
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম অনুযায়ী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কথা জানান।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে এবার দেশের ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল সবাই পাস করেছে।
অন্যদিকে দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সবাই ফেল করেছে।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তাদের মধ্যে শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান ৬৬৯টি এবং শতভাগ ফেল করেছে ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে শতভাগ পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি এবং শতভাগ ফেলের প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। সেই হিসাবে এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান কমেছে এবং শতভাগ ফেল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
২০২৫ সালে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। এবার শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৭৮টি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সব বোর্ডের পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে ছিল ৬৮.০৪। পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে উত্তীর্ণ মোট ছাত্রের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশী ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। ছাত্রের চেয়ে ১১,৪০১ জন বেশী ছাত্রী জিপিএ–৫ পেয়েছে।
২০২৫ সালে জিপিএ ৫ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। ২০২৬ সালে জিপিএ ৫ এর সংখ্যা ১ লাখ ০৬ হাজার ৯ জন, জিপিএ ৫ কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন। মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৩০৩টি । মোট কেন্দ্র বেড়েছে ২০১ টি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থী।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বোর্ড জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৬ হাজার ৭১৬ জন পরীক্ষার্থী।এসএসসির ফল প্রকাশ: ১১ বোর্ডে পাস ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ পরীক্ষার্থী
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। যা গত বছর ছিলো ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।
২০২৬ সালে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (১১টি শিক্ষা বোর্ড) গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী।
এর আগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে। সকালে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রম প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
এ ছাড়া এসএসসির ফল জানা যাবে এসএমএসের মাধ্যমে। মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখার পদ্ধতিতে ১৬২২২ (16222) নম্বরের পাশাপাশি নতুন আরেকটি নম্বর ১৬১৪০ (16140) যুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল নম্বর থেকে 16140 অথবা 16222 নম্বরে এসএমএস (SMS) পাঠিয়ে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
সে ক্ষেত্রে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে ইংরেজিতে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর দিতে হবে। এরপর স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে 16140 নম্বরে পাঠাতে হবে। (SSC Dha 123456 2026 Send to 16140)। ফিরতি মেসেজে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
মাদ্রাসার ফল যেভাবে—
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আগে প্রিরেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রিরেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি হলো Dakhil<Board Name [First 3 Latter]<Roll<Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ: বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের জন্য: Dakhil MAD 123456 2026 লিখে পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই প্রিরেজিস্ট্রেশন করা পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।
কারিগরির ফল যেভাবে—
এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে SSC Board name (first 3 Letters) Roll Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ: SSC TEC 123456 2026 লিখে পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।
পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফলাফল স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করতে পারবে। শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।
প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক রেজাল্ট দেখার পদ্ধতি—
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট পেতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) এন্ট্রি করতে হবে। তাহলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে।
তিন সপ্তাহ পরে প্রকাশ হচ্ছে এবারের ফলাফল—
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে। সাধারণত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। সে হিসেবে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এবার ফল প্রকাশ করছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী—
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) ফলাফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলাফল উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।পরীক্ষার্থীরা এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। পাশাপাশি সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও ফল প্রকাশ করা হবে।