২০২৬ সালে উচ্চশিক্ষার গতিপথ বদলে দেবে এআই–সংক্রান্ত এই ৭ সিদ্ধান্ত

গত এক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উচ্চশিক্ষায় শুধু একটি সহায়ক টুল হিসেবে নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের পড়াশোনা ও গবেষণায় এআই ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের দ্রুত পরিবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে—শিক্ষা কীভাবে সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হবে।

২০২৬ সালে এসব প্রবণতা এক জায়গায় এসে মিলবে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো এআইকে কার্যকরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ করতে পারবে, তারা এগিয়ে যাবে।

প্রশ্নটি আর এআই গ্রহণ করা হবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, এআই–নির্ভর বিশ্বে শিক্ষা, মূল্যায়ন, শিক্ষার্থী সহায়তা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতির নতুন অপারেটিং মডেল কী হবে।

এআই এখন শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ

এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে অবকাঠামোগত সিদ্ধান্তে। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের সঙ্গে ওপেনএআইয়ের চুক্তির ফলে ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও ৬৩ হাজার শিক্ষক–কর্মী একসঙ্গে ‘চ্যাটজিপিটি এডু’ ব্যবহার করছেন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ঠিক করছে এআই কোথায় চলবে, কে ব্যবহার করতে পারবে, কোন তথ্য এতে যুক্ত হবে এবং কীভাবে তা নিয়ন্ত্রিত হবে।

ব্যবহার নয়, ‘এআই দক্ষতা’ নতুন মানদণ্ড

শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করছে, এটি এখন বাস্তবতা। পার্থক্য গড়ে দেবে প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে কতটা দক্ষ করে তুলতে পারছে। সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী কলেজজীবনে কোনো না কোনোভাবে এআই ব্যবহার করেছে।

শাসনব্যবস্থা এখন প্রমাণযোগ্য ও অর্থায়নযোগ্য

এআই গভর্ন্যান্স আর নীতিগত আলাপের বিষয় নয়; এটি এখন পর্যালোচনাযোগ্য ও অর্থায়নের শর্ত। ফেডারেল নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত এআই উদ্যোগে সরকারি অনুদান দেওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো গোপনীয়তা, নাগরিক অধিকার ও মানবিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ডিগ্রির বদলে কর্মপথ

এআই শ্রমবাজার বদলে দিচ্ছে এমন গতিতে, যা প্রচলিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে আর মেলে না। এখন গুরুত্ব পাচ্ছে ‘পাথওয়ে’ দক্ষতাভিত্তিক, বাস্তব কাজের সঙ্গে যুক্ত শেখার পথ। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সাল থেকে ‘ওয়ার্কফোর্স পেল’ কর্মসূচির আওতায় স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণেও সরকারি সহায়তা মিলবে, তবে কেবল যেগুলো চাকরির সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র আছে।

কোপাইলট থেকে এজেন্ট

২০২৬ সালে বড় পরিবর্তন আসবে জেনারেটিভ এআই থেকে ‘এজেন্টিক এআই’–এ। অর্থাৎ এমন সিস্টেম, যা শুধু পরামর্শ দেবে না; বরং নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজও সম্পন্ন করবে—পরামর্শ দেওয়া, সময় নির্ধারণ ও শিক্ষার্থী সহায়তা সমন্বয়।

সাতটি সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের প্রস্তুতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বকে সাতটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে—এআই অবকাঠামোর মালিকানা কার, কীভাবে শাসনব্যবস্থার প্রমাণ দেখানো হবে, শিক্ষার্থীদের এআই দক্ষতার মানদণ্ড কী, কোন মূল্যায়ন পদ্ধতি বিশ্বাসযোগ্য থাকবে, কর্মপথ কতটা বাস্তবসম্মত, এআই এজেন্ট কোথায় কাজ করবে এবং কীভাবে সুযোগের বৈষম্য ঠেকানো হবে।