
সৃজনশীল প্রশ্ন
মি. ইমন ও রুমেল যথাক্রমে ইউনিক ও এলিগেন্ট নামক দুটি ভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক। মি. ইমন নিজেই তাঁর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি বিশেষায়িত কাজগুলোর ব্যাপারে নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফলে তাঁর প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। অন্যদিকে মি. রুমেল বিশেষায়িত কাজগুলো দক্ষ ব্যক্তিদের হাতে অর্পণ করেন। ফলে তাঁর প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করতে পারছে।
প্রশ্ন
ক. সংগঠন চার্ট কী?
খ. কাম্য তত্ত্বাবধান পরিচয় বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মি. ইমনের ইউনিক নামক প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের সংগঠন কাঠামো বিদ্যমান? বর্ণনা করো।
ঘ. উদ্দীপকে মি. রুমেলের প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক. প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলিকে বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্ধারণের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ককে চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করাকে সংগঠন চার্ট বলে।
খ. একজন নির্বাহীর অধীনস্থ কর্মীর সংখ্যাকে তত্ত্বাবধান পরিসর বলে। সংগঠন কাঠামোতে নির্বাহী কতসংখ্যক কর্মীর কাজ তত্ত্বাবধান করবে, তা সুস্পষ্ট হতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাহীর অবস্থান, ক্ষমতা, কাজের ধরন, প্রাপ্ত সময় ইত্যাদি বিবেচনা করে পরিসর ঠিক করতে হবে। একজন ঊর্ধ্বতন কতজন অধস্তন ব্যক্তির কাজের তত্ত্বাবধান করতে পারেন, তার যৌক্তিক সীমারেখাই কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর নামে পরিচিত। অর্থাৎ যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী একজন নির্বাহীর অধীনে কতজন কর্মী কাজ করবে, কতজন অধস্তনের তত্ত্বাবধান করতে পারবে, তাকেই কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর বলে।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মি. ইমনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো অনুসরণ করছে। প্রতিষ্ঠানের পদসমূহকে মর্দাদা ও ক্ষমতার ভিত্তিতে ওপর হতে নিচের দিকে ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে যে কাঠামো তৈরি করা হয়, তাকে সরলরৈখিক সংগঠন বলে। এতে কর্তৃত্ব রেখা ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের নিকট হতে ধাপে ধাপে অধস্তনদের কর্মীদের নিকট নেমে আসে। সামরিক বিভাগ ও আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা সরলরৈখিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত ‘ইউনিক’ নামক একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক মি. ইমন তাঁর প্রতিষ্ঠানে সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো ব্যবহার করেছেন, যেখানে তিনি নিজেই তাঁর ব্যবসায় দেখাশোনা করেন। তিনি বিশেষায়িত কাজগুলোর ব্যাপারে নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফলে তাঁর প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। তা ছাড়া এই ধরনের সংগঠনকাঠামো অতিমাত্রায় নির্বাহীকেন্দ্রিক। অর্থাৎ নির্বাহীরাই সর্বেসর্বা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ইমনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো প্রয়োগ হচ্ছে।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মি. রুমেলের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের কারণ হলো কার্যভিত্তিক কাঠামোর অনুসরণ।
যে সংগঠন কাঠামোতে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজকে প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেকটি বিভাগের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির ওপর অর্পণ করা হয়, তাকে কার্যভিত্তিক সংগঠন বলে। এ সংগঠনে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনে সম্পাদিত কাজের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থাপনার কার্য আওতাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন উৎপাদন, মানবসম্পদ, বাজারজাতকরণ, অর্থায়ন, হিসাব, ক্রয় ইত্যাদি এবং সমজাতীয় কাজগুলো একেকটি বিভাগের অধীনে নিয়ে আসা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. রুমেল ‘এলিগেন্ট’ নামক একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক। মি. রুমেল তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিশেষায়িত কাজগুলো দক্ষ ব্যক্তিদের হাতে ছেড়ে দেন। এর ফলে প্রত্যেক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির অধীনে কর্মীরা সঠিক নির্দেশনা পেয়ে তারা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিশেষায়নের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অপচয় হ্রাসের মাধ্যমে মুনাফাও বৃদ্ধি পায়। আমরা বলতে পারি যে মি. রুমেলের প্রতিষ্ঠানে কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামো যথোপযুক্ত প্রয়োগের কারণে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
মো. মাজেদুল হক খান, সহকারী অধ্যাপক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা