
হঠাৎ আপনাকে কেউ ঘোড়া বলে ডাক দিলে আপনি দাঁড়িয়ে পড়বেন? ঘোড়া কিন্তু দাঁড়ায় না। ছুটে চলে। মানুষ অথবা ঘোড়া, সে যা-ই হোক; সময়ের ছুটে চলার গল্প নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছে ‘সহজিয়া’ ব্যান্ড। সহজ শব্দ আর সুরে সময়টাকে ধরতে চাওয়ার চেষ্টা। কাজ চলছে ব্যান্ডের দ্বিতীয় অ্যালবাম ঘোড়ার। ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ছিল রঙমিস্ত্রী।
নভেম্বর ২০১৩। মিউজিকের ভাষায় মেলোডি, রক, সাইকেডেলিক বিভিন্ন ধরনের কাজ। সহজিয়ার ভাষায়, ‘হরেক রঙের কাজ। আমরা সবাই রঙমিস্ত্রী। আপনি, আমি, আমরা সবাই সবাইকে রাঙিয়ে তুলছি। সময়টা হয়ে উঠছে বর্ণিল। অথবা উল্টোটাও হতে পারে। হয়তো আমরা সবাই সময়ের হাতের রংতুলি। সময় ইচ্ছেমতন আমাদেরকে তার প্রয়োজনে ব্যবহার করছে।’
সে যা হোক, রঙমিস্ত্রী অ্যালবামের পেছনে ব্যান্ডের গল্প পাঁচ বছরের। ২০০৯ থেকে শুরুর পথচলা। উদ্দেশ্য সহজ পথ। ব্যান্ডের নামও তাই সহজিয়া। অনুপ্রেরণা বাংলা প্রাচীন গানের জননী-জনক সেই চর্যাগীতির সহজিয়া সম্প্রদায়। মানুষ, গাছ, পাখি, রাস্তা, আকাশ, ঘরবাড়ি, সবার সঙ্গে কথা বলা, সবার কথা শোনা। এসব অনুভূতির রং অ্যালবাম রঙমিস্ত্রী। প্রথম তিন বছর রাস্তায়। পরের দুই বছর স্টুডিওতে। সবাই যখন অ্যালবামটার মুখ দেখল অথবা অ্যালবামটা যখন সবার মুখ দেখল, তখন থেকেই অন্য রকম অনুভূতি। সহজিয়ার ভাষায়
‘সারা দিন সারা রাত
সব হাত সব মুখ সব চোখ
সব লোক গালি দেয় তালি দেয়
বলে যায় সব হোক।’
ব্যান্ডে যারা গালি ও তালির সমান অংশীদার, তাদের মধ্যে রাব্বি ড্রামস, জাফরী বেজ, সৌম্য-সজীব গিটার আর লিরিক ও ভোকাল নিয়ে থাকে রাজু। সারা দেশে বিভিন্ন মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই পাঁচজন পারফর্ম করলেও ব্যান্ড জানে, মানে এবং মনে রাখে মঞ্চের সামনের আর পেছনের কত মানুষের ভালোবাসা, প্রশ্রয় আর সহযোগিতায় আজ তারা মানুষের সামনে বারবার গিয়ে দাঁড়াতে পারছে। সামনে, পেছনে বা মাঝখানে কেউই বিশেষ নয়। শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে কাজটা হয়ে ওঠাই ব্যাপার। সম্ভবত কাজ থেকে সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে কাজের আনন্দ। আর সহজিয়া ব্যান্ডের কাছে এটা হচ্ছে সৃষ্টির আনন্দ—ব্যান্ডের গানের টাইটেলের মতন: কখনো ‘রঙমিস্ত্রী’, কখনো ‘বোকা পাখি’, কখনোবা ‘শবনম’ হয়ে ‘অপেক্ষা’ করবার আনন্দ।