
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: বর্ণনামূলক প্রশ্ন
অধ্যায়–১
প্রশ্ন: জলবায়ু পরিবর্তন কী? এর কারণগুলো লেখো।
উত্তর: জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে। সাধারণত ৩০–৩৫ বছরের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে জলবায়ু নির্ধারণ করা হয়। জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। কলকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত গ্যাসও এর জন্য দায়ী। বন উজাড়ের ফলে বায়ুতে কার্বন ডাই–অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এসব কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
প্রশ্ন: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কী কী
প্রভাব পড়ে?
উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পায়। কৃষিজমির ক্ষতি হয় এবং খাদ্য
উৎপাদন কমে যায়। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিতে পারে। মানুষ ও অন্যান্য জীবের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।
প্রশ্ন: জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আমাদের
করণীয় কী?
উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। বনভূমি ধ্বংস করা বন্ধ করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় রোধ করতে হবে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করতে হবে। পরিবেশ পরিষ্কার রাখা ও সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন: বনভূমি সংরক্ষণ কেন প্রয়োজন?
উত্তর: বনভূমি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। গাছপালা কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে। বনভূমি বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। বন উজাড় হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হয়। বন মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং বৃষ্টিতে সহায়তা করে। তাই বনভূমি সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
প্রশ্ন: পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের
ভূমিকা লেখো।
উত্তর: শিক্ষার্থীরা নিয়মিত গাছ লাগাতে ও পরিচর্যা করতে পারে। তারা বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানির অপচয় বন্ধ করতে পারে। প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার করতে পারে। বিদ্যালয় ও বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে। পরিবার ও বন্ধুদের পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতন করতে পারে। এভাবে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাবেয়া সুলতানা, িশক্ষক
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, ঢাকা