
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা ২ হাজার ৮৩৯।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। বিদ্যালয়হীন গ্রামগুলোর নামের তালিকাও সংসদে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়হীন গ্রামের সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ৭১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৩৫৫টি, রংপুর বিভাগে ৩৭টি, খুলনা বিভাগে ৩৪১টি, বরিশাল বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ২৬০টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব গ্রামে ৪ থেকে ১০ বছরের বেশি বয়সী (প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী) শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫১৬।
এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সরকারি কলেজে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত প্রভাষক পদের ৬৫৬টি শূন্য এবং সদ্য সরকারিকৃত কলেজে নন-ক্যাডার প্রভাষক পদের ২ হাজার ৪১০টি শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ১ হাজার ৩৪৯টি পদ শূন্য রয়েছে এবং এমপিওভুক্ত কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১ হাজার ৩৪৪টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান। উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে শিক্ষকের শূন্য পদ ৬০ হাজার ২৯৫টি।
মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সরকারি কলেজে প্রভাষক নিয়োগের জন্য ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম, ৪৯তম ও ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলামান। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদ পূরণে আবেদন নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দেশে সর্বমোট ৩৪ হাজার ১২৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ কর্মচারী রয়েছেন। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিএনপির সংসদ সদস্য সফিকুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও গুণগত মনোন্নয়নের নীতিতে বিশ্বাসী। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বা এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়, বরং নির্ধারিত নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, নির্ধারিত নীতিমালা ও শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে সারা দেশের সব যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন ও এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হবে।
বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করে এবং নিয়মিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে। উল্লেখ্য যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় সেখানে সংঘটিত যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।