীরা। এই দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে ৫০তম বিসিএস থেকে এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করে পিএসসি। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছরের ২৫ নভেম্বরের মধ্যে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করার কথা পিএসসির।

ভেরিফিকেশনে বিলম্ব, মিলছে না দ্রুত ফলের সুফল

পিএসসি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের পরিক্রমা বজায় রাখলেও চূড়ান্ত নিয়োগে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। মূলত পিএসসির সুপারিশের পর প্রাক্‌-নিয়োগ জীবনবৃত্তান্ত যাচাই বা পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজটিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এই ভেরিফিকেশন ও চূড়ান্ত নিয়োগের কাজ পরিচালনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ভেরিফিকেশনে অতিরিক্ত সময় লাগায় পিএসসির দ্রুত ফল প্রকাশের প্রকৃত সুফল প্রার্থীরা পাচ্ছেন না।

বর্তমানে পিএসসির বিভিন্ন ধাপ ও সুপারিশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ৪৫তম, ৪৬তম ও ৪৯তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলা এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় গতি না এলে এবং সময়মতো গেজেট না হলে এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়ার আশা অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন প্রার্থীরা।