
বাবা মারা যাওয়ার পর মাকে ঘিরেই ছিল তাঁর সমগ্র পৃথিবী। আজ মায়ের আঁচল ছেড়ে চিরনিদ্রার দেশে পাড়ি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ শুক্লা। আজ সকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪০ বছর বয়সী টেলিভিশন অভিনেতা তথা বিগ বস–১৩ বিজয়ী সিদ্ধার্থ শুক্লা শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে চলচ্চিত্রজগৎ শোকস্তব্ধ।
মায়ের সঙ্গে সিদ্ধার্থের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়। মাকে ছাড়া তাঁর একমুহূর্ত চলত না। এমনিতে খুবই শক্ত মনের ছিলেন সিদ্ধার্থ। কিন্তু মায়ের প্রসঙ্গ উঠলেই আবেগে দুচোখ পানিতে ভরে যেত। কম বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন এই টেলিতারকা। তখন মা রীতা শুক্লা সিদ্ধার্থ আর দুই মেয়েকে বুকে আগলে রেখেছিলেন। এক কঠিন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে তিনি মানুষ করেছেন তিন সন্তানকে। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা কথা বলতেন না সিদ্ধার্থ।
২০১৯ সালে বিগ বস জয়ের পর মাকে ঘিরে কিছু কথা বলেছিলেন। মায়ের সংগ্রামের সেসব দিনের কথা বলতে গিয়ে সিদ্ধার্থ বলেছিলেন, ‘১৫ বছর আগে বাবা মারা যান। তখন মনে হয়েছিল, আমাদের মাথার ওপরের ছাদটা কেউ ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু মা আমাদের পাশে পাহাড়ের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।’ সিদ্ধার্থ আরও বলেছিলেন, ‘মা নিজেকে শক্ত রেখেছিলেন, ভেঙে পড়েননি। আমাদের তিন ভাই-বোনকে ভালোভাবে বড় করেছেন। আমাদের সব আবদার উনি মেটাতেন। তবে হ্যাঁ, এ কারণে উনি নিজের অনেক শখ, আহ্লাদ জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন।’
তিন ভাই-বোনের মধ্যে সিদ্ধার্থ সবচেয়ে ছোট। আর তাই মায়ের আরও বেশি আদরের ছিলেন তিনি। মায়ের আঁচল ধরে সর্বক্ষণ ঘুরে বেড়াত ছোট্ট সিদ্ধার্থ। মাকে ছাড়া একমুহূর্ত থাকতে পারত না। তাকে কোলে নিয়ে মাকে সব কাজ করতে হতো। এমনকি তিনি সিদ্ধার্থকে কোলে নিয়ে রুটি পর্যন্ত বানাতেন। মায়ের কারণেই অভিনয়ে এসেছিলেন সিদ্ধার্থ। ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। এটাকেই পেশা হিসাবে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মা তাঁকে মডেলিং করার পরামর্শ দেন। মডেলিং করতে করতে একসময় সিদ্ধার্থের সামনে অভিনয়ের দরজা খুলে যায়।
আজ সকালে মারা গেছেন বিগ বস–১৩ বিজয়ী টেলিভিশন তারকা সিদ্ধার্থ শুক্লা। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মুম্বাইয়ের কুপার হাসপাতালে সিদ্ধার্থের ময়নাতদন্ত হচ্ছে। সিদ্ধার্থের পরিবারের দাবি, তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক। কিন্তু নেট নাগরিকদের একাংশ ইতিমধ্যেই তরুণ অভিনেতার অকালমৃত্যুকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করছেন। তাঁরা মনে করছেন, সিদ্ধার্থের মৃত্যুর ‘আসল কারণ’ আড়াল করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, মৃত্যুর আগের রাতে সিদ্ধার্থ যখন বাসায় ফিরেছিলেন, তাঁর গাড়ির পেছনের কাচ পুরোপুরি ভাঙা ছিল। এখন প্রশ্ন, তাহলে কি সিদ্ধার্থের সঙ্গে কারও ঝামেলা হয়েছিল?