
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে, যা খুব দ্রুততার সঙ্গে করা হয়েছিল। এতে মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
আজ রোববার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশ সরকার, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনিসেফ ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ (ইএসএ)-২০২৬’ যাচাইকরণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল, কিন্তু আমি জানি না কেন তারা রাতারাতি এত দ্রুত এই নিয়োগ সম্পন্ন করল। এতে করে শিক্ষকদের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই আমরা এটি পর্যালোচনা করছি এবং একই সাথে তাদের প্রশিক্ষণে পাঠিয়ে দুই বছরের প্রবেশনাল পিরিয়ডসহ নিয়োগ দিচ্ছি।’
গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। এতে উত্তীর্ণ হন ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে গত ১ মার্চের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ডোপ টেস্টসহ) ও সব ধরনের সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এর পরপরই যোগদান করার কথা থাকলেও চার মাস ধরে পুরো প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও তাঁদের চূড়ান্ত পদায়ন করা হবে পিটিআই (প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্র) প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর। আজ শিক্ষামন্ত্রী জানালেন কেন অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত এই নিয়োগ সম্পন্ন করেছিল, সে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন এবং বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশনের মিনিস্টার কাউন্সিলর মাইকেল ক্রেজা।
কর্মশালায় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উন্নয়ন অংশীদার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।