
বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর এবং ন্যায়বিচারে মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘ই-পারিবারিক আপিল আদালত ৩’ এবং নতুন ‘ই-পারিবারিক আদালত ১৪’। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ আদালতের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ বিচারক, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং আইনজীবী ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আর কবির, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শেখ রাশেদ হায়দার নূরী, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রিয়াদুজ্জামান এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক মো. মেসবাউল ইসলাম জিয়ন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আইটি দল।
নতুন চালু হওয়া ই-পারিবারিক আপিল আদালতের মাধ্যমে পারিবারিক মামলার বিচারিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে। এ ব্যবস্থায় বিচারপ্রার্থীরা অনলাইনে মামলার তথ্য জানার পাশাপাশি ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে আদালতে যাতায়াত, কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং বিচারিক কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপে সময় ও শ্রম ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালত চালু হওয়ার পর গত বছর নভেম্বর থেকে ঢাকা ফ্যামিলি কোর্ট ৫ এবং ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রাম ফ্যামিলি কোর্ট ১-এ ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির তৈরি এই সিস্টেম অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বিচারিক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। কাগজবিহীন বিচারিক কার্যক্রম, মামলার তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং বিচারপ্রার্থীদের সহজে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা করছে কর্তৃপক্ষ।