স্মরণীয় যাঁরা চিরদিন
প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ রয়েছে বাংলা বিষয়ের ‘স্মরণীয় যাঁরা চিরদিন’ প্রবন্ধের ওপর আলোচনা।
প্রশ্ন: প্রদত্ত শব্দগুলোর অর্থ লেখো।
অবরুদ্ধ, অবধারিত, আত্মদানকারী, নির্বিচারে, বরেণ্য, পাষণ্ড, মনস্বী, যশস্বী।
উত্তর:
প্রদত্ত শব্দ অর্থ
অবরুদ্ধ শত্রু দিয়ে বেষ্টিত, বন্দী
অবধারিত অনিবার্য, নির্ধারিত, যা হবেই
আত্মদানকারী নিজের জীবন উত্সর্গ করেছেন যিনি
নির্বিচারে কোনো রকম বিচার-বিবেচনা ছাড়া
বরেণ্য মান্য
পাষণ্ড নির্দয়
মনস্বী উদারমনা
যশস্বী বিখ্যাত, কীর্তিমান
প্রশ্ন: ঘরের ভেতরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করো।
অবরুদ্ধ অবধারিত আত্মদানকারী বরেণ্য
নির্বিচারে যশস্বী পাষণ্ড মনস্বী
ক. তারা বুঝতে পারে যে, তাদের পরাজয় —।
খ. দেশের ভেতরে — জীবন যাপন করতে করতে প্রাণ দেন এ দেশের লাখ লাখ মানুষ।
গ. পাকিস্তানিরা একে একে হত্যা করে এ দেশের মেধাবী, আলোকিত ও — মানুষদের।
ঘ. মুক্তিযুদ্ধে শহিদেরা মহান — হিসেবে চিরস্মরণীয়।
ঙ. পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা — হত্যা করে নিদ্রিত মানুষকে।
চ. অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব ছিলেন দর্শনশাস্ত্রের — শিক্ষক।
ছ. — কিছু লোক যোগ দেয় ওই সব বাহিনীতে।
জ. রাজাকার বাহিনী এ দেশের অনেক — চিন্তাবিদকে হত্যা করে।
উত্তর:
ক. তারা বুঝতে পারে যে, তাদের পরাজয় অবধারিত।
খ. দেশের ভেতরে অবরুদ্ধ জীবন যাপন করতে করতে প্রাণ দেন এ দেশের লাখ লাখ মানুষ।
গ. পাকিস্তানিরা একে একে হত্যা করে এ দেশের মেধাবী, আলোকিত ও বরেণ্য মানুষদের।
ঘ. মুক্তিযুদ্ধের শহিদেরা মহান আত্মদানকারী হিসেবে চিরস্মরণীয়।
ঙ. পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে হত্যা করে নিদ্রিত মানুষকে।
চ. অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব ছিলেন দর্শনশাস্ত্রের যশস্বী শিক্ষক।
ছ. পাষণ্ড কিছু লোক যোগ দেয় ওই সব বাহিনীতে।
জ. রাজাকার বাহিনী এ দেশের অনেক মনস্বী চিন্তাবিদকে হত্যা করে।
# নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা এ দেশে কী করেছিল?
উত্তর: পাকিস্তানি সেনারা পঁচিশে মার্চ মধ্যরাতে ঢাকা শহরের মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলগুলোতে চালায় নির্মম হত্যাকাণ্ড। এ ছাড়া শহরজুড়ে চলতে থাকে তাদের নির্মম আক্রমণ। শিশু, বৃদ্ধ, যুবক, যুবতী কেউ তাদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পারেনি। গুলি চালিয়ে, গ্রেনেড ফাটিয়ে আর আগুন ধরিয়ে পুরো শহরকে তছনছ করে দেয় তারা। শুধু পঁচিশে মার্চ রাতেই নয়, এই হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে পরবর্তী নয় মাস ধরে।
প্রশ্ন: রাজাকার আলবদর কারা? তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যেসব বাঙালি পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তা করত, তারাই রাজাকার ও আলবদর।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এ দেশের কিছু অসাধু, লোভী, পাষণ্ড ও দেশদ্রোহী যোগ দেয় ওই সব বাহিনীতে। ফলে যখন পাকিস্তানি সেনারা এ দেশে জুলুম চালায়, তখন তারা পাকিস্তানি সেনাদের নানাভাবে সাহায্য করতে থাকে। পাকিস্তানিদের সাহায্যকারী এসব মানুষকেই রাজাকার ও আলবদর বলা হয়। রাজাকার, আলবদর বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল পাকিস্তানিদের সাহায্য করা। মানুষের সম্পদ ও খাবার লুট করে তারা পাকিস্তানিদের দিত। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের গতিবিধির খবর পাকিস্তানি সেনাদের কাছে পৌঁছে দিত। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানিদের বাঙালি হত্যা পরিকল্পনাকে সফল করে তোলা।
প্রশ্ন: শহীদ সাবের কে ছিলেন? তিনি কীভাবে শহিদ হন?
উত্তর: দৈনিক সংবাদ ছিল প্রগতিশীল একটি সংবাদপত্র। এই পত্রিকার নিয়মিত সাংবাদিক ছিলেন শহীদ সাবের। এ ছাড়া তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত লেখক। ২৫ মার্চ রাতে শহীদ সাবের বাসায় যেতে পারেননি। পত্রিকা অফিসেই ঘুমিয়ে পড়েন। মাঝরাতেই শুরু হয় পাকিস্তানিদের হত্যাযজ্ঞ। তারা সংবাদ অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই আগুনেই পুড়ে মারা যান প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক শহীদ সাবের।
বাকি অংশ ছাপা হবে আগামীকাল
সিনিয়র শিক্ষক
আন-নাফ গ্রিন মডেল স্কুল, ঢাকা