প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫। বাংলা

বিস্তৃত উত্তর–প্রশ্ন বুঝে লিখবে

বাংলা: বিস্তৃত উত্তর–প্রশ্ন

প্রশ্ন: লোভী কাঠুরিয়া কেন হায় হায় করতে লাগল?

উত্তর: সৎ কাঠুরিয়ার গল্প শুনে লোভী কাঠুরিয়া একদিন নদীর ধারে কাঠ কাটতে যায়। ইচ্ছা করে সে তার কুড়ালটি পানিতে ফেলে দিয়ে কান্নার অভিনয় করে। তখন জলপরী এসে তাকে একটি সোনার কুড়াল দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে, এটা তার কুড়াল কি না। লোভী কাঠুরিয়া সেটাকে নিজের কুড়াল বলে দাবি করে। তার লোভ দেখে জলপরী ডুব দিয়ে আর ওঠে না। তখন লোভী কাঠুরিয়া হায় হায় করতে লাগে।

প্রশ্ন: কীভাবে রাজার প্রাণ রক্ষা পেল? বর্ণনা করো।

উত্তর: একজন অচেনা লোকের মন্ত্রের কারণেই রাজার প্রাণ রক্ষা পেল। অচেনা লোকটার বুদ্ধিতে সুচ রাজা ও রানি কাঞ্চনমালার কষ্ট দূর হয়। অচেনা লোকটির মন্ত্রবলে রাজার শরীরের 

সব কটি সুচ নকল রানির চোখেমুখে, সারা শরীরে গেঁথে যায়। নকল রানি মারা যায়। আর রাজা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

প্রশ্ন: রাজপুত্র ও রাখালের বন্ধুত্ব সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখো।

উত্তর: রাজপুত্র ও রাখালের বন্ধুত্ব সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য—ক. রাজপুত্র ও রাখাল ছেলের মধ্যে খুব ভাব। খ. তারা দুই বন্ধু পরস্পরকে খুব ভালোবাসে। গ. রাখাল রাজপুত্রকে বাঁশি বাজিয়ে শোনায়। ঘ. বাঁশির সুর শুনে রাজপুত্রের মন খুশিতে ঝলমলিয়ে ওঠে। ঙ. রাজপুত্র বড় হয়ে রাজা হলে রাখালকে মন্ত্রী বানাবে বলে প্রতিজ্ঞা করে।

প্রশ্ন: ঘাসফুল আমাদের কাছে কী মিনতি করছে এবং কেন করছে?

উত্তর: আমরা যেন ঘাসফুলদের ছিঁড়ে বা পায়ের নিচে পিষে ফেলে কোনো কষ্ট না দিই, ঘাসফুল সেই মিনতি করছে। ঘাসফুল ঘাসের ছোট ছোট ফুল। তারা খুব নরম। কিন্তু মানুষ খুব নিষ্ঠুর, তারা ফুল ছিঁড়ে ও পা দিয়ে পিষে দেয়। তাই আমরা ফুল ছিঁড়ে, পায়ের নিচে পিষে যেন তাদের কষ্ট না দিই, সে জন্য মিনতি করছে।

প্রশ্ন: ২০২৪ সালে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কেন আন্দোলন করেছিলেন?

উত্তর: অধিকার আদায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির লড়াই–সংগ্রামের ইতিহাস সুপ্রাচীন। বহু ত্যাগের পরও এ দেশের মানুষ পূর্ণ অধিকার পায় না, তাদের সঙ্গে বৈষম্য কমে না। তাই বৈষম্য নিরসনের কথা বলতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা ২০২৪ সালে রাস্তায় নামেন। তখন পুলিশের গুলিতে রংপুরে শহীদ হন আবু সাঈদ এবং উত্তরায় শহীদ হন মীর মুগ্ধ। এর ফলে আন্দোলন সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। নিহত হন আরও অনেকে।

প্রশ্ন: ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধর অবদান বর্ণনা করো।

উত্তর: ২০২৪ সালের আন্দোলনে শহীদ হওয়া আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধর অবদান চিরস্মরণীয়। আবু সাঈদ ছিলেন রংপুরের ছাত্রনেতা। তিনি পুলিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়ান। পুলিশ তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। তাঁর মৃত্যুতে উত্তাল হয় দেশবাসী। আর ঢাকার উত্তরায় মীর মুগ্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পানি বিতরণ করছিলেন। পানি বিতরণের এক পর্যায়ে অতর্কিত গুলিতে তিনি শহীদ হন।

প্রশ্ন: ‘প্রাণের চেয়েও মান বড়’—শিক্ষক এ কথা বললেন কেন?

উত্তর: শিক্ষক নিজের পা ধুয়ে পরিষ্কার করছিলেন। আর বাদশাপুত্র তাঁর পায়ে পানি ঢালছিল। বাদশা এটা দেখে ফেলেন। শিক্ষক প্রথমে ভাবলেন, তিনি অপরাধ করেছেন। কিন্তু তিনি ভাবলেন, তিনি বাদশাহর সামনে সত্যি কথাটাই বলবেন। তাতে যদি বাদশাহ তাঁর প্রাণ নিয়েও নেন, কোনো দুঃখ নেই। প্রাণের চেয়ে সম্মানটাই বড় কথা। কারণ, জীবনে সম্মান বজায় না থাকলে সে জীবনের কোনো মূল্য নেই।

প্রশ্ন: বিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান লেখো।

উত্তর: বিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসুর অবদানগুলো নিচে দেওয়া হলো—১. উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক মিল আছে, এটা গবেষণা করে দেখিয়েছেন। ২. অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গসৃষ্টি আবিষ্কার করেছেন। 

৩. তার ছাড়া তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণে সফলতা অর্জন করেন। ৪. তিনিই প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি পলাতক তুফান লিখেছেন। ৫. তিনি ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। 

৬. তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’।

প্রশ্ন: ‘কুমড়ো ও পাখির কথা’ থেকে তুমি যা শিখেছ, পাঁচটি বাক্যে লেখো?

উত্তর: ‘কুমড়ো ও পাখির কথা’ থেকে আমি শিখেছি—১. অন্যের উপকার করতে হবে। ২. উপকারীর উপকার স্বীকার করতে হবে। ৩. প্রকৃতির প্রতিটি অংশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল, তাই প্রত্যেককে মর্যাদা দিতে হবে। ৪. বন উজাড় না করে বন সংরক্ষণ করতে হবে। ৫. প্রকৃতিতে তার নিজস্ব নিয়মে চলতে দিতে হবে।

 প্রশ্ন: ‘তুমি আমাদের উপকারী বন্ধু’—উক্তিটি কে, কাকে এবং কেন বলেছে?

উত্তর: ‘তুমি আমাদের উপকারী বন্ধু’—উক্তিটি কুমড়ো দোয়েল পাখিকে বলেছে। পোকামাকড় ফুল ও ফলের ক্ষতি করে। আর দোয়েল পাখি সেই পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। পরোক্ষভাবে এই কাজ করে দোয়েল ফসলের উপকার করে। দোয়েল পাখির প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কুমড়ো তাই বলেছে তুমি আমাদের উপকারী বন্ধু। 

প্রশ্ন: ‘পল্লীর সেই সুরে ভরে যায় মন’—লাইনটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ‘পল্লীর সেই সুরে ভরে যায় মন’—লাইনটি সুকুমার বড়ুয়া রচিত ‘শব্দদূষণ’ কবিতা থেকে নেওয়া। এই লাইন পল্লীর শান্ত প্রকৃতির ও গ্রামীণ আনন্দময় জীবনের অনুভূতি প্রকাশ করে। পল্লীর মানুষের ঘুম ভাঙে মোরগের ডাক শুনে। পল্লী প্রকৃতিতে দোয়েল–চড়ুই মিলে কিচিরমিচির করে। ঘুঘু আর টুনটুনি গান গায়। এভাবে বিভিন্ন পশুপাখি ডাকা সুরে মানুষের মন ভরে যায়।