প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অধ্যায় ৬

প্রাচীন বাংলার সুলতানদের রাজধানী ছিল ‘সোনারগাঁ’

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অধ্যায়–৬

∎ বিস্তৃত প্রশ্ন

প্রশ্ন: উয়ারী-বটেশ্বর কোথায় অবস্থিত? কত খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এর নিদর্শন পাওয়া গেছে? উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার প্রায় ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এখানে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের মৌর্য আমলের পূর্বের নিদর্শন পাওয়া গেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন:

১. উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাচীন নগর সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।

২. এখানে ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০০ মিটার প্রস্থের চারটি দুর্গপ্রাচীর আবিষ্কৃত হয়েছে।

৩. এখানে গণপথসহ ১৬০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা পাওয়া গেছে।

৪. এখানে ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা ও পাথরের হাতিয়ার পাওয়া গেছে।

৫. লৌহ নির্মিত নানা বস্তু ও নানা ধরনের মৃৎপাত্র আবিষ্কৃত হয়েছে।

৬. এ ছাড়া পাথর ও কাচের পুঁতিও পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন: পাহাড়পুর কোথায় অবস্থিত? এটি কত শতকে নির্মিত হয়? পাহাড়পুরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় অবস্থিত। এটি ৭৮১–৮২১ খ্রিষ্টাব্দে পাল রাজা ধর্মপালের শাসনামলে নির্মিত হয়।

পাহাড়পুরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন:

১. পাহাড়পুরে প্রাচীন বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

২. এখানে টেরাকোটা, পোড়ামাটির ফলকচিত্র ও তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।

৩. ব্রোঞ্জের তৈরি বুদ্ধের আবক্ষ অংশ ও বিভিন্ন লিপিসহ প্রস্তরখণ্ড পাওয়া গেছে।

৪. এখানে মুদ্রা, চুনাপাথরের মূর্তি ও ধাতবমূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে।

৫. এ ছাড়া মৃৎপাত্রের টুকরা, অলংকৃত ইট, জীবজন্তুর মূর্তি ও টেরাকোটা পাওয়া গেছে।

৬. মন্দিরের চতুর্দিকে বেষ্টন করে ৬৩টি পাথরের মূর্তি রয়েছে।

প্রশ্ন: ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণে তোমার করণীয় কী?

উত্তর: ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণে করণীয়:

১. ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শনের গুরুত্ব সম্পর্কে নিজে জানব এবং অন্যদের সচেতন করব।

২. ঐতিহাসিক স্থানকে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে সম্মান করব।

৩. এসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলব না এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখব।

৪. ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শনের কোনো ধরনের ক্ষতি বা বিকৃতি করব না।

৫. প্রত্ননিদর্শন চুরি, ভাঙচুর বা পাচার রোধে সবাইকে সচেতন করব।

৬. ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরব।

৭. পর্যটন স্থানে শৃঙ্খলা মেনে চলব এবং অন্যদেরও তা মেনে চলতে উৎসাহিত করব।

৮. আমাদের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি, স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করব।

প্রশ্ন: ময়নামতি কে ছিলেন? কত শতকে ও কোথায় ময়নামতি অবস্থিত? ময়নামতির উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: ময়নামতি অষ্টম শতকের রাজা মানিকচন্দ্রের স্ত্রী ছিলেন। তাঁর কাহিনির সঙ্গে ময়নামতি নামটি জড়িত।

ময়নামতি অষ্টম শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে কুমিল্লা শহরের কাছে অবস্থিত।

 ময়নামতির উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার, আনন্দ বিহার ও ভোজ বিহার অন্যতম। এখানে তাম্রশাসন, স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, পোড়ামাটির শিল ও সিলিং, বহুসংখ্যক পাথর, ব্রোঞ্জ ও পোড়ামাটির ভাস্কর্য পাওয়া গেছে। উল্লেখযোগ্য নিদর্শনের মধ্যে ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শতকের বিরাটাকার প্রস্তর বুদ্ধমূর্তি ও খাদ্যদ্রব্যের স্বর্ণমুদ্রা রয়েছে।

প্রশ্ন: মহাস্থানগড় কোথায় অবস্থিত? কত শতক থেকে এটি গড়ে উঠেছে? মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: মহাস্থানগড় বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। এটি খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে গড়ে উঠেছে।

মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। মৌর্য আমলে এই স্থান ‘পুণ্ড্রনগর’ নামে পরিচিত ছিল। এখানে বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা ও খোদার পাথর ভিটা প্রভৃতি প্রত্নস্থল আবিষ্কৃত হয়েছে। এ ছাড়া পোড়ামাটির ফলক, ভাস্কর্য, স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা, প্রস্তরের পুঁতি ও কাচের পুঁতি পাওয়া গেছে। এখানে প্রায় ৮ মিটার উঁচু প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত দুর্গের ধ্বংসাবশেষও রয়েছে।

প্রশ্ন: পানামনগর কোথায় অবস্থিত? পানামনগর কীভাবে গড়ে ওঠে? পানামনগরের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো

উত্তর: পানামনগর সোনারগাঁয়ে অবস্থিত। এটি ঢাকার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত।

সোনারগাঁ প্রাচীন বাংলার মুসলমান সুলতানদের রাজধানী ছিল। ঔপনিবেশিক আমলে সোনারগাঁ সুতি বস্ত্রের ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং এই সূত্রে গড়ে ওঠে নতুন শহর পানামনগর। উনিশ শতকে হিন্দু বণিকেরা সুতা বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পানামনগরকে আবাসস্থল হিসেবে বেছে নেন।

পানামনগর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত শহর। শহরটি গড়ে উঠেছে প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে, যেখানে ৫২টি বাড়ি রয়েছে—৩১টি উত্তর পাশে ও ২১টি দক্ষিণ পাশে। পানামনগর চারদিকে কৃত্রিম খাল বা পরিখা দ্বারা সুরক্ষিত এবং বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।

  • রাবেয়া সুলতানা, িশক্ষক
    বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, ঢাকা