
বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন
∎ কবিতা: মানবধর্ম
মাদার তেরেসা একজন মহীয়সী নারী। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। তাই জাত-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একনিষ্ঠভাবে অসহায় মানুষের সেবা করেছেন শুধু নয়, গভীর মমতা ও অকুণ্ঠ ভালোবাসা নিয়ে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন তিনি। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের স্থান সবার ওপরে।
প্রশ্ন
ক. লালন শাহ কিসের রূপ দেখেননি?
খ. লোকে জাতপাত নিয়ে গৌরব করে কেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘মানবধর্ম’ কবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপক ও “মানবধর্ম” কবিতার মূলসুর এক।’—উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘মানবধর্ম’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক. লালন শাহ জাতের রূপ দেখেননি।
খ. সংকীর্ণ মানসিকতার কারণে লোকে জাতপাত নিয়ে গৌরব করে।
প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে জাতপাত নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ বিদ্যমান। সমাজের উচ্চবিত্তেরা জাত-বংশ নিয়ে গর্ব করে, আস্ফালন করে। সমাজের নিচুতলার প্রান্তিক মানুষ এদের দ্বারা নিগৃহীত। বস্তুত উচ্চবিত্তেরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে। আর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দেওয়ার জন্যই তারা জাতপাত নিয়ে গর্ব করে।
গ. মানবতাকে আদর্শ হিসেবে ভাবার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘মানবধর্ম’ কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘মানবধর্ম’ কবিতায় কবি জাত-ধর্মের বিভেদের ঊর্ধ্বে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। কবি মনে করেন, সম্প্রদায়গত পরিচয়ের চেয়ে মানুষ পরিচয়ই শ্রেষ্ঠ। তাই জাত-ধর্ম নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি করা মোটেই উচিত নয়। এটাই ‘মানবধর্ম’ কবিতার মূলসুর।
উদ্দীপকে মহান মানবসেবী মাদার তেরেসার কথা উঠে এসেছে। মানবসেবাকেই তিনি জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। বস্তুত মানুষকে ভালোবাসতে পেরেছিলেন বলেই মানবতাকে তিনি সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছিলেন। একইভাবে ‘মানবধর্ম’ কবিতায়ও কবি লালন শাহ মানবতার জয়গান গেয়েছেন। মানবতাবাদী হওয়ার কারণে তিনি জাত-ধর্মের বিভাজনে বিশ্বাস করতেন না। তাঁর কাছে দেশ-কাল-পাত্র ও ধর্মের চেয়ে মানবধর্মই সর্বশ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপকে মানবতাকেই আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্য প্রতীয়মান হয়।
ঘ. ধর্ম ও জাতিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দেওয়ার দিক থেকে উদ্দীপক ও ‘মানবধর্ম’ কবিতায় একই সুর ধ্বনিত হয়েছে।
মানবধর্ম তথা মনুষ্যত্ববোধেই মানুষের প্রকৃত পরিচয় নিহিত। একজন মানুষ যখন মানবতাবোধের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তখন সেটিই হয় তার শ্রেষ্ঠ পরিচয়। ‘মানবধর্ম’ কবিতায় কবি লালন শাহ এ কথাটিই বোঝাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকটিতে মাদার তেরেসার মানবপ্রেমের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। আর তাই ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গরিব-দুঃখী মানুষের সেবায় তিনি নিজের সমগ্র জীবন ব্যয় করেছেন। মানুষকে ভালোবেসে মানবসেবাকেই গ্রহণ করেছিলেন তিনি। আলোচ্য কবিতার কবিও মানবতাবাদেই আস্থাশীল।
‘মানবধর্ম’ কবিতায় মানবতাবাদে বিশ্বাসী কবি মনে করেন, পাত্রভেদে জলকে ভিন্ন ভিন্ন নামে আখ্যায়িত করলেও তা যেমন জলই থাকে, তেমনই জাতি বা ধর্ম পরিচয় মানুষের মানবিক সত্তাকে পৃথক করতে পারে না। আর তাই ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের নিরিখে মানুষে মানুষে বিভেদ করা উচিত নয়। একইভাবে উদ্দীপকের মাদার তেরেসা একজন মানবসেবী। জাতি-ধর্মের বিভেদের ঊর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দিয়েছেন বলেই তিনি মানবকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। অর্থাৎ এই কবিতা ও উদ্দীপকে ধর্ম ও জাতিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে মানবতার স্থান। সে বিবেচনায় প্রশ্নের মন্তব্যটি যথাযথ।
মাহফুজা হোসনে আরা, প্রভাষক
ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, তেজগাঁও, ঢাকা