অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান
অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলা ২য় পত্র (নির্মিতি অংশ): বৈদ্যুতিন চিঠি ও আবেদনপত্র লেখার নিয়ম

বাংলা ২য় পত্র: নির্মিতি অংশ

প্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার্থী, বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় নির্মিতি অংশে দুটি প্রশ্ন থাকবে বৈদ্যুতিন চিঠি/খুদে বার্তা অথবা পত্রলিখন/আবেদনপত্র–এর ওপর। যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। নম্বর থাকবে ১০। আজ এখানে বৈদ্যুতিন চিঠি ও আবেদনপত্র লেখার নিয়মকানুন দেওয়া হলো।

বৈদ্যুতিন চিঠি

# বৈদ্যুতিন চিঠি/খুদে বার্তা অথবা পত্রলিখন/আবেদনপত্র থেকে একটি করে মোট দুটি প্রশ্ন থাকবে, যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে।

তোমরা পরীক্ষায় ইতিপূর্বে ইংরেজি বিষয়ে ই-মেইল লেখা ঠিকমতো শিখেছ। বাংলা বিষয়ে ই-মেইল বা বৈদ্যুতিন চিঠি লেখাটি তোমাদের জন্য নতুন ধরনের। মনে রেখো, ইংরেজি ই-মেইল ও বাংলা বৈদ্যুতিন চিঠির মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই।

ই-মেইলের দুটি প্রধান—

তোমরা জানো, ই-মেইলের দুটি প্রধান ও দুটি অপ্রধান অংশ থাকে। প্রধান অংশ দুটির একটি হচ্ছে ইউজার বা ব্যবহারকারীর নাম (user name) এবং অন্যটি হচ্ছে ই-মেইল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের নাম।

যেমন–জিমেইল (Gmail), ইয়াহু (Yahoo), হটমেইল (Hotmail)।

ই-মেইলের দুটি অপ্রধান—

অপ্রধান অংশ দুটি হচ্ছে @ চিহ্ন এবং ‘com’ এ দুটি অংশের মধ্যে ‘@’ চিহ্নটি ব্যবহারকারীর নামের পরে এবং ‘com’ সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের নামের শেষে লিখতে হয়, যেমন humayun@gmail.com।

বৈদ্যুতিন চিঠি লেখার ভাষা—

বৈদ্যুতিন চিঠি লেখার সময় তোমাকে খেয়াল রাখতে হবে বৈদ্যুতিন চিঠিটির ভাষা হতে হবে—

১. সহজ-সরল, প্রাঞ্জল ও বোধগম্য।

২. যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত হয়।

৩. বাহুল্যবর্জিত হয়।

বৈদ্যুতিন চিঠি লেখার সতর্কতা—

বৈদ্যুতিন চিঠি লেখার সময় তোমাকে কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে। তা হলো—

১. বিরামচিহ্নের ব্যবহার যথার্থ হয়।

২. বানানের বিশুদ্ধতা থাকে এবং

৩. আবেগের মাত্রাজ্ঞান থাকে।

বৈদ্যুতিন চিঠি লেখার সময় মনে রাখবে—

১. জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বৈদ্যুতিন চিঠি অনেক সময় একাধিক ব্যক্তির কাছে পাঠাতে হয়। সে ক্ষেত্রে CC বা BCCতে তাদের ঠিকানাও লিখতে হয়।

২. চিঠির সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত লেখা বা ছবি সংযুক্ত করতে হলে attach files লেখা অপশনে ক্লিক করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফাইল থেকে তা আপলোড করতে হয়।

৩. এক/দেড় পৃষ্ঠার মধ্যে একটি বৈদ্যুতিন চিঠি চমৎকারভাবে লেখা যায়।

আবেদনপত্র

আবেদনপত্রের প্রশ্নটি বৈদ্যুতিন চিঠির বিকল্প থাকবে। তোমরা জানো, বিভিন্ন বিষয় বা প্রসঙ্গে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন ধরনের আবেদনপত্র লিখতে হয়। আবেদনপত্রের মূল বিষয় হলো, তুমি যে বিষয়ে আবেদন করছ, সেটি তথ্য-উপাত্তের সাহায্যে যুক্তিগ্রাহ্য করে উপস্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ তোমার আবেদনপত্রটি পড়ে কর্তৃপক্ষ যেন সন্তুষ্ট হন এবং তিনি যেন তোমার আবেদনটি গ্রহণ করতে সম্মত হন, এমনভাবে লিখতে হবে।

আবেদনপত্র এক পৃষ্ঠার মধ্যে শেষ করতে হবে বা শুধু বাঁ পৃষ্ঠায় লিখতে হবে, এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। এটা মনে রাখবে।

উত্তরপত্রের যেকোনো পৃষ্ঠায় আবেদনপত্র লেখা যায় এবং পত্রের বক্তব্য যে কয় পৃষ্ঠা ডিমান্ড করে, সে কয় পৃষ্ঠাই লেখা যাবে। বিষয় ও বৈচিত্র্য অনুসারে দুই থেকে আড়াই পৃষ্ঠার মধ্যে একটি সার্থক আবেদনপত্র লেখা যায়।

চাকরির আবেদনপত্র—

অনেক সময় কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে চাকরির আবেদনপত্র লিখতে বলা হয়।

সে ক্ষেত্রে এক পৃষ্ঠার মধ্যে ফরমাল একটি আবেদনপত্র লিখবে। আর পরের পৃষ্ঠাগুলোয় তোমার জীবনবৃত্তান্ত লিখবে। জীবনবৃত্তান্ত লেখার আধুনিক রীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারলে ভালো।

এরপর পেনসিল দিয়ে খাম বা ইনভেলপ এঁকে তার ডান দিকে প্রাপকের ঠিকানা এবং বাঁ দিকে প্রেরকের অর্থাৎ তোমার ঠিকানা লিখবে। মনে রেখো, যেকোনো ধরনের পত্রের অপরিহার্য অংশ হচ্ছে ইনভেলপ বা খাম। তাই তোমাকে খাম এঁকে দিতে হবে।

বৈদ্যুতিন চিঠি ও আবেদনপত্র—এই দুটি প্রশ্নের মধ্যে তোমার পছন্দের বিষয়টা উত্তর করবে। এতে উত্তর লেখার মান ভালো হবে।

  • মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, সহকারী অধ্যাপক
    সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা