বাংলা ২য় পত্র: ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি (পদ)
প্রশ্ন: নাম বিশেষণ কাকে বলে। নাম বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ উল্লেখ করো।
উত্তর: যে বিশেষণ বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যেমন: সে মেধাবী ছাত্র, নীল আকাশের নিচে পথ চলেছি একা।
নাম বিশেষণকে নানা শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যেমন:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, ঠান্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, পাঁচ দিন।
ঙ. ক্রমবাচক: প্রথম কন্যা, একাদশ শ্রেণি।
চ. পরিমাণবাচক: ৫ শতাংশ জমি, ১ কেজি চাল।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: পাথুরে মূর্তি, বেলে মাটি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই মেয়ে, ১৬ ডিসেম্বর।
প্রশ্ন: ব্যুত্পত্তি অনুযায়ী বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।
উত্তর: ব্যুত্পত্তি তথা শব্দ গঠনের দিক থেকে বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে বিশেষণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: ক. মৌলিক বিশেষণ,
খ. সাধিত বিশেষণ।
মৌলিক বিশেষণ: যে বিশেষণকে ব্যাকরণগতভাবে আর কোনো ক্ষুদ্র অংশে রূপান্তর বা বিভক্ত করা যায় না, তাকে সিদ্ধ বা মৌলিক বিশেষণ বলে। যেমন: ভালো, মন্দ, লাল, নীল।
সাধিত বিশেষণ: যে বিশেষণকে ব্যাকরণগতভাবে আরও এক বা একাধিক ক্ষুদ্রতর অংশে রূপান্তর বা বিভক্ত করা যায়, তাকে সাধিত বিশেষণ বলে। যেমন: চলন্ত গাড়ি, মেঘলা আকাশ। সাধিত বিশেষণ নানাভাবে গঠিত হতে পারে।
ক. ক্রিয়াজাত বিশেষণ: ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয়যোগে যে বিশেষণ হয়, তাকে ক্রিয়াজাত বিশেষণ বলে। যেমন: চলন্ত গাড়ি, ফুটন্ত পানি।
খ. বিশেষ্যজাত বিশেষণ: বিশেষ্যের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে এ ধরনের বিশেষণ গঠিত হয়ে থাকে। যেমন: রোদেলা দুপুর, দেশীয় সম্পদ।
গ. সর্বনামজাত বিশেষণ: কিছু সর্বনাম প্রত্যয় যোগ হয়ে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনামজাত বিশেষণ বলে।
যেমন: কবেকার কথা, কোথাকার লোক।
ঘ. ধনাত্মক শব্দজাত বিশেষণ: যে ধনাত্মক শব্দ কখনো এককভাবে, কখনোবা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে ধনাত্মক শব্দজাত বিশেষণ বলে। যেমন: কনকনে শীত, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে আম।
ঙ. সমাসবদ্ধ বিশেষণ: যে সমাসবদ্ধ শব্দ বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে সমাসবদ্ধ বিশেষণ বলে। যেমন: বে-কার মানুষ, নিয়ম-বিরুদ্ধ কথা, পা-চাটা কুকুর।
চ. উপসর্গযুক্ত বিশেষণ: উপসর্গ বা অদ্য প্রত্যয়যোগে যে বিশেষণ গঠিত হয়, তাকে অদ্য প্রত্যয় বা উপসর্গযুক্ত বিশেষণ বলে। যেমন: নিখুঁত কাজ, সুকঠিন প্রতিজ্ঞা।
প্রশ্ন: ক্রিয়া বলতে কী বোঝো? অর্থ প্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে শব্দশ্রেণি দ্বারা কোনো কিছু করা, থাকা, খাওয়া, যাওয়া প্রভৃতি কাজ করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়া বলে। যেমন শিরিন হাসছে, সোহেল ছবি আঁকছে।
অর্থ প্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া দুই প্রকার। যথা: ক. অস্তিবাচক, খ. নেতিবাচক।
ক. অস্তিবাচক: যে ক্রিয়া অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-বাচক অর্থ প্রকাশ করে, তাকে অস্তিবাচক ক্রিয়া বলে। যেমন শামিমা কাঁদছে।
খ. নেতিবাচক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দ্বারা নেতিবাচক বা না-বোধক অর্থ প্রকাশ করা হয়, তাকে নেতিবাচক বা নো-বোধক ক্রিয়া বলে। যেমন: রবি কলেজে যায়নি।
প্রশ্ন: ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: বেবি গান গায়। সবুজ ভাত খায়।
খ. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের ভাবের পরিসমাপ্তি ঘটে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: প্রভাতে সূর্য উঠলে...। হাসান ভাত খেয়ে...। এখানে বাক্য দুটিতে সম্পূর্ণ মনের ভাব প্রকাশিত হয়নি। বাক্যগুলো সম্পূর্ণ হতে আরও শব্দের প্রয়োজন। যেমন: প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হবে। হাসান ভাত খেয়ে ঘুমাতে যাবে।
প্রশ্ন: ক্রিয়া বিশেষণ কাকে বলে? অর্থ ও অন্বয়গতভাবে ক্রিয়া বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: যে শব্দ বাক্যের ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন: সে দ্রুত দৌড়াতে পারে, ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
অর্থ ও অন্বয়গতভাবে ক্রিয়া বিশেষণকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। যথা: ক. ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনো ক্রিয়া কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হয়, তাকে ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন: মামণি ভয়ে ভয়ে কথা বলছে।
খ. কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলা হয়। যেমন: তিনি সন্ধেবেলা বাড়িতে আসবেন।
গ. স্থানবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: যে ক্রিয়া বিশেষণ ক্রিয়ার স্থানকে বিশেষায়িত করে, তাকে স্থানবাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন: আমি দিনাজপুরে পড়াশোনা করেছি।
ঘ. সংযোজক ক্রিয়া বিশেষণ: দুটি বাক্যের সংযোগের ক্ষেত্রে যে ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়, তাকে সংযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন: কাজে তার মন নেই এবং সে কাজও পারে না।
ঙ. না–বাচক ক্রিয়া বিশেষণ: যে ক্রিয়া বিশেষণ বাক্যকে না–বাচক বৈশিষ্ট্য দেয়, তাকে না–বাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন: তুলির সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়নি।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা