
বলিউড তারকা শ্রদ্ধা কাপুরের পরিবার একাধিকবার বিতর্কে পড়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শ্রদ্ধার খালা তেজস্বিনী কোলহাপুরে ফিরে গেলেন সেই সময়ে, যখন মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন শ্রদ্ধার ভাই সিদ্ধান্ত কাপুর। সে সময় বাড়ির বাইরে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা স্লোগান ও বিক্ষোভ করায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন শ্রদ্ধা।
তেজস্বিনী জানান, ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে শ্রদ্ধা কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সেদিন বাড়ির বাইরে এক রাজনৈতিক দলের কর্মীরা স্লোগান দিচ্ছিল। ঘরের ভেতরে শ্রদ্ধা আর সিদ্ধান্ত দুজনেই কাঁদছিল। পরিস্থিতিটা খুবই ভয়ংকর ছিল। তারা মানসিকভাবে খুব প্রভাবিত হয়েছিল।’
‘ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিলেন সিদ্ধান্ত’
তেজস্বিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বেঙ্গালুরুতে একটি নামী হোটেলে আয়োজিত রেভ পার্টিতে সিদ্ধান্ত কাপুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, সেখানে তিনি মাদক সেবন করেছিলেন। তবে পরিবার বরাবরই দাবি করে আসছে, সিদ্ধান্ত আসলে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিলেন।
তেজস্বিনী বলেন, ‘সে ভুল জায়গায় ছিল, ভুল সময়ে। সে যেহেতু এই পরিবারের সদস্য, তাই বিষয়টা আরও বেশি আলোচনায় চলে আসে। কিন্তু সে মাদকের সঙ্গে জড়িত নয়।’ তিনি আরও জানান, পার্টিতে কেউ তাকে একটি পানীয় অফার করেছিলেন, পরে সেই ঘটনার জেরেই বিষয়টি বড় আকার নেয়। পরে জামিনে মুক্তি পান সিদ্ধান্ত।
গণমাধ্যমে অতিরঞ্জন
তেজস্বিনী অভিযোগ করেন, পুরো বিষয় গণমাধ্যমে অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরা হয়। তাঁর কথায়, ‘সংবাদমাধ্যম বিষয়টাকে অনেক বড় করে দেখিয়েছে। তার নাম পত্রিকার সর্বত্র ছাপা হয়েছে। এতে তার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তেজস্বিনী আরও বলেন, সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করা একজন ডিজে। এমন একটি মামলায় নাম জড়ালে তাঁর পেশাগত জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ‘কে কার সঙ্গে ওঠাবসা করে, তা নিয়েই মানুষ খুব দ্রুত বিচার করে,’ বলেন তেজস্বিনী।
রাজনৈতিক বিক্ষোভে মানসিক আঘাত
তেজস্বিনী জানান, শুধু আইনি জটিলতাই নয়, রাজনৈতিক বিক্ষোভ পরিবারের ওপর বড় মানসিক চাপ তৈরি করে। একদিন হঠাৎই একটি রাজনৈতিক দল তাঁদের বাড়ির বাইরে স্লোগান দিতে শুরু করে। এতে শ্রদ্ধা ও সিদ্ধান্ত—দুজনেই ভেঙে পড়েন।
‘ওরা দুজনেই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। বাড়ির ভেতরে কান্নাকাটি চলছিল। বিষয়টা এমনভাবে বড় করা হয়েছিল, যা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়,’ বলেন তেজস্বিনী।
নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ
এ ছাড়া সম্প্রতি বড় একটি মাদক চক্রের তদন্তের সূত্র ধরে মুম্বাই পুলিশের কাছে হাজির হয়ে বক্তব্যও দিতে হয়েছে সিদ্ধান্তকে। একটি মাদক মামলার তদন্তে তাঁর নাম উঠে আসায় পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। তবে পরিবার দাবি করছে, এতে তাঁর কোনো সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই।
শ্রদ্ধার শৈশব ও পরিবারের সমর্থন
একই সাক্ষাৎকারে তেজস্বিনী শ্রদ্ধা কাপুরের শৈশবের কিছু মজার স্মৃতিও ভাগ করে নেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় শ্রদ্ধার ডাকনাম ছিল ‘ললি’। পরিবারে তাঁকে খুব আদরের সঙ্গে বড় করা হয়েছে।
তেজস্বিনী আরও জানান, শ্রদ্ধার বাবা শক্তি কাপুর কখনোই মেয়ের অভিনয়জগতে আসার বিরোধিতা করেননি। ‘শক্তি জানতেন, শ্রদ্ধা ছোটবেলা থেকেই নিজের মতো করে ভাবতে জানে। সে সব সময় নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিয়েছে। বাবার খুব প্রিয় সন্তান সে,’ বলেন তেজস্বিনী।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে