
আনন্দ কুইজ-৪-এ বিজয়ী হয়ে জাহিদ হাসানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন ভোলার তরুণ মো. রায়হান। কী কথা হলো ভক্তের সঙ্গে? তাই জানাচ্ছেন হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক
৩ সেপ্টেম্বর থেকে টেস্ট পরীক্ষা শুরু হবে রায়হানের। কিন্তু গত ২৮ আগস্ট যখন জানলেন এবারের আনন্দ কুইজ-৪-এর বিজয়ী হয়েছেন তিনি এবং পুরস্কার হিসেবে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন প্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসানের সঙ্গে, তখন পরীক্ষার কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন রায়হান! ২ সেপ্টেম্বর রোববার জাহিদ হাসান সময় দিয়েছেন। এই সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়?
হাতছাড়া করতে পারেননি বরিশাল বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রায়হান। তাই তো ১ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতেই বরিশাল থেকে লঞ্চে উঠেছেন। সকালে নেমে গিয়েছেন মোহাম্মদপুরের এক আত্মীয়র বাসায়। বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই হাজির হয়েছেন প্রথম আলোর কার্যালয়ে।
এসেই জাহিদ হাসান প্রসঙ্গে আলাপ শুরু করলেন, ‘জানেন, ওনার এমন কোনো নাটক নাই, দেখিনি। এখন তো ইউটিউবে দেখি। এখন একটা নাটক যে কতবার দেখেছি তাঁর হিসাব নেই।’
পরীক্ষার প্রসঙ্গে জানতে চাই রায়হানের কাছে। বলেন, ‘জাহিদ হাসানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তো বারবার আসবে না। তা ছাড়া আমার পরীক্ষার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া আছে। সমস্যা হবে না। আজ রাতে গিয়ে ঠিকঠাক পরীক্ষায় বসতে পারব।’ রায়হানের আত্মবিশ্বাস দেখে মুগ্ধ হই আমরা।
বিকেল ৪টার পরে সময় দিয়েছেন জাহিদ হাসান। যেতে হবে ঢাকা ক্লাবে। জাহিদ হাসান উন্মুখ হয়ে আছেন। বার কয়েক ফোন করে খবর নিয়েছেন। বরিশাল থেকে ছেলেটা ঠিকঠাক এসেছে তো?
অবশেষে দেখা হওয়ার ক্ষণ ঘনিয়ে এল। দেখা হলো ভক্ত ও তারকার। ঢাকা ক্লাবের প্রধান ফটকে পা রেখেই রায়হান বললেন, ‘একটু ভয় ভয় করছে। উনি এত বড় মানুষ।’ ততক্ষণে জাহিদ হাসান জেনে গেছেন ঢাকা ক্লাবের অভ্যর্থনা কক্ষে চলে এসেছেন তাঁর ভক্ত। অভ্যর্থনাকারীর কাছে পরিচয় দিতে দিতেই চলে এলেন তিনি। তাঁকে দেখেই পা ছুঁয়ে সালাম করলেন রায়হান। জাহিদ হাসান মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। রায়হান বললেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন থানার আলীগাও গ্রামে। বাবা মাদ্রাসা শিক্ষক। মা গৃহিণী। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে টেলিভিশনে আপনার নাটক দেখতাম। এখন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর হোস্টেলে থাকি। সেখানে ইউটিউবে নিয়মিত নাটক দেখি।’
জাহিদ হাসান বললেন, ‘যত কিছুই করো, সবার আগে পড়াশোনা। এটা যেন ভুলে না যাও।’ মাথা কাত করে হ্যাঁ বলে দেন রায়হান। পড়াশোনার সবশেষ ‘আপডেট’ জানান জাহিদ হাসানকে।
এবার ছবি তোলার পালা। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যান দুজন। জাহিদ হাসানের স্বভাবসুলভ হাসি। কিন্তু রায়হান আড়ষ্ট। সেটা কাটাতে জাহিদ হাসান উদ্যোগী হন। কাঁধে হাত দিয়ে বলেন, ‘হাসতে হবে বাবা। হাসিমুখে ছবি না তুললে তো হবে না। এটা তো পত্রিকায় ছাপা হবে।’
এবার হাসি ফুটে ওঠে রায়হানের মুখে। আড়ষ্টতা ভেঙে ছবি তোলেন। নিজের মোবাইলেও সেলফি তুলে নেন। তারপর অনেক গল্প দুজনের। রায়হানের জমে থাকা দু-একটি প্রশ্নের উত্তর দেন জাহিদ হাসান। জাহিদ হাসান জানতে চান, আমাকে নিয়ে এত কম প্রশ্ন তোমার? রায়হান উত্তর দেন, ‘আসলে আপনার সব খবর তো আমরা পত্রিকা খুললেই পাই, বিশেষ করে প্রথম আলো। তাই আর কিছু অজানা থাকে না।’
জাহিদ হাসান জানতে চান ‘কী হতে চাও?’ রায়হান উত্তর দেন, সবার আগে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। জাহিদ হাসান খুশি হন। বলেন, ‘এটা যেন মাথায় থাকে।’
এবার বিদায়ের পালা। রায়হানকে বুকে জড়িয়ে ধরেন জাহিদ হাসান। বলেন, ‘মা-বাবার কথা শুনবে। আর অবশ্যই পড়াশোনার দিকে মনোযোগ দেবে।’
রায়হান যথারীতি মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানান। তারপর বলেন, ‘আপনিও ভালো থাকবেন। আরও অনেক দিন আমাদের সেরা সেরা নাটক, টেলিছবি উপহার দেবেন।’
জাহিদ হাসান হেসে ফেলেন। বলেন, ‘তোমাদের মতো এমন ভক্তদের জন্যই এখনো কাজ করে যাই। দোয়া কোরো আমাদের জন্য।’
বরিশাল কীভাবে ফিরবেন জানতে চান জাহিদ হাসান। রায়হান জানান, আজ রাতের লঞ্চে ফিরবে। টিকিট কাটা আছে। এবার খানিকটা আশ্বস্ত হয়ে ভক্তকে বিদায় দেন জনপ্রিয় এ অভিনেতা।