নব্বইয়ের দশকের বলিউডে ঝড় তুলেছিল যেসব প্রেমের গুঞ্জন। কোলাজ
নব্বইয়ের দশকের বলিউডে ঝড় তুলেছিল যেসব প্রেমের গুঞ্জন। কোলাজ

সঞ্জয়-মাধুরী থেকে অক্ষয়-শিল্পা, নব্বইয়ের দশকের বলিউডে ঝড় তুলেছিল যেসব প্রেমের গুঞ্জন

নব্বইয়ের দশকের বলিউডকে মনে করলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে একের পর এক তারকা—শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান, অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগন, সঞ্জয় দত্ত, গোবিন্দ, মাধুরী দীক্ষিত, কাজল, কারিশমা কাপুর, রাভিনা ট্যান্ডন, শিল্পা শেঠি, নীলম কোঠারি, পূজা ভাট। সিনেমার পর্দায় তাঁরা যতটা আলোচিত ছিলেন, পর্দার বাইরেও ততটাই।

আজকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না। কোনো তারকার ব্যক্তিগত ছবি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ত না, তাঁদের নিজের বক্তব্যও সরাসরি ভক্তদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ ছিল সীমিত। ফলে তারকাদের নিয়ে খবরের বড় উৎস ছিল ফিল্ম ম্যাগাজিন, ট্যাবলয়েড আর নানা গসিপ কলাম। সহশিল্পীর সঙ্গে একটু বেশি ঘনিষ্ঠতা, একসঙ্গে কয়েকটি ছবি, শুটিং সেটে দীর্ঘ সময় কাটানো—এসব থেকেই তৈরি হতো প্রেমের গল্প।
কিছু সম্পর্ক সত্যিই প্রেমে গড়িয়েছিল, কিছু শেষ হয়েছিল বিয়েতে, আবার কিছু ছিল শুধুই পর্দার রসায়ন আর সংবাদমাধ্যমের অনুমান। নব্বইয়ের দশকের সেই আলোচিত সম্পর্কগুলোর কয়েকটি আজও বলিউডের ইতিহাসের অংশ।

গোবিন্দ-নীলম: বন্ধুত্বের আড়ালে সত্যিই কি ছিল প্রেম        
গোবিন্দ ও নীলম কোঠারির জুটি নব্বইয়ের দশকের আগেই দর্শকের পরিচিত হয়ে উঠেছিল। ‘ইলজাম’, ‘লাভ ৮৬’, ‘খুদগর্জ’, ‘গর কা চিরাগ’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে তাঁদের জুটি জনপ্রিয় হয়। পর্দায় তাঁদের রসায়ন এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে খুব দ্রুতই সেই সম্পর্ক বাস্তব জীবনে গড়িয়েছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

গোবিন্দ ও নীলম। আইএমডিবি

এই গল্পের বিশেষত্ব হলো গোবিন্দ নিজেই বহু বছর আগে নীলমের প্রতি তাঁর আকর্ষণের কথা স্বীকার করেছিলেন। ১৯৯০ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, একসঙ্গে অনেক ছবি করার কারণে নীলমের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব হয়, আর তাঁকে যত চিনেছেন, ততই পছন্দ করেছেন। এমনকি তিনি বলেছিলেন, নীলম এমন একজন নারী, যাঁর প্রেমে যেকোনো পুরুষ পড়তে পারেন—এবং তিনিও পড়েছিলেন।

গোবিন্দের বক্তব্য আরও চমকপ্রদ। তিনি জানিয়েছিলেন, তখন তাঁর বর্তমান স্ত্রী সুনীতার সঙ্গে বাগ্‌দান ভেঙে দিয়েছিলেন এবং নীলমকে বিয়ে করার কথাও ভেবেছিলেন। তাঁর ভাষায়, সুনীতা যদি কয়েক দিন পর তাঁকে আবার যোগাযোগ না করতেন, তাহলে হয়তো তিনি নীলমকেই বিয়ে করতেন।

কিন্তু নীলমের বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারেও তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। সংবাদমাধ্যমের নানা গল্পের জবাব দেওয়ার সুযোগও তাঁরা সব সময় পেতেন না।

অর্থাৎ গোবিন্দের দিক থেকে আকর্ষণ ছিল—এটা তাঁর নিজের বক্তব্যেই স্পষ্ট। কিন্তু নীলম সেই সম্পর্ককে প্রেম হিসেবে স্বীকার করেননি। তাই এই গল্পের সবচেয়ে নিরাপদ সংজ্ঞা—গভীর আকর্ষণ ও ঘনিষ্ঠতার গল্প, কিন্তু দুজনের স্বীকৃত প্রেম নয়।

অক্ষয়-রাভিনা: বাগ্‌দান পর্যন্ত গিয়েও শেষ হয়নি যে সম্পর্ক
নব্বইয়ের দশকের প্রেমের গল্প বললে অক্ষয় কুমার ও রাভিনা ট্যান্ডনের নাম আসবেই। মোহরা তাঁদের ক্যারিয়ারে বড় সাফল্য এনে দেয়। পর্দার রোমান্টিক জুটি ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনেও কাছাকাছি চলে আসে।

দুজনের সম্পর্ক যে নিছক গুঞ্জন ছিল না, সেটি পরবর্তী সময়ে রাভিনা নিজেই নানা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তাঁদের সম্পর্ক বাগ্‌দান পর্যন্ত গিয়েছিল বলেও তিনি কথা বলেছেন। অক্ষয়ও পরবর্তী সময়ে জানিয়েছেন, বিয়ে হয়নি, তবে বাগ্‌দান হয়েছিল এবং সেটি পরে ভেঙে যায়। ১৯৯৮ সালের একটি সাক্ষাৎকারে অক্ষয়কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরিষ্কার করে বলেছিলেন, তাঁরা বিবাহিত ছিলেন না—শুধু বাগ্‌দান হয়েছিল, যা পরে ভেঙে যায়।

‘মোহরা’ ছবির সেট থেকে অক্ষয় কুমার ও রাভিনা টেন্ডনের প্রেমের শুরু। ছবি ইউটিউব থেকে নেওয়া

এই সম্পর্কের ভাঙনও নব্বইয়ের দশকের বলিউডে বড় খবর হয়ে ওঠে। পরে অক্ষয়ের সঙ্গে শিল্পা শেঠির সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ায়। পুরোনো সেই অধ্যায় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রবীনা বলেছেন, সময় অনেক কিছু বদলে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, কে জীবনে ‘লিংক-আপ’ আর ‘ব্রেক-আপ’-এর মধ্য দিয়ে যায়নি? এখন অক্ষয় ও শিল্পা—দুজনের সঙ্গেই তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। একসময় যে সম্পর্ক নিয়ে ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ সরগরম থাকত, সময়ের সঙ্গে সেটিই পরিণত হয়েছে অতীতের একটি অধ্যায়ে।

অক্ষয়-শিল্পা: প্রেম, অভিযোগ আর ভাঙনের গল্প
অক্ষয় কুমারের সঙ্গে শিল্পা শেঠির সম্পর্ক নব্বইয়ের দশকের অন্যতম আলোচিত প্রেমের গল্প। ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়িসহ কয়েকটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সময় তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে খবর প্রকাশিত হয়।

এই সম্পর্ক যে সত্যিই ছিল, তা পরে দুজনের বক্তব্যেই পরিষ্কার হয়। কিন্তু শেষটা ছিল তিক্ত। ২০০০ সালে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর শিল্পা এক সাক্ষাৎকারে অক্ষয়ের বিরুদ্ধে তাঁকে প্রতারণা করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, তিনি কখনো ভাবেননি যে অক্ষয় তাঁদের সম্পর্ক চলাকালীন একই সময়ে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অক্ষয় তাঁকে ব্যবহার করেছেন এবং অন্য কাউকে পাওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন।

সেই ‘অন্য কেউ’ ছিলেন টুইঙ্কল খান্না। অক্ষয় ও টুইঙ্কলের সম্পর্ক তখন নতুন করে আলোচনায় আসে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা ২০০১ সালে বিয়ে করেন।
অক্ষয়-শিল্পার গল্প তাই শুধু প্রেমের গুঞ্জন ছিল না; এটি ছিল এমন এক সম্পর্ক, যার অস্তিত্ব দুই পক্ষের বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে সম্পর্কের ভাঙনের কারণ নিয়ে দুজনের বয়ানে পার্থক্য ছিল।

অজয় দেবগন-কারিশমা কাপুর: নব্বইয়ের দশকের আরেক আলোচিত জুটি
অজয় দেবগন ও কারিশমা কাপুরের সম্পর্কও একসময় বলিউডের গসিপ পাতার নিয়মিত বিষয় ছিল। ‘জিগর, ‘শক্তিমান’সহ একাধিক ছবিতে তাঁরা একসঙ্গে অভিনয় করেন। তাঁদের ঘনিষ্ঠতা থেকেই প্রেমের গুঞ্জন ছড়ায়।

সিনেমার দৃশ্যে অক্ষয় কুমার ও শিল্পা শেঠি। আইএমডিবি

১৯৯৩ সালে স্টারডাস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারিশমা অবশ্য বেশ স্পষ্টভাবেই সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁরা ‘শুধুই বন্ধু’। অজয় তাঁকে ভালোবাসেন কি না, সেটিও তিনি জানেন না। বরং অনেকগুলো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করা এবং একটি ঘটনায় অজয়ের তাঁকে সাহায্য করাকে কেন্দ্র করেই মানুষ তাঁদের সম্পর্ককে প্রেম হিসেবে দেখছে—এমনটাই জানিয়েছিলেন কারিশমা।
এমনকি তাঁদের বিয়ে হতে যাচ্ছে—এমন খবরও সে সময় ছড়িয়েছিল। কারিশমা সেই খবরকে ‘বোকামি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

পরে অজয়ের জীবনে কাজল আসেন। আর কারিশমার জীবনের পথও অন্যদিকে বাঁক নেয়। ফলে অজয়-কারিশমার গল্প আজ মূলত নব্বইয়ের দশকের একটি আলোচিত অধ্যায়—যেখানে সম্পর্কের গুঞ্জন ছিল প্রবল, কিন্তু দুজনের পক্ষ থেকে প্রেমের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

অজয়-কাজল: গুঞ্জন থেকে সত্যিকারের সংসার
নব্বইয়ের দশকের সব প্রেমের গল্প অবশ্য গুঞ্জনে শেষ হয়নি। অজয় দেবগন ও কাজলের গল্প তার সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ। দুজনের প্রেম শুরু হয় ১৯৯৪ সালের দিকে। তাঁদের জুটি ছিল অদ্ভুত—কাজল প্রাণবন্ত, প্রকাশ্য স্বভাবের; অজয় তুলনামূলকভাবে শান্ত, অন্তর্মুখী। সে কারণেই তাঁদের নিয়ে প্রথম দিকে অনেকেই বিস্মিত ছিলেন।

কাজল পরে জানিয়েছেন, তাঁরা প্রায় চার বছর প্রেম করার পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কোনো নাটকীয় প্রস্তাব ছিল না। দুজনেই বুঝেছিলেন যে তাঁরা একসঙ্গে জীবন কাটাতে চান।

১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁরা বিয়ে করেন। এমনকি বিয়েটি গণমাধ্যমের চোখের আড়ালে রাখার জন্য ভুল জায়গার তথ্যও দেওয়া হয়েছিল। কাজলের বাবা প্রথমে বিয়েতে রাজি ছিলেন না; মেয়ের ক্যারিয়ারের এত ভালো সময়ে কেন বিয়ে করতে চাইছেন, তা নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল।

এই জুটি প্রমাণ করেছে, নব্বইয়ের দশকের বলিউডের সব ‘লিংক-আপ’ যে গসিপ ছিল, তা নয়। কিছু সম্পর্ক সত্যিই সময়ের পরীক্ষায় টিকে গেছে।

মাধুরী দীক্ষিত ও সঞ্জয় দত্ত। আইএমডিবি

সঞ্জয় দত্ত-মাধুরী দীক্ষিত: সবচেয়ে রহস্যময় প্রেমের গুঞ্জন
নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে আলোচিত অথচ সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত সম্পর্কগুলোর একটি সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দীক্ষিতের কথিত প্রেম। ‘সাজন’ ছবির সময় তাঁদের পর্দার রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এরপর খলনায়কসহ একাধিক ছবিতে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। খুব দ্রুতই ম্যাগাজিনে তাঁদের প্রেম, এমনকি বিয়ের সম্ভাবনা নিয়েও খবর প্রকাশিত হতে থাকে।
কিন্তু দুজনেই সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছিলেন। এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে মাধুরীকে যখন সঞ্জয়ের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি তা স্পষ্টভাবে নাকচ করেন। পরে সঞ্জয়কে একই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, মাধুরীর বক্তব্যে তিনি আহত হননি। বরং সহশিল্পীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্ক তৈরি করা তাঁর কাজেরই অংশ।

সঞ্জয় আরও জানিয়েছিলেন, ‘সাজন’-কে ঘিরে তাঁদের প্রেমের গুঞ্জন ছড়ানোর পর তিনি মাধুরীর কাছে গিয়ে এ জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন। অর্থাৎ গুঞ্জন এতটাই বড় হয়েছিল যে সেটি তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও অস্বস্তি তৈরি করেছিল।
সঞ্জয়ের ১৯৯৩ সালের একটি বক্তব্যও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মাধুরী সম্পর্ক অস্বীকার করার পর তাঁকে যখন এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি বলেন, এতে তাঁর কিছু যায়-আসে না। বরং মাধুরীর সঙ্গে কাজের সম্পর্কই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

পরবর্তী সময়ে সঞ্জয়ের আইনি জটিলতা ও গ্রেপ্তারের পর তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন আরও নানা দিকে মোড় নেয়। কিন্তু আজও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—দুজনেই প্রকাশ্যে প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করেছিলেন।

আমির খান ও পূজা ভাট। আইএমডিবি

আমির খান-পূজা ভাট: পর্দার প্রেমের বাইরে ছিল ‘স্পার্ক’
১৯৯১ সালের ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’ নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় রোমান্টিক ছবি। আমির খান ও পূজা ভাটের রসায়ন ছিল ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ। তখন আমির বিবাহিত ছিলেন। ফলে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বাস্তব জীবনেও প্রেমের গুঞ্জন ছড়ায়।

তবে বহু বছর পর পূজা ভাট নিজেই এই সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে কথা বলেছেন। ২০২৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, ছবিটির শুটিংয়ের সময় তাঁদের মধ্যে একটি ‘স্পার্ক’ ছিল। এমনকি ক্যামেরার সামনে তাঁরা যেন সত্যিই প্রেমে পড়েছিলেন। তবে সেই অনুভূতি বাস্তব সম্পর্কের দিকে এগোয়নি।

পূজার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তিনি গুঞ্জনকে পুরোপুরি অস্বীকার করেননি, আবার এটিকে প্রেমের সম্পর্কও বলেননি। তাঁদের মধ্যে প্রবল রসায়ন ছিল, বন্ধুত্ব ছিল, একে অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশাও করতেন; কিন্তু সেটি ‘কিছু একটা’ হওয়ার পর্যায়ে যায়নি।

নব্বইয়ের দশকের সিনেমায় অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে এমন রসায়ন থেকেই যে কত গল্প তৈরি হতো, আমির-পূজার ঘটনাটি তার ভালো উদাহরণ।

সালমান খান-ঐশ্বরিয়া রাই : সবচেয়ে আলোচিত প্রেম?
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগের সবচেয়ে আলোচিত প্রেমের গল্প সম্ভবত সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের। ১৯৯৯ সালের ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ ছবিতে তাঁদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। ছবিটির শুটিংয়ের সময় তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং পরে প্রেমের সম্পর্কের খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে, ১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া এই সম্পর্ক প্রায় তিন বছর স্থায়ী হয়েছিল।

তবে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। তাঁদের প্রেম নিয়ে বিপুল আলোচনা হলেও দুজনেই দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে বিস্তারিত কথা বলেননি। ফলে সম্পর্কের নানা ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যে গল্প প্রকাশিত হয়েছে, তার অনেকটাই ছিল সূত্রনির্ভর।

শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পর ঐশ্বরিয়া ২০০২ সালে প্রকাশ্যে সালমানের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। পরবর্তী এক বিবৃতিতে তিনি ‘মৌখিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন’, ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ ও ‘অমর্যাদা’র অভিযোগ তোলেন এবং জানান যে তিনি সালমানের সঙ্গে আর কাজ করতে চান না।

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও সালমান খান। আইএমডিবি

এই সম্পর্কের শেষ অধ্যায় নব্বইয়ের দশকের বাইরে গিয়ে ২০০২ সালে পৌঁছালেও এর শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে। তাই নব্বইয়ের দশকের বলিউডের প্রেমের ইতিহাসে সালমান-ঐশ্বরিয়ার নাম আলাদা করে থেকেই যায়।
নব্বইয়ের দশকের প্রেমের গল্পগুলো এত জনপ্রিয় হয়েছিল কেন
আজকের দিনে কোন তারকা কার সঙ্গে ডিনারে গেলেন, কার সঙ্গে ছবি তুললেন কিংবা কোথায় ছুটি কাটালেন—সবকিছু কয়েক মিনিটের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে সেই সুযোগ ছিল না।

তখন তারকাদের ব্যক্তিজীবনের দরজা ছিল অনেকটাই বন্ধ। ফলে একটি শুটিং সেটে কে কার দিকে তাকালেন, কে কার জন্মদিনে গেলেন, কোন তারকা কোন সহশিল্পীর সঙ্গে বেশি সময় কাটালেন—এসবই হয়ে উঠত খবর। ফিল্ম ম্যাগাজিনগুলোর ব্যবসাও অনেকাংশে নির্ভর করত এই গসিপের ওপর। ফলে একটি সম্পর্কের খবর একবার প্রকাশিত হলে সেটি নিয়ে একের পর এক কভার স্টোরি তৈরি হতো। কখনো সম্পর্ক সত্যি ছিল, কখনো ছিল বন্ধুত্ব, কখনো ছিল কেবল পর্দার রসায়ন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও বলিউড শাদিজ অবলম্বনে