
জাতীয় ফল কাঁঠাল
ভূমিকা: কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। একটি রসাল ও সুস্বাদু ফল হিসেবে কাঁঠাল বিখ্যাত। এটি গ্রীষ্মকালের ফল। তবে বর্ষা ও বর্ষার পরেও কিছুদিন কাঁঠাল পাওয়া যায়।
প্রকৃতি: কাঁঠালগাছ বেশ বড় ও অনেক দিন বাঁচে। একই গাছ থেকে অনেক বছর ধরে কাঁঠাল পাওয়া যায়। মাঘ-ফাল্গুন মাসে কাঁঠালগাছে মুচি ধরে। মুচি থেকে কাঁঠাল হয়। চৈত্র মাস থেকে কাঁঠাল বড় হতে থাকে। বৈশাখ মাস থেকে কাঁঠাল ধরে।
কাঁঠালগাছের শিকড় থেকে কাণ্ড, ডালপালা পর্যন্ত কাঁঠাল ধরে। একটি কাঁঠালগাছে ১০০-৩০০টি পর্যন্ত কাঁঠাল ধরে। কোনো কোনো কাঁঠাল আকারে বিরাট হয় এবং ওজনেও ৩০-৪০ কেজি হতে দেখা যায়। কাঁঠাল ছোট-বড় সব রকমেরই হয়। কাঁঠালের চামড়া খরখরে কাঁটাযুক্ত। কাঁঠালের ভেতর কোষ হয়। একটি কোষে একটি বিচি থাকে। কাঁঠালের বীজ থেকে চারাগাছ হয়। গাছের গোড়ায় বেশি দিন পানি থাকলে কাঁঠালগাছ মরে যায়।
প্রাপ্তিস্থান: কাঁঠাল বাংলাদেশের সর্বত্রই কমবেশি পাওয়া যায়। নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, যশোরে বেশি কাঁঠাল পাওয়া যায়।
উপকারিতা: কাঁঠাল উপাদেয় ও পুষ্টিকর ফল। কাঁচা কাঁঠালের তরকারি অত্যন্ত সুস্বাদু। কাঁঠাল এমন একটি ফল, যার বিচিও খাওয়ার উপযোগী এবং উপকারী। কাঁঠালের বিচি তরকারি হিসেবে দারুণ ক্যালরিযুক্ত। কাঁঠালের মোটা খোসা গরু-মহিষের প্রিয় খাদ্য। পাকা কাঁঠাল খেতে খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু।
অপকারিতা: কাঁঠাল খুব গুরুপাক। সহজে হজম হয় না। বেশি কাঁঠাল খেলে পেটে পীড়া হয়। এ জন্য কাঁঠাল একসঙ্গে বেশি খাওয়া উচিত নয়। অবশ্য কাঁঠালের মৌসুমে কোনো কোনো দরিদ্র পরিবারে কাঁঠালকেই সাধারণ খাদ্যের বিকল্প হিসেবে নিয়ে থাকে।
বিদেশে চাহিদা: আমাদের দেশে যে পরিমাণ কাঁঠাল উৎপন্ন হয়, তার বেশ কিছু পরিমাণ নষ্ট হয়ে যায়। কাঁঠাল এ দেশের সম্পদ। আমরা প্রক্রিয়াজাত করে কাঁঠালের জ্যাম, জেলি, জুস ইত্যাদি বিদেশে রপ্তানি করতে পারি।
এ ব্যাপারে সব পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ খুবই জরুরি। এ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সহজেই হতে পারে, যা আমাদের দেশের উন্নয়নেরও কাজে লাগবে।
উপসংহার: কাঁঠাল মৌসুমি ফল। বাংলাদেশের ফলের মধ্যে সবচেয়ে প্রোটিনযুক্ত ফল কাঁঠাল। তাই বাড়ির চারপাশে কাঁঠালগাছ লাগিয়ে এর ফলন প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি করা উচিত।