এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬

‘লালসালু’ উপন্যাসে মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ধর্মব্যবসা

বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

উপন্যাস: লালসালু

# নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

মাদারীপুরে এক গ্রামের গরিব অসহায় পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। কারণ, ওই বাড়ির ছেলের বিয়েতে গ্রামের চেয়ারম্যানকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এ কারণেই রেগে যায় চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। সেই গরিব পরিবারকে সভা করে একঘরে করে দেয়। পরিবারের লোকদের বাইরে যাওয়ার রাস্তাটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন

ক. ‘লালসালু’ উপন্যাসে সাত ছেলের বাপের নাম কী?

খ. মজিদ আক্কাসকে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে বাধা দেয় কেন?

গ. উদ্দীপকের মাদারীপুর অঞ্চলের ঘটনাটির সঙ্গে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। কেন?

ঘ. ‘উদ্দীপকের চেয়ারম্যান ও তার লোকজন এবং “লালসালু” উপন্যাসের মজিদ অভিন্ন চেতনার অনুসারী’—মূল্যায়ন করো।

উত্তর

ক. ‘লালসালু’ উপন্যাসে সাত ছেলের বাপের নাম দুদু মিঞা।

খ. মজিদ তার নিজের বিপদের কথা ভেবে স্কুল নির্মাণে বাধা দেয়।

আক্কাস মিয়া গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত করতে স্কুল নির্মাণের কথা বললে মজিদের তা পছন্দ হয় না। কারণ, লোকজন শিক্ষিত হলে তারা ভালো-মন্দ বুঝবে, কুসংস্কার মানবে না, মজিদের ভণ্ডামি বুঝতে পারবে। ফলে অন্ধকারে থাকা ধর্মভীরু মানুষের সঙ্গে তার ধর্মব্যবসা করা বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণেই মজিদ স্কুল নির্মাণে বাধা দেয়।

গ. উদ্দীপকের ঘটনার সঙ্গে ‘লালসালু’ উপন্যাসে বর্ণিত দুদু মিঞার বিচারের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ মহব্বতনগরে কৌশলে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করে চলেছে। কেউ তার প্রভাবের বাইরে যেতে চাইলে বা কোনোভাবে তাকে অমান্য করলে সুকৌশলে মজিদ তাকে শাস্তি দিয়েছে। দুদু মিঞার বিচারের ক্ষেত্রে আমরা এমনটি দেখি। দুদু মিঞা নিজের মেয়েকে শাসন করলে তার জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। মজিদ ও তার অনুসারীরা দুদু মিঞাকে বিচারের মজলিশে অপমান করে।

উদ্দীপকেও আমরা এমন চিত্র দেখি। ছেলের বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ায় তাদের একঘরে হয়ে বাস করতে হয়। মূলত চেয়ারম্যান নিজের প্রভাব ধরে রাখার জন্যই ওই পরিবারকে শাস্তির মুখোমুখি করেছে। আর এমন কূটকৌশলী ভূমিকার দৃষ্টান্ত আমরা ‘লালসালু’ উপন্যাসের দুদু মিঞার বিচারের ক্ষেত্রে দেখতে পাই।

ঘ. পটভূমি ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের চেয়ারম্যান ও তার লোকজন এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ উভয়ই অভিন্ন চেতনার অনুসারী। ‘লালসালু’ উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদ শঠ ও প্রতারক একটি চরিত্র।

মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে একটি পরিত্যক্ত কবরকে মাজার বলে ঘোষণার মাধ্যমে সে ধর্মব্যবসা শুরু করে। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিজের স্বার্থসিদ্ধি। এ কারণে যে-ই তার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, তার প্রতিই সে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে।

উদ্দীপকের চেয়ারম্যান ও তার লোকজন উপন্যাসের মজিদের মতোই কূটবুদ্ধির অধিকারী। তাই সুযোগমতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার প্রতি আনুগত্যহীনদের প্রতিহত করে। সামান্য দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারকে একঘরে করেছে সে। নির্মমতা দেখিয়ে অবাধ্য লোকদের শাস্তি দেওয়ার এমন নজির আলোচ্য উপন্যাসের মজিদের মধ্যেও লক্ষ করা যায়।

লালসালু উপন্যাস ও উদ্দীপক থেকে বোঝা যায়, এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে বদ্ধপরিকর মাদারীপুর অঞ্চলের চেয়ারম্যান। অন্যদিকে উপন্যাসের মজিদ তার প্রভাব বিস্তার করেছে মহব্বতনগর গ্রামে। তবে দুজনের ঘটনার ক্ষেত্র আলাদা। তাই পালটে যায় পটভূমিও। তাদের লক্ষ্য ছিল, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি ক্ষমতা বিস্তার করা। তাই উদ্দীপক ও উপন্যাস পড়ে বলা যায়, ‘উদ্দীপকের চেয়ারম্যান ও তার লোকজন এবং “লালসালু” উপন্যাসের মজিদ অভিন্ন চেতনার অধিকারী’—মন্তব্যটি যথার্থ।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা