
সাত কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত খসড়া আজ রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা করছে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাবে।
আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়া উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এ জন্য খসড়ার আইনি যাচাইয়ের (ভেটিং) বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কথা বলা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, সম্প্রতি ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া পরিমার্জন করে নতুন খসড়া করা হয়েছে। নতুন খসড়া অনুযায়ী, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও কলেজগুলো তাদের বর্তমান স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘সংযুক্ত’ হিসেবে কার্যক্রম চালাবে। সহজভাবে বললে, এটি অনেকটাই এখনকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অধিভুক্ত কলেজগুলোর ব্যবস্থার মতোই, যদিও হুবহু অধিভুক্ত নয়।
ঢাকার এই সাত কলেজ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই সংকট চলছে। ২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই এই সাত কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। সরকারি কলেজগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ। এই অধিভুক্তির পর থেকেই নানা সংকট তৈরি হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত হওয়ার আগেই অধিভুক্তি বাতিল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এরপর এসব কলেজ একীভূত করে সরকার নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা নেয়। এ জন্য প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়ায় থাকা ‘স্কুল মডেলিং’ কাঠামো নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে নামেন। এ রকম পরিস্থিতিতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশের খসড়া পরিমার্জন করে নতুন খসড়া করে।
এর মধ্যে ঢাকার বড় সাতটি কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে গত সপ্তাহে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়, টেকনিক্যাল মোড় এবং পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড় একাধিক দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন ওই সব কলেজের অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়েও এ নিয়ে কথা বলেছেন। এরপরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি জানাল।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সব যৌক্তিক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে এবং উদ্বেগগুলো বিবেচনায় নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী কাঠামো নির্ধারণ করাই ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মূল লক্ষ্য। সবার ধৈর্যশীল সহযোগিতা এবং গঠনমূলক ভূমিকার কারণেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় জটিল এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সময়ে সময়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ধারাবাহিক অগ্রগতির তথ্য সর্বসাধারণকে অবহিত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কারের কাজগুলো সুশৃঙ্খলভাবে ধাপে ধাপে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হয়। যেকোনো পর্যায়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা পুরো উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ অবস্থায়, অধ্যাদেশটির খসড়া যেহেতু এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, সেহেতু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়—এমন কোনো কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান করা যাচ্ছে। যেকোনো আবেগপ্রসূত বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের এই অর্জন ও শ্রমকে নস্যাৎ করে দিতে পারে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে, দীর্ঘদিনের ধৈর্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত রেখে অতি দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিশ্চিত করা যাবে, যা দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।