প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অধ্যায় ৬

ময়নামতি কুমিল্লা শহরে অবস্থিত

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অধ্যায়–৬

∎ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন: মহাস্থানগড় কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: মহাস্থানগড় বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এটি করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। প্রাচীনকালে এই স্থান ‘পুণ্ড্রনগর’ নামে পরিচিত ছিল। এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।

প্রশ্ন: মহাস্থানগড়ে কী কী প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে?

উত্তর: মহাস্থানগড়ে বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা ও খোদার পাথর ভিটা পাওয়া গেছে। এখানে পোড়ামাটির ফলক, ভাস্কর্য ও স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে। এ ছাড়া রৌপ্যমুদ্রা, প্রস্তরের পুঁতি ও কাচের পুঁতি পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন মহাস্থানগড়ের প্রাচীন ইতিহাসের পরিচয় বহন করে।

প্রশ্ন: মহাস্থানগড়ের দুর্গ সম্পর্কে কী জানা যায়?

উত্তর: মহাস্থানগড়ের প্রাচীন নগরী প্রায় ৮ মিটার উঁচু প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত ছিল। দুর্গের ধ্বংসাবশেষ এখনো সেখানে দেখা যায়। নগরীটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ১৪০০ মিটার বিস্তৃত। এর বিভিন্ন স্থানে প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন: উয়ারী-বটেশ্বর কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে

অবস্থিত। এটি একটি প্রাচীন প্রত্নস্থল। এখানে প্রাচীন নগর সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর একটি।

প্রশ্ন: উয়ারী-বটেশ্বরে কী কী প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে?

উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বরে ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা ও পাথরের হাতিয়ার পাওয়া গেছে। এখানে লৌহ নির্মিত নানা বস্তু ও নানা ধরনের মৃৎপাত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এ ছাড়া পাথর ও কাচের পুঁতিও পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন প্রাচীন নগর সভ্যতার পরিচয় বহন করে।

প্রশ্ন: উয়ারী-বটেশ্বরের দুর্গপ্রাচীর ও রাস্তা সম্পর্কে কী জানা যায়?

উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বরে ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০০ মিটার প্রস্থের চারটি দুর্গপ্রাচীর আবিষ্কৃত হয়েছে। এখানে গণপথসহ ১৬০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন থেকে প্রাচীন নগর পরিকল্পনার পরিচয় পাওয়া যায়। উয়ারী-বটেশ্বরের নগরজীবন যে সুসংগঠিত ছিল, এসব নিদর্শন

তার প্রমাণ।

প্রশ্ন: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার কখন ও কার শাসনামলে নির্মিত হয়?

উত্তর: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ৭৮১–৮২১ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয়। পাল রাজা ধর্মপালের শাসনামলে এটি নির্মিত হয়েছিল। এটি প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ ধর্ম ও স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। বিহারটি প্রাচীনকালে শিক্ষা ও ধর্মচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

প্রশ্ন: পাহাড়পুর কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় অবস্থিত।

এটি নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রত্নস্থল। এখানে প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। পাহাড়পুর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন।

প্রশ্ন: পাহাড়পুরে কী কী প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে?

উত্তর: পাহাড়পুরে টেরাকোটা ও পোড়ামাটির ফলকচিত্র পাওয়া গেছে। এখানে তাম্রশাসন, ব্রোঞ্জের তৈরি বুদ্ধের আবক্ষ অংশ ও প্রস্তরখণ্ড পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মুদ্রা, চুনাপাথরের মূর্তি, ধাতবমূর্তি ও মৃৎপাত্রের টুকরা পাওয়া গেছে।

এখানে অলংকৃত ইট, জীবজন্তুর মূর্তি ও টেরাকোটাও পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন: ময়নামতি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: ময়নামতি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত। এটি কুমিল্লা শহরের কাছে অবস্থিত।

ময়নামতি অষ্টম শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এখানে প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নানা নিদর্শন পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন: ময়নামতির উল্লেখযোগ্য প্রত্ননিদর্শন কী কী?

উত্তর: ময়নামতির উল্লেখযোগ্য প্রত্ননিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার, আনন্দ বিহার ও ভোজ বিহার অন্যতম। এখানে তাম্রশাসন, স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া পোড়ামাটির ফলক, পাথর, ব্রোঞ্জ ও পোড়ামাটির ভাস্কর্য পাওয়া গেছে।

ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শতকের বিরাটাকার প্রস্তর বুদ্ধমূর্তিও এখানে পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন: ময়নামতিতে কী ধরনের প্রত্নসম্পদ পাওয়া গেছে?

উত্তর: ময়নামতিতে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান প্রত্নসম্পদ আবিষ্কৃত হয়েছে। এখানে স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা এবং পোড়ামাটির ফলক পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া পোড়ামাটির শিল ও সিলিং, পাথর এবং ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য পাওয়া গেছে। এখানে প্রস্তর বুদ্ধমূর্তি ও খাদ্যদ্রব্যের স্বর্ণমুদ্রাও পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন: পানামনগর কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: পানামনগর সোনারগাঁয়ে অবস্থিত।

এটি ঢাকার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত।

সোনারগাঁ প্রাচীন বাংলার মুসলমান সুলতানদের রাজধানী ছিল। বর্তমানে পানামনগর একটি জনপ্রিয় পর্যটনস্থান।

প্রশ্ন: পানামনগর কীভাবে গড়ে ওঠে?

উত্তর: ঔপনিবেশিক আমলে সোনারগাঁ সুতি বস্ত্রের ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়।

এই সময়ে গড়ে ওঠে নতুন শহর পানামনগর।

উনিশ শতকে হিন্দু বণিকেরা সুতা বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পানামনগরকে আবাসস্থল হিসেবে বেছে নেন। এভাবেই পানামনগর একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক শহর হিসেবে গড়ে ওঠে।

প্রশ্ন: পানামনগরের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: পানামনগর প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে। শহরটিতে মোট ৫২টি বাড়ি রয়েছে। পানামনগর চারদিকে কৃত্রিম খাল বা পরিখা দ্বারা সুরক্ষিত। বর্তমানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন ও জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।

  • রাবেয়া সুলতানা, িশক্ষক
    বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, ঢাকা