মুঠোফোনে সেলফি তুলে বিজয়সূচক চিহ্ন দেখিয়ে আনন্দ-উল্লাসে এসএসসির শিক্ষার্থীরা। সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বগুড়া রোড, বরিশাল
মুঠোফোনে সেলফি তুলে বিজয়সূচক চিহ্ন দেখিয়ে আনন্দ-উল্লাসে এসএসসির শিক্ষার্থীরা। সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বগুড়া রোড, বরিশাল

৯টি সাধারণ বোর্ড: বিজ্ঞানে পাস বেশি , অকৃতকার্য মানবিকে

এসএসসির ফল সকাল ১০টায়, ফলাফল উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) ফলাফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলাফল উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।পরীক্ষার্থীরা এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। পাশাপাশি সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল দেখার পদ্ধতি

শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।

এসএমএস পদ্ধতি

এ ছাড়া এসএসসির ফলাফল জানা যাবে এসএমএসের মাধ্যমে। মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখার পদ্ধতিতে ১৬২২২ (16222) নম্বরের পাশাপাশি নতুন আরেকটি নম্বর ১৬১৪০ (16140) যুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল নম্বর থেকে 16140 অথবা 16222 নম্বরে এসএমএস (SMS) পাঠিয়ে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

সে ক্ষেত্রে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে ইংরেজিতে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর দিতে হবে। এরপর স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে 16140 নম্বরে পাঠাতে হবে। (SSC Dha 123456 2026 Send to 16140)। ফিরতি মেসেজে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

মাদ্রাসার ফল যেভাবে

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আগে প্রিরেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রিরেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি হলো Dakhil<Board Name [First 3 Latter]<Roll<Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ: বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের জন্য: Dakhil MAD 123456 2026 লিখে পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই প্রিরেজিস্ট্রেশন করা পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।

কারিগরির ফল যেভাবে

এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে SSC Board name (first 3 Letters) Roll Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ: SSC TEC 123456 2026 লিখে পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।

পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করতে পারবে। শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট দেখার পদ্ধতি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট পেতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) এন্ট্রি করতে হবে। তাহলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে।

তিন সপ্তাহ পর প্রকাশিত হচ্ছে এবারের ফলাফল

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে। সাধারণত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে গত ২০ জুলাই ফলাফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এবার ফলাফল প্রকাশ করছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

এসএসসির ফল প্রকাশ: ১১ বোর্ডে পাস ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬, পাসের হার ও জিপিএ–৫ কমেছে

এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।

২০২৬ সালে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ পরীক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (১১টি শিক্ষা বোর্ড) গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ পরীক্ষার্থী।

এর আগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে। সকালে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বোর্ড জিপিএ–৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ পরীক্ষার্থী। এসএসসির ফল প্রকাশ: ১১ বোর্ডে পাস ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ পরীক্ষার্থী

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মিষ্টির দোকানে ভিড় করছেন। কবি নজরুল ইসলাম সড়ক এলাকা, বগুড়া, ১০ আগস্ট ২০২৬
মোবাইলে এসএসসির ফলাফল দেখার চেষ্টা করছে শিক্ষার্থীরা। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২৬

কারিগরি বোর্ডে পাস ৫৮.২০%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৯৫১

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ পরীক্ষার্থী।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার কমেছে ৩.৯৯ শতাংশ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সব বোর্ডের পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৪। পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে উত্তীর্ণ মোট ছাত্রের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। ছাত্রের চেয়ে ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ–৫ পেয়েছে।

২০২৫ সালে জিপিএ ৫ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। ২০২৬ সালে জিপিএ–৫–এর সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ৯, জিপিএ–৫ কমেছে ১৯ হাজার ৯। মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৩০৩টি। মোট কেন্দ্র বেড়েছে ২০১টি।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ৩১২, এবার বেড়েছে ১৭৮টি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

২০২৫ সালে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। এবার শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৭৮টি।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর করেন।

এসএসসির ফলাফলের পর ছেলেকে জড়িয়ে ধরেছেন মা। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২৬

এসএসসিতে শতভাগ পাস ৬৬৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে এবার দেশের ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যত পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, সবাই পাস করেছে।

অন্যদিকে দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সবাই ফেল করেছে।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তাদের মধ্যে শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান ৬৬৯টি এবং শতভাগ ফেল করেছে ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের উল্লাস। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষার্থীদের উল্লাস।মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২৬

গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে শতভাগ পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪ এবং শতভাগ ফেলের প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। সে হিসাবে এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান কমেছে এবং শতভাগ ফেল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।

একাদশে ভর্তি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষার্থী পছন্দক্রম অনুযায়ী: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম অনুযায়ী।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কথা জানান।

এসএসসির ফলাফল প্রকাশের পরে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস।

পাসের হার ও জিপিএ–৫–এ শীর্ষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দেশে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। সকালে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে—

*ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৩২৫৩ জন

*রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩.৬৭%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৬১১৩ জন

*কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫.৪২%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৯৮১৪ জন

*যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬.২৭%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ১১৪৭৮ জন

*চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯.৪৮%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৯৩৯৮ জন

*বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০.৩৫%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ২৭৭৮ জন

*সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮.৩৩%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৮৩৬ জন

*দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮.০৫%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৩৬৩৯ জন

*ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭.৩৯%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৫৭০০ জন।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

এবার উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষা বা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষা বা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এত দিন ফলাফল প্রত্যাশিত না হলে পুনর্নিরীক্ষণ করা হতো, যেখানে কেবল উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল বা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর কোনো ভুল ছিল নাকি সেটা দেখা হতো। নতুন করে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হতো না।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে বাসসের খবরে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোনো পরীক্ষার্থী যদি ন্যায্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে কিংবা নম্বর প্রদানে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে, তবে রিভিউ কমিটির মাধ্যমে তার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।’

শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিগগিরই পদক্ষেপ, ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ফল পুনর্নিরীক্ষণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হতো। কিন্তু এবার আমরা আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর খাতা যথাযথভাবে পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছি। যদি কোনো শিক্ষক মূল্যায়নকালে যথাযথ নম্বর না দিয়ে থাকেন বা অসাবধানতাবশত ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে অভিজ্ঞ রিভিউ কমিটির সম্মুখে সেই খাতা পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রিভিউ করা হবে। পরীক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে যখন আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম এবং কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল নির্মূল করেছিলাম, তখনও প্রাথমিক অবস্থায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ধারাবাহিক ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে সেই সংখ্যা আমরা সফলভাবে কমিয়ে এনেছিলাম এবং সামগ্রিক পাসের হার ২৮ শতাংশ থেকে ৭৭ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে মাত্র ফল প্রকাশ হলো। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আমরা খুব শিগগিরই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করব, আপনাদের সামনে তার ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।’

একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকবে

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে এবার পাসের হার অনেক বেশি কম হওয়ায় অর্ধেকেরও বেশি আসন খালি থাকবে। প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকবে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উপলক্ষে আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি–সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানান ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান।

মুঠোফোনে সেলফি তুলে বিজয়সূচক চিহ্ন দেখিয়ে আনন্দ-উল্লাসে এসএসসির শিক্ষার্থীরা। সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বগুড়া রোড, বরিশাল

৯টি সাধারণ বোর্ড: বিজ্ঞানে বেশি পাস, অকৃতকার্য মানবিকে

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর গ্রুপভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন। পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

আর মানবিক বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন, পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন, পাসের হার ৬৪.২৯%। তথ্যসূত্র: বাসস

কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের আনন্দ। সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বরিশাল, ১০ আগস্ট ২০২৬
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড

দাখিলের ফলে অবনতি: পাসের হার-জিপিএ-৫ কমেছে, বেড়েছে শূন্য পাসের মাদ্রাসা

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৬৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। শুধু পাসের হার নয়, ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি-এমন মাদ্রাসার সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

সোমবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। একই দিনে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়।

এবার ৯ হাজার ১৪১টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ২২৬টি মাদ্রাসা থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল ৮৬টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়েছে ১৪০টি।

দাখিলে পাসের হার ও জিপিএ–৫—দুই সূচকেই খারাপ হওয়ার পাশাপাশি শূন্য পাস করা মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়েছে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

ভোকেশনালে পাসের হার কমেছে

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার এক বছরের ব্যবধানে ১৫ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি কমেছে। এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশে। গত বছর এ হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮১ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে কারিগরি শিক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আজ সোমবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। একই দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়।