খাদ্যপ্রেমীদের কাছে অতি জনপ্রিয় একটি নাম কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেন বা কেএফসি। ২০০৬ সালে গুলশান শাখার মাধ্যমে বাংলাদেশে কেএফসির যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশের বৃহত্তম শিল্প-প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকম লিমিটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেএফসি। গত ১৬ বছরে ব্র্যান্ডটি দেশের রেস্টুরেন্ট খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। তাই বাংলাদেশে ফ্রাইড চিকেনপ্রেমীদের কাছে কেএফসি জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
শুধু ব্যবসা নয়, কেএফসি সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়েও কাজ করে। এর অংশ হিসেবে কেএফসির উদ্যোগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ‘মজার ইশকুল’—এর ২৫০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন-কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, জুতা এবং নতুন বেঞ্চ। এ ছাড়া স্কুলটির জানালা ও দেয়ালে শিক্ষামূলক বিভিন্ন চিত্র (সৌরমণ্ডল, পানিচক্র, সালোকসংশ্লেষণ ও গ্রিনহাউসের প্রভাব, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্মৃতিস্তম্ভ) অঙ্কন। আরও রয়েছে নতুন সিঁড়ি, বেসিন ও ওয়াশরুম-সুবিধা, হোয়াইট বোর্ড স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ইত্যাদি।
অনন্য এই উদ্যোগ সম্পর্কে ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের সিইও অমিত দেব থাপা বলেন, ‘শুধু স্কুল বা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মানোন্নয়ন আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। এই উদ্যোগের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে গঠনমূলক সামাজিক কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করা।’
ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং মুরাদুল মুস্তাকিন বলেন, ‘উদ্যোগটি নিতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে একটি শিক্ষিত জাতিতে রূপান্তর করা। কারণ, সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল এই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই একটি সমৃদ্ধ জাতি তৈরি হবে।’
মজার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ান আরিফ বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে পথশিশুদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মূল শিক্ষাদানে যুক্ত করার জন্য কাজ করছি। এই উদ্যোগে আমাদের সঙ্গে কেএফসি যুক্ত হওয়ায় কাজটা সহজ হয়েছে। মজার স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাদাকালো জীবনে রঙিন স্বপ্নের ছোঁয়া দিতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’