বাংলা ২য় পত্র: অনুচ্ছেদ লেখো
বইমেলা
বইমেলা হলো বইকে ঘিরে আনন্দ, জ্ঞান ও সংস্কৃতির একটি বড় উৎসব। এখানে মানুষ আনন্দের সঙ্গে নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন করে এবং বই পড়ার প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলে। এটি লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা। বইমেলায় সৃজনশীল চিন্তা ও মননের আদান–প্রদান ঘটে। এখানে দেশ–বিদেশের নানা ধরনের নতুন ও পুরোনো বই কেনাবেচা হয়, ফলে পাঠকেরা সহজেই নিজের রুচি ও প্রয়োজন অনুযায়ী বই সংগ্রহের সুযোগ পান। বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক প্রকাশনাজগতের গুরুত্বপূর্ণ মিলন ঘটে। বাংলাদেশে বইমেলার সূচনা হয় ১৯৭২ সালে মুক্তধারার প্রকাশক চিত্তরঞ্জন সাহার উদ্যোগে। পরে ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলা একাডেমি নিয়মিতভাবে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ আয়োজন করে আসছে। এই মেলা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে এবং জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে তুলে ধরার চেষ্টা করে। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় শুধু বই কেনাবেচাই নয়, সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গবেষণামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সাল থেকে মেলার পরিসর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিবছর দেশের সরকারপ্রধান আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলার উদ্বোধন করেন। বইমেলা মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রেলগাড়ি
রেলগাড়ি মানুষের যাতায়াতের একটি সহজ, জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। সমান্তরাল ধাতব পাতের ওপর নির্দিষ্ট পথে যে গাড়ি চলে, তাকে রেলগাড়ি বলা হয়। রেলগাড়িতে একটি ইঞ্জিনের সঙ্গে অনেকগুলো কামরা বা বগি সারিবদ্ধভাবে যুক্ত থাকে। বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের ফলে রেলগাড়ির জন্ম হয়। বর্তমানে আধুনিক ডিজেল ও বিদ্যুৎ–চালিত ইঞ্জিন ব্যবহারের কারণে রেলগাড়ি আরও দ্রুত ও আরামদায়ক হয়েছে। আজকের বিশ্বে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে রেলগাড়ি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জর্জ স্টিফেনসনের প্রচেষ্টায় ইংল্যান্ডে ১৮২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বের প্রথম রেলগাড়ি চলাচল শুরু হয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে রেলগাড়ির যাত্রা শুরু হয়। ১৮৬২ সালে দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত ৫৩ দশমিক ১১ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়, যা বাংলাদেশের প্রথম রেলপথ। বাংলাদেশে রেলগাড়ি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে, যা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে মেট্রোরেল চালু হয়েছে, যা রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখছে। রেলপথ তিন ধরনের—ব্রডগেজ, মিটারগেজ ও ন্যারোগেজ। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ রেলপথ চালু আছে। দেশের অধিকাংশ জেলায় রেলগাড়ি চলাচল করে এবং ভারতের সঙ্গেও রেল যোগাযোগ রয়েছে।