
ইঙ্গমার বার্গম্যানের ছবি দেখেননি, সিনেমার এমন ছাত্র সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না। অসাধারণ সব চলচ্চিত্র তিনি উপহার দিয়েছেন বিশ্ববাসীকে। সুইডেনের এই নির্মাতা ছিলেন লেখক ও প্রযোজকও। ১৯১৮ সালের এই দিনে তিনি জন্মেছিলেন। আজ তাঁর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী।
বার্গম্যান সারা জীবনে প্রায় ৫০টি চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো আত্মজৈবনিক। মৃত্যু ও বিশ্বাসঘাতকতা তাঁর সিনেমায় বারবার এসেছে। চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি অন্যতম প্রধান নির্মাতা। অনেক নির্মাতা তাঁর কাজ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। উডি অ্যালেন এঁদের একজন।
বার্গম্যানের বাবা ছিলেন চার্চের পুরোহিত। কঠোর পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসনে বড় হওয়া বার্গম্যান পরবর্তীকালে নিজের কাজেই খুঁজেছিলেন ঈশ্বর ও মানুষের সম্পর্ক। স্টকহোমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে যুক্ত ছিলেন মঞ্চে। সে সময়েই বড় পর্দায় অভিষেক ‘টরমেন্ট’ দিয়ে। ১৯৪৪ সালে বার্গম্যানের চিত্রনাট্যে ছবিটি বানিয়েছিলেন আলফ হোবারিয়া।
নির্মাতা হিসেবে বার্গম্যান প্রথম আন্তর্জাতিক সাফল্য পান ১৯৫৫ সালে, ‘স্মাইলস অব আ সামার নাইট’ ছবিতে। এরপরই তিনি বানান ‘দ্য সেভেন্থ সিল’, ‘ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ’, ‘দ্য ভার্জিন স্প্রিং’-এর মতো ছবি। সেবার বিদেশি ভাষার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে ‘দ্য ভার্জিন স্প্রিং’ পায় অস্কার।
ষাটের দশকে বার্গম্যান দুটি ট্রিলজি বানান। প্রথম ট্রিলজিতে ছিল ‘থ্রু আ গ্লাস ডার্কলি’ (এটিও বিদেশি ভাষার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কার পায়), ‘উইন্টার লাইট’ ও ‘দ্য সাইলেন্স’। দ্বিতীয় ট্রিলজিতে ছিল ‘পারসোনা’, ‘আওয়ার অব দ্য উলফ’ ও ‘শেম’।
গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে বার্গম্যান বানান ‘সিনস ফ্রম আ ম্যারেজ’। এক বিবাহিত যুগলের টালমাটাল সম্পর্ক নিয়ে ছিল এর কাহিনি।
১৯৭৬ সালে আয়কর ফাঁকির অভিযোগে বার্গম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েন তিনি। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বার্গম্যান সিদ্ধান্ত নেন, তিনি সুইডেনে আর ছবি বানাবেন না। সুইডেনের দ্বীপ ফারোতে তাঁর যে স্টুডিওটি ছিল, সেটিও তিনি বন্ধ করে দেন।
এরপর বার্গম্যান পাড়ি জমান জার্মানিতে। পরবর্তী সময়ে তিনি যৌথ প্রযোজনার কয়েকটি চলচ্চিত্র বানান—‘দ্য সারপেন্ট’স এগ’, ‘দ্য টাচ’, ‘অটাম সোনাটা’, ‘ফ্রম দ্য লাইফ অব দ্য ম্যারিওনেটস’। ১৯৮২ সালে স্বল্প সময়ের জন্য তিনি আবার স্বদেশে ফেরেন। সুইডেনে নির্মিত ‘ফ্যানি অ্যান্ড আলেক্সান্ডার’ ছবিটি সেবার চারটি অস্কার জিতেছিল।
২০০৩ সালে তিনি বানান তাঁর শেষ ছবি ‘সারাব্যান্ড’। এটি ছিল ‘সিনস ফ্রম আ ম্যারেজ’-এর সিক্যুয়েল ছবি। দুটি ছবিই প্রথমে টেলিভিশনের জন্য বানানো হয়েছিল। পরে প্রেক্ষাগৃহে ছবিগুলো মুক্তি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ৩০ জুলাই বার্গম্যান মৃত্যুবরণ করেন।