বিরতির জন্য কাঁদছে পঙ্কজের প্রাণ

পঙ্কজ ত্রিপাঠি
ছবি : ইনস্টাগ্রাম

পঙ্কজ ত্রিপাঠি কখনো নায়ক, কখনো খলনায়ক। কখনো হেডমাস্টার, কখনো আবার পেশাদার গাড়িচালক। কৌতুক অভিনয় থেকে গম্ভীর কোনো চরিত্র, সবখানেই তিনি সাবলীল। সেই পঙ্কজ শোনালেন এক আঁতকে ওঠা খবর। অভিনয় করে করে তিনি নাকি ক্লান্ত। একটা বিরতির নেওয়ার জন্য তাঁর প্রাণ নাকি কাঁদছে।
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেতা বলেছেন, ‘অভিনয় করতে করতে আমি ক্লান্ত। একেক সময়ে মনে হয়, কিছুদিনের বিরতি নিই। কিন্তু এত এত কাজে জড়িয়ে পড়েছি যে বিরতি আর নেওয়াই হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি দর্শককে নতুন কিছু দেখাতে চাই। একই রকম কাজ দেখতে দেখতে যেন তাঁরা বিরক্ত হয়ে না পড়েন।’

পঙ্কজ ত্রিপাঠি

পঙ্কজ ত্রিপাঠি মনে করেন, অভিনয়ের সময় যেকোনো চরিত্র বাস্তব ও অর্থপূর্ণ হওয়া উচিত। থিয়েটারের অভিজ্ঞতা থেকে পঙ্কজ বলেন, ‘আমি থিয়েটার থেকে অনুপ্রেরণা পাই। থিয়েটারে কাজ করতে করতে অনেক কিছু শিখেছিলাম। ওই বাস্তব ও অর্থপূর্ণ কাজ করার প্রেরণাও সেখান থেকেই পাওয়া।’

স্ত্রী মৃদুলা ও মেয়ে আরশির সঙ্গে পঙ্কজ ত্রিপাঠি

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাঝেমধ্যে নতুন কিছু করার কথা ভাবি। তাই বিরতি নিতে ইচ্ছা করে। আসলে অভিনয়টা এখন আর মনের মতো হচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে, কোথাও বেড়াতে যাওয়ার মধ্যেই জীবনের সব আনন্দ। বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করতে গেলেই সেটা সম্ভব। অভিনয়ে আমার আর কোনো আগ্রহ নেই। আমি শহরে থাকতে পছন্দ করি না, কোনো পার্টিতে যাওয়া পছন্দ করি না।’

বাবা মায়ের সঙ্গে পঙ্কজ ত্রিপাঠি

ভারতের বিহারের এক হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের ছোট ছেলে পঙ্কজ। পূজা–পার্বণের সময় পাড়াগাঁয়ের থিয়েটারে মেয়ে সাজতেন পঙ্কজ। সেটাই ছিল তাঁর শৈশবের আনন্দ। ২০১৭ সালে ভারত থেকে অস্কারে গেল ‘নিউটন’। এই ছবিতে পঙ্কজ ত্রিপাঠির অভিনয় বলিউডের বড় বড় চলচ্চিত্র সমালোচকদের মন জয় করে নিয়েছিল। তাঁকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দিয়েছিল এই ছবি। এমন পুরস্কার ও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি অনেক। তারপরও তাঁর মন পড়ে থাকে গ্রামে। সেখানেই ফিরে যেতে চান তিনি। প্রায়ই সে কথা মনে করিয়ে দেন। সর্বশেষ ‘মিমি’ ছবিতে কাজ করেছেন পঙ্কজ।