
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্স রিসার্স ইন সায়েন্সেস সেমিনার কক্ষে ‘ইফেক্ট অব কারকুমা বায়োকমফোর্ট (এ ফর্মুলেটেড প্রোবায়োটিক ফুড প্রোডাক্ট) অন গাট হেলথ’ শীর্ষক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রাপ্ত ফলাফল উন্মোচনের আয়োজন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রোবায়োটিকের ইতিহাস, খাদ্য হিসেবে এর ব্যবহার, মানব স্বাস্থ্যে উপকারিতা, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দেশে এবং বহির্বিশ্বে এর আইনি ভিত্তি ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হোসাইন উদ্দিন শেখর উল্লেখ করেন জাপান, আমেরিকা, ইউরোপসহ সারা বিশ্বই এখন এ ধরনের বিশেষ খাদ্যের মাধ্যমে কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, বিভিন্ন ক্রনিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমানো যায়, তা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশিষ্ট পুষ্টিবিজ্ঞানী জেবা মাহমুদ শিশুদের পেটের সমস্যায় প্রয়োবায়োটিক যে অনন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, তা চমৎকারভাবে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়য়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ দিকনির্দেশনা বক্তব্যে তুলে ধরে বলেন, ‘উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও এ জাতীয় স্বাস্থ্যসহায়ক খাদ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পকারখানার যৌথ উদ্যোগে গবেষণা, ফর্মুলেশন ও প্রক্রিয়াকরণে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।’
অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক অরুন কুমার মণ্ডল গবেষণার পটভূমি আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনধারা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ, ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ আমাদের অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। এর ফলে অ্যাসিডিটি, বদহজম, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারেই সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রধান গবেষক মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এ কে ওবায়দুল হক গবেষণার বিস্তারিত বলতে গিয়ে জানান, ‘কারকুমা বায়োকমফোর্ট’ পণ্যটি প্রোবায়োটিক ব্যাসিলাস কোয়াগুল্যান্স এবং প্রিবায়োটিক ফুকটো-অলিগোস্যাকারাইডের সমন্বয়ে তৈরি। এখানে ব্যবহৃত প্রোবায়োটিকটি জাপানের টোকিও বিশবিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের আবিষ্কৃত, যা পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হয় এবং উচ্চ তাপমাত্রায়ও টিকে থাকতে পারে বলে তাঁদের গবেষণায় প্রমাণিত। এটি খাদ্য হিসেবে বা খাদ্যপণ্যে ব্যবহারের জন্য ইউএসএফডিএ কর্তৃক ২০১৬ সালে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (ঢাবি), বিসিএসআইআর, বিএসটিআই, বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউশন অব ফুড প্রফেশনালসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অধ্যাপক, গবেষক, চিকিৎসক এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।