জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড–২০২৭। ঢাকা শহরসহ দেশের ৮টি বিভাগের ১৫টি অঞ্চলের কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এইচএসসি ও এ-লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন শুরু হবে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর।
আয়োজকেরা জানান, অলিম্পিয়াডের প্রাথমিক পর্ব আগামী ৩১ অক্টোবর দেশের ১৫টি অঞ্চলে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক পর্বে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবেন। চূড়ান্ত পর্ব আগামী ২৮ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে।
চূড়ান্ত পর্বের বিজয়ীরা আগামী বছর তাইওয়ানে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ১৫ অক্টোবর অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদন যেভাবে—
নিবন্ধন করতে আগ্রহীরা গুগল ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। (https://forms.gle/3uHp2694GWty6gj2A)। অথবা রসায়ন সমিতির ওয়েবসাইটে গিয়ে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের কিউআর কোড স্ক্যান করে নিতে হবে। আগ্রহী কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এইচএসসি ও এ-লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। ঢাকা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচশত টাকা ও অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন শ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অলিম্পিয়াডের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং বিজ্ঞানমনস্ক তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা।
আয়োজকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষ করে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, বিজ্ঞানমনস্ক ও মুক্তচিন্তার অধিকারী প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে অলিম্পিয়াডটি তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে এমন তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের উদ্দেশে রসায়নকে জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটি ১৯৮৬ সাল থেকে এ আয়োজন করে আসছে।
১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আমিনুল হক প্রথম আলোকে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে। প্রতিবারের তুলনায় এবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। বোর্ড পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় না, এ জন্য সময় এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। যারা চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী হবে, তাদেরকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য প্রস্তুত করতে সময় লাগে। তিন-চার মাস সময় হাতে রেখে এবার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা তুলে ধরার জন্য রসায়ন অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রসায়ন বিষয়ে আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি হবে। এবার একটি পদক পাব বলে আমরা আশা করি।