শচীন দেববর্মন অনুপ্রেরণা

আদনান সামি
আদনান সামি

উত্তরের লোকসংগীত ভীষণ অনুপ্রাণিত করে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ভারতীয় শিল্পী আদনান সামিকে। এক সাক্ষাৎকারে সে রকমই বলেছেন তিনি। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ, দুর্বান ও লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে গান করে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন সামি। 

‘ছোটবেলা থেকেই উত্তরের সুর আমাকে অনুপ্রাণিত করে। বিশেষ করে শচীন দেববর্মনদের মতো পণ্ডিতেরা। তিনি তো ভারতীয় চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম প্রেরণা। লোকগানকে যেভাবে নিজের মতো করে তিনি সিনেমায় ব্যবহার করেছেন, সেটি অসাধারণ। ‘আমি উত্তরের লোকসংগীতের সৌন্দর্যে বিমোহিত’, আইএএনএসকে বলেছেন এ শিল্পী। শুধু সংগীত নয়, উত্তরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এর বিচিত্র সংস্কৃতি, মানুষ ও তাঁদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ তিনি। আদনান সামি বলেন, ‘বিশ্বের বহু জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু এ দেশের উত্তরের সৌন্দর্য অতুলনীয়।’ 
ভারতীয় এবং পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত আদনান সামি পিয়ানো বাজানোয় বিশেষভাবে পারদর্শী। তাঁর গাওয়া ‘কাভি তো নজর মিলাও’, ‘ভিগি ভিগি রাতো মে’, ‘তেরা চেহারা’সহ বেশ কিছু গান ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ২০১৬ সালে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পাকিস্তানের সমালোচনার শিকার হন তিনি। এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি, লোকে আমার সমালোচনা করে, কিন্তু তাতে আমার কিছুই যায়–আসে না। আমি শিল্পী, আমাকে মানুষ ভালোবাসুক বা ঘৃণা করুক—গানের জন্যই করবে। ধর্ম বা জাতীয়তার কারণে আমার সমালোচনা করেন বর্ণবাদীরা।’ 
গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় জঙ্গিনিধনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষে সামাজিক মিডিয়ায় মন্তব্য করে সমালোচিত হন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পাবলিক ফিগার হিসেবে সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব নয়। কিছু লোক আমার সমালোচনা করবে বলে আমি নিজের মত প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে পারি না। ভবিষ্যতেও আমি আমার মত প্রকাশে পিছপা হব না।’ 
এরই মধ্যে ‘আজনবি’, ‘সাথিয়া’, ‘জগার্স পার্ক’, ‘লাকি : নো টাইম ফর লাভ’ এবং ‘বাজরঙ্গি ভাইজান’ ছবিগুলোর জন্য গান করেছেন এই শিল্পী। নিজের ২৩০ কেজি ওজন অর্ধেকে নামিয়ে এনেও আলোচনায় এসেছিলেন সামি। শিগগিরই বলিউডে নতুন কিছু কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। হিন্দুস্তান টাইমস।