বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: বিস্তৃত উত্তর–প্রশ্ন
প্রশ্ন: জাতিসংঘ কী? এটি গঠিত হয়েছে কেন? জাতিসংঘের চারটি উন্নয়নমূলক সংস্থার নাম লেখো।
উত্তর: জাতিসংঘ হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক সংগঠন। জাতিসংঘ গঠিত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। জাতিসংঘের উন্নয়নমূলক সংস্থা হলো—
১. ইউনিসেফ: এর পুরো নাম জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল।
২. বিশ্বব্যাংক: বিশ্বব্যাংক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে সাহায্য দিয়ে থাকে।
৩. ইউএনডিপি: এর মূল কাজ বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে কাজ করা এবং জাতিসংঘের কাজগুলোর সমন্বয় সাধন করা।
৪. ইউনেসকো: এটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা।
প্রশ্ন: সার্ক–এর পূর্ণরূপ কী? সার্ক কত সালে গঠিত হয়? সার্ক গঠনের চারটি উদ্দেশ্য লেখো।
উত্তর: সার্ক-এর পূর্ণরূপ হলো দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা।
সার্ক ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
সার্ক গঠনের চারটি উদ্দেশ্য হলো —
১. সদস্যদেশগুলোর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার দ্রুত উন্নয়ন করা।
২. দেশগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি ও পরস্পর মিলেমিশে চলা।
৩. সদস্যদেশগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা ও ভৌগোলিক সীমা মেনে চলা।
৪. এক রাষ্ট্র কর্তৃক অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।
প্রশ্ন: ইউনেসকো কী? এর উদ্দেশ্য কী? বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষায় ইউনেসকোর অবদান সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখো।
উত্তর: ইউনেসকো জাতিসংঘের একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা।
ইউনেসকোর প্রধান উদ্দেশ্য সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক উন্নয়ন। বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষায় ইউনেসকোর অবদান চারটি বাক্যে নিচে উল্লেখ করা হলো—
১. ইউনেসকোর উদ্যোগে আমাদের ভাষাশহিদ দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে’র মর্যাদা লাভ করেছে।
২. আমাদের দেশের নওগাঁর পাহাড়পুর বা সোমপুর বৌদ্ধবিহার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষায়ও ইউনেসকো ভূমিকা রাখছে।
৩. ঐতিহ্য বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ সংরক্ষণে ইউনেসকো সহায়তা করছে।
৪. বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায়ও ইউনেসকো সহযোগিতা করছে।
প্রশ্ন: দুর্যোগ কাকে বলে? দুর্যোগের পূর্বাভাস জানা কেন প্রয়োজন? বন্যা মোকাবিলার চারটি করণীয় লেখো।
উত্তর: দুর্যোগ হলো এক প্রকার প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ক্ষতিকর দুর্ঘটনা, যাতে মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি হয়।
দুর্যোগের ঝঁুকি মোকাবিলার জন্য দুর্যোগের পূর্বাভাস জানা প্রয়োজন।
বন্যা মোকাবিলায় চারটি করণীয় হলো—
১. প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার, খাওয়ার স্যালাইন ও ওষুধ সঙ্গে নেওয়া।
২. নিজের বইখাতা, ব্যবহারের দ্রব্য যাতে বন্যার পানিতে ভিজে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা।
৩. প্রতিবেশীকে দুর্যোগ সম্পর্কে আগেই জানানো প্রয়োজন।
৪. আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য খুব কম মালামালসহ নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া।
রাবেয়া সুলতানা, িশক্ষক
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, ঢাকা