চাকরির প্রস্তুতিতে স্কুলেই কারিগরি শিক্ষা চালু করছে ইংল্যান্ড

১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ, ব্যবসা ও অর্থ ব্যবস্থাপনার মতো ব্যবহারিক বিষয় চালু করার পরিকল্পনা করেছে ইংল্যান্ড সরকার।

ইংল্যান্ডে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৯ সাল থেকে নতুন ধরনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক সনদ চালু করা হবে। প্রচলিত একাডেমিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি এসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ থাকবে শিক্ষার্থীদের।

নতুন বিষয়গুলোর মধ্যে নির্মাণ ও বিল্ডিং, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও অর্থ এবং শিশুর বিকাশের মতো বিষয় থাকতে পারে। এসব যোগ্যতার মান নির্ধারণ করবে দেশটির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকোয়াল। ফলে প্রচলিত জিসিএসইর সঙ্গে নতুন কারিগরি সনদের ফলাফলের মানের সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হবে।

কারিগরি শিক্ষার নতুন পথ

নতুন কারিকুলাম এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে ১৬ বছর বয়সের পর শিক্ষার্থীরা একই ধরনের কারিগরি কোর্সে এগিয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২০২৭ সালের শরৎকাল থেকে চালু হতে যাওয়া নতুন ভি–লেভেল ও বিদ্যমান টি–লেভেল রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের লক্ষ্য, বিভিন্ন ধরনের যোগ্যতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে কর্মজীবনে যাওয়ার জন্য একটি ধারাবাহিক পথ তৈরি করা।

ব্যয় ও শিক্ষকসংকট নিয়ে প্রশ্ন

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নে স্কুলগুলোর অতিরিক্ত অর্থ ও দক্ষ শিক্ষক প্রয়োজন হবে। ম্যানচেস্টারের রাইট রবিনসন কলেজে ইতিমধ্যে ১০টি ব্যবহারিক ও বৃত্তিমূলক বিষয় পড়ানো হয়। কলেজটির প্রধান শিক্ষক মার্টিন হাওর্থ বলেন, নতুন যোগ্যতাগুলোকে বিদ্যমান ব্যবস্থার ওপর বাস্তব মূল্য যোগ করতে হবে। তবে ব্যবহারিক বিষয় ও পরীক্ষাকে মানসম্মত করতে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ ও শ্রেণিকক্ষ পরিবর্তনে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে।

১৬ বছরের আগেই কাজের অভিজ্ঞতা

শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য দুই লাখ কর্মঅভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরির জাতীয় লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হচ্ছে। ইংল্যান্ডের বর্তমান ক্যারিয়ার নির্দেশনায় ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থবহ কর্মঅভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন স্থানীয় ক্যারিয়ার হাবের মাধ্যমে নিয়োগদাতাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ইংল্যান্ডের সরকার বলছে, নতুন কারিগরি সনদের মাধ্যমে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। তবে স্কুলগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক, অবকাঠামো ও অর্থ নিশ্চিত করা না গেলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।