'ওমকারা'য় সাইফ। আইএমডিবি
'ওমকারা'য় সাইফ। আইএমডিবি

নগ্ন হয়ে অভিনয়ের প্রস্তাব পরিচালকের, সাইফ বললেন...

২৮ জুলাই মুক্তির ২০ বছর পূর্ণ করছে ‘ওমকারা’। সেই উপলক্ষে ছবিটির অন্যতম অভিনেতা সাইফ আলী খান ফিরে দেখলেন শুটিংয়ের নানা স্মৃতি। জানালেন, পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ একসময় তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে নগ্ন হয়ে অভিনয় করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি।

দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাইফ বলেন, ছবির একটি দীর্ঘ সংলাপের দৃশ্য নিয়ে বিশাল ভরদ্বাজের ভিন্ন পরিকল্পনা ছিল।

‘ছবির একটি দৃশ্য ছিল, যেখানে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে অনেক লম্বা সংলাপ বলতে হতো। বিশালজি হঠাৎ বললেন, “নগ্ন হয়ে দৃশ্যটা করতে আপত্তি আছে?” ভাবনাটা খুবই রোমাঞ্চকর ছিল। কিন্তু সেটে তখন অনেক লোকজন ছিল বলে একটু সংকোচ বোধ করছিলাম। আমি তাঁকে বলেছিলাম, আপনি যদি নিজে আমাকে নগ্ন হয়ে পরিচালনা করেন, তাহলে আমি করব। তিনি বললেন, “না, আমি সেটা করব না।” ঘটনাটা এখন ভাবলে বেশ মজার লাগে।’

‘ওমকারা’ সিনেমায় সাইফ ও অজয়। আইএমডিবি

এখন ফিরে তাকিয়ে সাইফের মনে হয়, প্রস্তাবটি মেনে নিলেই ভালো হতো। ‘এখন ভাবলে আমার আপত্তি থাকত না। পেছন দিক থেকে, সিলুয়েট আকারে শুট করা হতো। আমার মনে হয়, দারুণ লাগত। তখন আমরা নতুন নতুন অনেক কিছু করার চেষ্টা করছিলাম। এটা তারই একটি অংশ হতে পারত। আজ যদি এমন প্রস্তাব আসে, আমি করব,’ বলেন তিনি।

একটি দৃশ্য, শেষ মুহূর্তে বদলে গেল পুরো পরিকল্পনা
সাইফ আরও জানান, শুটিংয়ের ঠিক আগে ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের ধারণাই বদলে দেন বিশাল ভরদ্বাজ।

সাইফের ভাষ্যে, ‘একটি দীর্ঘ সংলাপ ছিল, যেখানে আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিশোধের কথা বলছিলাম। শুটিংয়ের ঠিক আগে বিশালজি এসে বললেন, “আমি চাই না তুমি কোনো সংলাপ বলো। আমার একটা নতুন ধারণা এসেছে।”’
পরিচালকের সেই পরিকল্পনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাইফ বলেন, ‘তিনি বললেন, “তুমি আয়নার সামনে দাঁড়াবে। আমি ট্রলিতে ক্যামেরা নিয়ে তোমার পেছন থেকে এগোব। হাতে একটা ভারী ধাতব বস্তু—ধরো হাতুড়ির মতো—দেওয়া হবে। সেটা দিয়ে তুমি আয়নাটা ভেঙে ফেলবে। আশা করছি, ভাঙা আয়নায় তোমার মুখের প্রতিফলন নানা টুকরোয় ভাগ হয়ে যাবে। আঘাতে হাত কেটে রক্ত বের হবে, সেই রক্ত কপালজুড়ে মেখে নেবে। তখনই বোঝা যাবে, তুমি প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত। কোনো সংলাপের দরকার নেই।”’

‘ওমকারা’ সিনেমায় সাইফ ও অজয়। আইএমডিবি

সাইফ বলেন, ওই মুহূর্তেই তিনি বুঝেছিলেন, পরিচালক ঠিকই বলছেন। ‘আমি মনে মনে বলেছিলাম, হ্যাঁ, ঠিকই তো। সংলাপের দরকার নেই। একটি দৃশ্যেই সবকিছু বলে দেওয়া সম্ভব। এটা ছিল কতটা সংযত আর বুদ্ধিদীপ্ত ভাবনা! “ওমকারা”র শুটিংয়ে এমন অনেক সৃজনশীল মুহূর্ত ছিল,’ বলেন তিনি।

ল্যাংড়া ত্যাগীর চরিত্রে আগে ছিলেন আমির খান
এর আগে ফিল্ম কম্প্যানিয়নকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাইফ আলী খান জানিয়েছিলেন, পরে শুনেছেন যে ল্যাংড়া ত্যাগীর চরিত্রে প্রথমে আমির খানের কথা ভাবা হয়েছিল।

সাইফ বলেন, ‘হ্যাঁ, পরে এমনটাই শুনেছি। বিশাল বলেছিলেন, “আমির অনেক প্রশ্ন করছিলেন এবং কিছু পরিবর্তনও চাইছিলেন।”’

সাইফ আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমিরের সঙ্গে শুধু আলোচনা হয়েছিল। বিশাল নাকি বলেছিলেন পরে জানাবেন, কিন্তু পরে আমাকে ফোন করেন। তিনি মনে করেছিলেন, আমির যেভাবে চরিত্রটি দেখতে চাইছিলেন, সে পথে তিনি যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন না।’

সাইফের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা চরিত্র
উইলিয়াম শেক্‌সপিয়ারের ‘ওথেলো’ অবলম্বনে নির্মিত ‘ওমকারা’ হিন্দি সিনেমার অন্যতম প্রশংসিত সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র। উত্তর ভারতের গ্রামীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার পটভূমিতে নির্মিত ছবিটিতে ক্ষমতা, জাতপাত ও পিতৃতন্ত্রের মতো বিষয় উঠে এসেছে।

ছবিতে ল্যাংড়া ত্যাগী চরিত্রে সাইফ আলী খানের অভিনয় আজও তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। সম্প্রতি তাঁকে দেখা গেছে ‘কার্তব্য’ ছবিতে।