
আস্ত একটা উড়োজাহাজ নিয়ে ট্যুরে বেরোনো আয়রন মেইডেনের জন্য নতুন কিছু নয়। লম্বা সময় নিয়ে গানের সফরে বের হলেই যুক্তরাজ্যের এই হেভি মেটাল ব্যান্ডটির সঙ্গী হয় ‘এড ফোর্স ওয়ান’ নামের নিজস্ব বিমান। ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল যদি হন একজন পাইলট, এইটুকু সুবিধা তো নেওয়াই যায়। ভাগ্যিস, ব্রুস ডিকিনসন আকাশে কেবল উড়োজাহাজটাই চালাতে জানেন। রকেট চালাতে জানলে নিশ্চয়ই পুরো ব্যান্ডকে সঙ্গে নিয়ে গ্রহে গ্রহে কনসার্ট করে বেড়াতেন!
আয়রন মেইডেনকে নিয়ে এ ধরনের অলীক ভাবনা নিছক রসিকতা নয়। যাদের অ্যালবাম প্রথম সপ্তাহেই ৭৪ হাজার কপি বিক্রি হয়ে যায়, তারা তো রীতিমতো অন্য গ্রহের শিল্পীই বটে! গত মাসেই এই রেকর্ড গড়েছে ব্যান্ডটির নতুন অ্যালবাম বুক অব সোলস। পাঁচ বছর বিরতির পর অ্যালবাম বেরোল। নতুন অ্যালবামকে উপলক্ষ করে ওয়ার্ল্ড ট্যুর শুরু হচ্ছে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে। টানা ৩৫ দিনের লম্বা সফরে ব্যান্ডটির সদস্য, ক্রু, যন্ত্রানুষঙ্গ ও সাউন্ড-লাইট বহন করতে এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে বিশালদেহী জাম্বো জেট ‘বোয়িং ৭৪৭-৪০০’। আগের এড ফোর্স ওয়ানটির তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি বড়। নিজেদের ট্যুরে ব্রুস ডিকিনসনই থাকেন বিমানের প্রধান চালকের ভূমিকায়।
জানা গেছে, জাম্বো জেটটি উড়িয়ে নিতে ব্রুস ডিকিনসনকে নতুন করে লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এত বিশাল আকৃতির বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ডিকিনসনের আগে হয়নি। অবশ্য শুধু নতুন অভিজ্ঞতা বলেই নয়, বিমান চালানোর জন্য তিনি শারীরিকভাবে প্রস্তুত কি না, সেটাও পরীক্ষা করার প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সম্প্রতি এই হেভি মেটাল ভোকাল ফিরেছেন পুরোনো রূপে। মাইক্রোফোনের মতো বিমানের স্টিয়ারিং হুইলটাও শক্ত হাতে ধরতে পারবেন কি না, সেটাই জানতে চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে বুক অব সোলস নিয়ে হাজির হবে আয়রন মেইডেন। চেনা হেভি মেটালের সঙ্গে মাথা দোলাতে ভক্তদের যেন আর তর সইছে না। ওদিকে ভক্তদের চেয়ে ব্যান্ডটিও কিন্তু কম রোমাঞ্চিত নয়। ডিকিনসন বলেন, ‘মঞ্চে ফেরার অপেক্ষায় অধীর হয়ে আছি। ১৯ মাস পর ট্যুরে বেরোচ্ছি। এই ট্যুরগুলোই আমাদের সাফল্য এনে দিয়েছে, শ্রোতাদের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে। এটাই আমরা সবচেয়ে ভালো পারি। এখন শুধু নতুন জাম্বো এড ফোর্স ওয়ান ওড়ানোর অপেক্ষায় আছি।’
গার্ডিয়ান ও বিলবোর্ড অবলম্বনে