বিসিএসের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা
বিসিএসের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা

৫০তম বিসিএসের ভাইভা ২ দিন পর, ভাইভার আগে ও বোর্ডে করণীয় কী কী

১১ আগস্ট ২০২৬ এ শুরু হতে যাচ্ছে ৫০তম বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। আর ২ দিন পরের ভাইভা প্রস্তুতিতে প্রার্থীরা যা যা অনুসরণ করতে পারেন।

১.

চয়েজ লিস্টের প্রথম তিনটি চয়েজ সম্পর্কে ভালোভাবে পড়তে হবে। এ ছাড়া বাকি চয়জেগুলো সম্পর্কে বেসিক জিনিসগুলো জানতে হবে। যেমন পদসোপান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো। অনেক সময় কাস্টমস/ট্যাক্স/অডিট চয়েজ লিস্টের ৪-৫ নম্বরে থাকলেও এখান থেকে প্রশ্ন করা হয়। যেমন: কর কত প্রকার? নন ট্যারিফ ব্যারিয়ার কী ইত্যাদি ধরনের প্রশ্ন?

২.

ইংরেজিতে যেকোনো বিষয়ের ওপর বক্তব্য (স্পিচ) দিতে বলতে পারে। তাই স্পিচ অনুশীলন করতে হবে।

৩.

ভাইভতে খুব কমন একটা প্রশ্ন Introduce Yourself অথবা নিজের Strong Zone, Weakzone সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন স্যাররা। তাই এই প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে গুছিয়ে রাখতে হবে।

৪.

যে বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স সম্পন্ন হয়েছে অর্থাৎ নিজ পঠিত বিষয় সম্পর্কে ভালো মতো জানতে হবে। বিশেষ করে বেসিক জিনিসগুলো পড়ে যেতে হবে। এ ছাড়া নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল সম্পর্কে খুঁটিনাটি জেনে যেতে হবে।

মো. জাবেদ হোসেন

৫.

নিজ জেলা এবং জেলার ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে জেনে যেতে হবে। নিজ জেলার ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে স্পিচ দিতে বলতে পারে।

৬.

কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন যেমন : Leadership quality, Management Skill এসব এর বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে কি না, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

৭. সহ-শিক্ষা কার্যক্রম (এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাকটিভিটি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারে ভাইভা বোর্ডে, তাই এসব বিষয় আগেই গুছিয়ে রাখতে হবে।

৮. এ ছাড়া নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে এবং সে সঙ্গে সমসাময়িক বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি সম্পর্কে জেনে যেতে হবে।

ভাইভার আগে করণীয়

১. সবার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রস্তুত রাখতে হবে।

২. রিচয়েজ ফর্মে কোনো কোনো ক্যাডার চয়েজ লিস্টে রাখবেন, তা ঠিক করে রাখতে হবে।

ভাইভা বোর্ডে করণীয়

১. ভাইভা বোর্ডে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করবেন।

২. প্রবেশ করে কয়েক কদম হেঁটে; অর্থাৎ একটু এগিয়ে গিয়ে সালাম দেবেন। সালাম দেওয়ার সময় বোর্ড মেম্বার সবার সঙ্গে আই কন্টাক্ট রাখার চেষ্টা করবেন।

৩. যতক্ষণ না বসতে বলা হয়, ততক্ষণ বসবেন না। বসতে বললে ধন্যবাদ দিয়ে বসবেন। বসার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন চেয়ারে অযথা শব্দ না হয়।

৪. পুরো ভাইভাজুড়ে নিজের নার্ভ কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা করবেন। নার্ভাস হওয়া যাবে না।

৫. কোনো প্রশ্ন না পারলে বিনয়ের সঙ্গে দুঃখিত বলবেন। পরপর কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর না পারলেও নার্ভাস না হয়ে হাসিমুখে দুঃখিত বলবেন। উত্তর জানা না থাকলে ভুল উত্তর দেবেন না এবং জানা না থাকা সত্ত্বেও জানার ভান করবেন না।

৬. বিজ্ঞ বোর্ড মেম্বারদের সঙ্গে তর্কে জড়াবেন না।

৭. ভাইভা পুরো সময়জুড়ে হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করতে হবে। অনেক সময় নার্ভ পরীক্ষা করার জন্য অপমান সূচক প্রশ্ন করতে পারেন, এমন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে হাসিমুখে কথা বলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।

৮. ভাইভা শেষে বোর্ড মেম্বারদের সালাম দিয়ে বের হবেন।

৯. কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় দরজা খেলা এবং বন্ধের সময় যাতে অযথা শব্দ না হয়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে।

* লেখক: মো. জাবেদ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (সুপারিশপ্রাপ্ত), ৪৭তম বিসিএস