এআই/প্রথম আলো
এআই/প্রথম আলো

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: প্রশ্ন বিতরণ, বেঞ্চে কত শিক্ষার্থী, টয়লেট তল্লাশিসহ কেন্দ্রসচিবদের ৩৫ নির্দেশনা

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ আগস্ট। এ বছরের (২০২৬ সাল) এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় পরীক্ষার সময়সূচি, প্রশ্নপ্রত্র বিতরণ, খাতা সংরক্ষণ, আকার অনুযায়ী কোনো বেঞ্চে কত শিক্ষার্থীর আসন, কোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে, শৌচাগার তল্লাশিসহ ৩৫টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার (১৪ জুন ২০২৬) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর সব কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় যা যা বলা হয়েছে—
১.
নিয়মিত (সেশন ২০২৪-২৫) পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এইচএসসি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
২.
অনিয়মিত/মানোন্নয়ন (সেশন ২০২৩-২৪ ও তৎপূর্বের) পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
৩.
পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় ও বেলা ২টায় পরীক্ষা শুরু হবে।
৪.
পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারিতে বা থানা লকারের ট্রাংকে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের বিবরণী তালিকা ঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই–সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন।
৫.
প্রশ্নপত্রের ২ সেট করে সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) সেট, পরীক্ষার তারিখ অনুসারে সেটভিত্তিক আলাদা করে নিরাপত্তা (সিকিউরিটি) খামে প্যাকেট করতে হবে।
৬.
প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইয়ের দিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তারিখভিত্তিক প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সাজিয়ে নিরাপত্তা খামে গাম লাগিয়ে এবং কার্টন টেপে যথাযথভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে এবং নিরাপত্তা খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড অবশ্যই লিখতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা বলে গণ্য হবে।
৭.
ট্রেজারি থেকে পরীক্ষার দিনগুলোতে ট্রেজারি অফিসারের নিকট থেকে ওই দিনের প্রশ্নপত্রের খাম (সৃজনশীল ২ সেট ও বহুনির্বাচনি ১ সেট) গ্রহণ করতে হবে।
৮.
অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে থানা/ট্রেজারি থেকে ট্যাগ অফিসার  এবং পুলিশ প্রহরাসহ প্রশ্নপত্রের প্যাকেট (সিকিউরিটি খাম) কেন্দ্রে আনতে হবে।
৯.
মোবাইল ফোনে সেট কোডের এসএমএস পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার, পুলিশ অফিসারকে প্রদর্শনের পর সেট কোড নিশ্চিত হয়ে ফয়েল প্যাকেটে অমোচনীয় কলম দিয়ে স্বাক্ষর করার পর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে এবং অন্য সেটের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকবন্দী করতে হবে। অব্যবহৃত সেটের প্রশ্নপত্রের খাম অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সেট কোডের পরিবর্তে অন্য কোনো সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলে বিভাগীয় শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এআই/প্রথম আলো

১০.
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
১১.
প্রতি ২০ পরীক্ষার্থীর জন্য ১ জন কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে দুজন করে দায়িত্ব পালন করবেন।
১২.
৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে দুজন এবং ৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে একজনের আসন ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এর ব্যতিক্রম করা যাবে না।
১৩.
সকাল সাড়ে আটটা থেকে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে এবং পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকক্ষে অবশ্যই প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময়ের পর কোনো পরীক্ষার্থী এলে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতায় রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে বোর্ডে রেজিস্টার খাতাটি জমা দিতে হবে।
১৪.
পরীক্ষা শুরুর পূর্বে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করতে হবে।
১৫.
বোর্ড থেকে সরবরাহ করা নকল প্রতিরোধমূলক পোস্টার পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রবেশপথের দৃশ্যমান স্থানে লাগাতে হবে।
১৬.
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁর কেন্দ্রের আওতাভুক্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রবেশপত্র প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন।
১৭.
পরীক্ষার প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।
১৮.
ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের নিকট সরবরাহ করা যাবে না।
১৯.
শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।
২০. পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র গ্রহণ, পরিবহন ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে প্যাকেট খোলাসহ সব কাজের সঙ্গে ট্যাগ অফিসারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। ট্যাগ অফিসারের যাতায়াত ও সম্মানী কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেন্দ্র ফি থেকে ব্যবস্থা করবেন।

২১.
পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট তারিখ ও বিষয় লিখে দিতে হবে।
২২.
নির্দিষ্ট তারিখে পরীক্ষার সময়সূচি মোতাবেক পরীক্ষা নিতে হবে। উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীক্ষা শাখার স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালা করা অবস্থায় পৌঁছাতে হবে।
২৩.
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনের কাজে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।
২৪.
পুরোনো ও নতুন সিলেবাস অনুসারে ৫০টি করে উত্তরপত্র করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নতুন ও পুরোনো সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না।
২৫.
উত্তরপত্রের প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অতিরিক্ত কিছু লেখা থাকলে তার জন্য কেন্দ্রসচিব দায়ী থাকবেন।
২৬.
প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্যাকেট আলাদা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের লিখিত উত্তরপত্র পৃথকভাবে প্যাকেট করে লেবেল লাগিয়ে ‘বিশেষ পরীক্ষার্থী’ উল্লেখ করে জমা দিতে হবে।
২৭.
পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই প্রবেশপত্র গ্রহণের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।

২৮.
পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিষ্ঠানের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে, তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এবং সময়সূচিতে যেদিন পরীক্ষা নেই, সেদিন নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।
২৯.
পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সে জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।
৩০.
পরীক্ষা শুরুর পরপরই কেন্দ্রের শৌচাগারগুলো তল্লাশি করাতে হবে এবং কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা ফেলে দিতে হবে।
৩১.
পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং প্রত্যবেক্ষক ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অন্য কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।
৩২.
ট্রেজারি/থানা হেফাজত থেকে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারী/ট্যাগ অফিসারের নাম ও মোবাইল নম্বর বোর্ডে পাঠাতে হবে।
৩৩.
সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং ক্যামেরার মডেল, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর, পাসওয়ার্ড ও আইডি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠাতে হবে।
৩৪.
পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত খড়ি ব্যতীত অন্য কোনো ঘড়ি পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।
৩৫.
যেসব কেন্দ্র থেকে রেলওয়ের মাধ্যমে উত্তরপত্র প্রেরণ করা হয়, সেসব কেন্দ্র থেকে অবশ্যই প্রতিদিনের উত্তরপত্র প্রতিদিন রেলযোগে পাঠাতে হবে। যদি রেলযোগে পাঠানো না যায়, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো যাবে।