
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
আজ রোববার দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ফল ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রমুখ।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফল প্রকাশের পর অভিভাবকেরা অনলাইন ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে ফল দেখার অফিশিয়াল মাধ্যম হলো ‘আইপিইএমআইএস’ পোর্টাল।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫–এ মোট ৮২,৫০০টি বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল (মেধা) বৃত্তি ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি।
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি।
পরীক্ষায় মোট উপস্থিত ছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫৯ জন, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন। বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৪৫৫ জন।
পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। আর পার্বত্য তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা ছিল। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফল ৮ জুলাই প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তুত করা ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করতে প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির জন্য অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স মো. মেহতাব কায়েসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকাশের আগে তা ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার জন্য তাঁকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল ওই লিংকগুলোয় আপলোড করা হয়। লিংকগুলো থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফলাফল আপলোড করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কর্মকর্তা হলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স মো. মেহতাব কায়েস। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, অসদাচরণের অভিযোগে মো. মেহতাব কায়েসকে গত শুক্রবার সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।