প্রশ্নগুলো বড় হবে, নম্বর থাকবে ৪ করে।প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ (বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অধ্যায় ৩)

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: বিস্তৃত প্রশ্ন

অধ্যায়-৩

প্রশ্ন: গারো জনগোষ্ঠীর জীবনধারা ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

উত্তর: গারোরা বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। তারা প্রধানত ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় বাস করে। তাদের ভাষার নাম আচিক। গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক এবং নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। তারা ভাত, মাছ, মাংস ও শাকসবজি খেতে পছন্দ করে। গারোদের প্রধান উৎসব ওয়ানগালা, যা ফসল কাটার পর পালন করা হয়। তারা নিজস্ব ভাষা, পোশাক ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করেছে।

প্রশ্ন: ওঁরাও জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস ও উৎসব সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: ওঁরাও জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ মানুষ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস করে। তাদের সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক এবং বংশপরিচয় বাবার দিক থেকে নির্ধারিত হয়। তারা কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের প্রধান খাদ্য ভাত। এ ছাড়া শাকসবজি, মাছ, মাংস, গম ও ভুট্টা খেয়ে থাকে। পুরুষেরা ধুতি, লুঙ্গি, শার্ট ও পাগড়ি পরিধান করে। নারীরা শাড়ি ও ব্লাউজ পরে এবং বিভিন্ন ধরনের অলংকার ব্যবহার করে। তাদের প্রধান উৎসব হলো কারামা, যা ভাদ্র মাসে উদ্​যাপন করা হয়। নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষা করে ওঁরাও জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

প্রশ্ন: খাসি জনগোষ্ঠীর জীবনধারা ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

উত্তর: খাসিরা বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বাস করে। তাদের সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। খাসিদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ এবং তারা পান চাষে বিশেষভাবে পরিচিত। তারা অতিথিদের পান-সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করে। তাদের প্রধান দেবতার নাম উব্লাই নাংথউ। খাসিদের প্রধান উৎসব ‘খাসি সেং কুটস্লেম’ বা বর্ষবিদায়। তাদের নিজস্ব ভাষা, পোশাক ও সংস্কৃতি রয়েছে। তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

প্রশ্ন: ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবনধারা ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

উত্তর: ম্রো জনগোষ্ঠী প্রধানত বান্দরবান জেলায় বসবাস করে। তারা পাহাড়ি অঞ্চলে প্রকৃতিনির্ভর জীবন যাপন করে। তাদের প্রধান পেশা জুমচাষ। তারা ভাত, শাকসবজি, শুঁটকি মাছ ও মাংস খায়। তাদের নিজস্ব ভাষা ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক রয়েছে। ম্রোদের প্রধান উৎসব চাংক্রান। এ ছাড়া জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে ইত্যাদি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আচার–উৎসব পালন করে। তাদের একটি রীতি অনুযায়ী ছেলে–মেয়েশিশু উভয়েরই বয়স ৩ বছর হলে কান ছিদ্র করে দেওয়া হয়। তাদের সংস্কৃতি বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

প্রশ্ন: সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবনধারা ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

উত্তর: সাঁওতালরা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, রাজশাহী, নওঁগা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বাস করে। তাদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। তারা ভাত, মাছ, মাংস ও শাকসবজি খায়। তাদের ভাষার নাম সাঁওতালি। সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই। তারা নাচ-গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। তাদের নিজস্ব পোশাক ও সংস্কৃতি রয়েছে। তারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

উত্তর: বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, পোশাক ও সংস্কৃতি রয়েছে। তাদের জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাস একে অপরের থেকে ভিন্ন। তারা বিভিন্ন ধর্ম ও সামাজিক রীতি অনুসরণ করে। প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব উৎসব রয়েছে। তারা নাচ, গান ও লোকজ সংস্কৃতি চর্চা করে। তাদের সংস্কৃতি বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে সম্মান করা উচিত।

প্রশ্ন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি আমাদের করণীয় বর্ণনা করো।

উত্তর: বাংলাদেশের সব মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী। তাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করতে হবে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান করতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না। তাদের অধিকার রক্ষায় সচেতন থাকতে হবে। তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাদের সংস্কৃতি সংরক্ষণে সহযোগিতা করা উচিত। এতে দেশে সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে।

প্রশ্ন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি বাংলাদেশের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের নিজস্ব ভাষা, পোশাক ও উৎসব রয়েছে। তারা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করেছে। তাদের লোকসংগীত, নৃত্য ও শিল্পকলা আমাদের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ করছে। তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে। এটি পারস্পরিক সম্মান ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। তাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব।

রাবেয়া সুলতানা, িশক্ষক
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, ঢাকা