
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: বিস্তৃত উত্তর–প্রশ্ন
প্রিয় পরীক্ষার্থী, ১৫ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হবে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে বিস্তৃত উত্তর–প্রশ্ন থাকবে ৪টি। সব কটির উত্তর দিতে হবে। নম্বর থাকবে প্রতিটি প্রশ্নে ৬ করে মোট ২৪।
প্রশ্ন: শ্রেণিনেতা নির্বাচনের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি কী? শ্রেণিনেতা কোনো কাজের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেবেন? তুমি শ্রেণিনেতা নির্বাচিত হলে কীভাবে বিদ্যালয় পরিবেশের উন্নতি করবে।
উত্তর: শ্রেণিনেতা নির্বাচনের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা।
অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে শ্রেণিনেতা কোনো কাজের সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি শ্রেণিনেতা নির্বাচিত হলে যেভাবে বিদ্যালয়ের পরিবেশের উন্নতি করব, তেমন চারটি কাজ হলো—
১. শ্রেণির শৃঙ্খলা বজায় রাখব।
২. শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখব।
৩. বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করব।
৪. যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সবার মতামত গ্রহণ করব।
প্রশ্ন: দেশপ্রেম কী? দেশপ্রেম প্রয়োজন কেন? একজন দেশপ্রেমিকের চারটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: দেশকে ভালোবাসাই হলো দেশপ্রেম।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য দেশপ্রেম প্রয়োজন।
দেশপ্রেমিকের চারটি বৈশিষ্ট্য হলো—
১. দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা।
২. দেশের সব আইনকানুন মেনে চলা।
৩. দেশের সম্পদ রক্ষায় ভূমিকা পালন করা।
৪. রাষ্ট্রের নির্ধারিত শিক্ষা লাভ করা।
প্রশ্ন: দুর্যোগ কাকে বলে? দুর্যোগের পূর্বাভাস জানা কেন প্রয়োজন? বন্যা মোকাবিলার চারটি করণীয় লেখো।
উত্তর: দুর্যোগ হলো একপ্রকার প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ক্ষতিকর দুর্ঘটনা, যাতে মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি হয়। দুর্যোগের ঝঁুকি মোকাবিলার জন্য দুর্যোগের পূর্বাভাস জানা প্রয়োজন। বন্যা মোকাবিলায় চারটি করণীয় হলো—
১. প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার, খাওয়ার স্যালাইন ও ওষুধ সঙ্গে নেওয়া।
২. নিজের বইখাতা, ব্যবহারের দ্রব্য যাতে বন্যার পানিতে ভিজে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা।
৩. প্রতিবেশীকে দুর্যোগ সম্পর্কে আগেই জানানো প্রয়োজন।
৪. আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য খুব কম মালামালসহ নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া।
প্রশ্ন: জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণাপত্র কবে স্বীকৃতি দিয়েছে? মানবাধিকার প্রয়োজন কেন? মানবাধিকার রক্ষায় তোমার চারটি করণীয় লেখো।
উত্তর: জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছে।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, নারী-পুরুষ আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য মানবাধিকার প্রয়োজন।
মানবাধিকার রক্ষায় আমার চারটি করণীয় হলো—
১. সরকারি সব আইন মেনে চলব।
২. মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন প্রচারণামূলক কাজে অংশগ্রহণ করব।
৩. মানবাধিকারবিরোধী কোনো কাজ দেখলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাব।
৪. বাড়িতে, বিদ্যালয়ে এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে কেউ মানবাধিকারবিরোধী কোনো কাজ করে, তবে তাকে এ বিষয়ে সচেতন করব।
প্রশ্ন: মানবাধিকার কাকে বলে? মানবাধিকার সর্বজনীন ঘোষণাপত্র কে অনুমোদন দিয়েছে? মানবাধিকারের চারটি প্রয়োজনীয়তা লেখো।
উত্তর: মানুষের সব সুযোগ–সুবিধা পাওয়ার অধিকারকে মানবাধিকার বলে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার সর্বজনীন ঘোষণাপত্রকে অনুমোদন দিয়েছে।
মানবাধিকারের চারটি প্রয়োজনীয়তা হলো—
১. মানবাধিকার মানুষের জীবনকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
২. লেখাপড়া শিখে যোগ্যতা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের সুযোগ করে দেয়।
৩. মানুষের ভালো গুণগুলোকে বিকশিত করতে সাহায৵ করে।
৪. সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায৵ করে।
প্রশ্ন: অটিস্টিক শিশুরা কোন সমস্যায় আক্রান্ত হয়? অটিস্টিক শিশুদের কীভাবে কাজ করতে অসুবিধা হয়? অটিস্টিক শিশুদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত? চারটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: অটিস্টিক শিশুরা অটিজম সমস্যায় আক্রান্ত হয়।
অটিস্টিক শিশুদের দলে সবাই একত্রে কাজ করতে অসুবিধা হয়।
অটিস্টিক শিশুদের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করা উচিত, তা হলো—
১. অটিস্টিক শিশুদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা উচিত।
২. তাদের সঙ্গে আমাদের মিলেমিশে থাকতে হবে।
৩. তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা যাবে না, যাতে তারা কষ্ট পায় এবং উত্তেজিত হয়।
৪. কিছু অটিস্টিক শিশু অনেক মেধাবী হয়। তারা ভালো ছবি আঁকতে পারে, গান গাইতে পারে। সবার উচিত তাদের এসব কাজে উৎসাহ প্রদান করা।
রাবেয়া সুলতানা, শিক্ষক
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, ঢাকা