শেহনাজ গিল। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
শেহনাজ গিল। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ভিউ পাওয়ার আশায় খারাপ শিরোনাম হয়, মন্তব্য শেহনাজের

শেহনাজ গিলকে নিয়ে আলোচনা কমে না। কখনো তাঁর অভিনয়, কখনো ব্যক্তিজীবন, আবার কখনো কোনো মন্তব্য—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় নানা গুঞ্জন। সম্পর্কের গুজব থেকে শুরু করে ট্রল, ভুল ব্যাখ্যা কিংবা কথার সামান্য এদিক–ওদিকও কখনো কখনো খবরের শিরোনাম হয়ে যায়। তবে এসব নিয়ে খুব একটা বিচলিত নন এই অভিনেত্রী। বরং নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় বিষয়গুলো সামলান তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেহনাজকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁকে ঘিরে নানা গুজব ও নেতিবাচক খবর কীভাবে সামলান। উত্তরে তাঁর কথাতেই ছিল মজা। শেহনাজ বলেন, যাঁরা তাঁকে নিয়ে এমন খবর করেন, তাঁদের উদ্দেশ্য তিনি বুঝতে পারেন—ভিউ পাওয়া। তাঁর কথায়, ভালো খবর দিয়ে যদি কারও তেমন লাভ না হয়, তাহলে নেতিবাচক বা চমকপ্রদ শিরোনাম দিয়েই হয়তো পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয়।

শেহনাজের ভাষায়, ‘যাঁরা খবরের শিরোনাম দেন তাঁদের উদ্দেশ্য আমি বুঝতে পারি। তাঁরা ভিউ চান। খারাপ শিরোনাম না দিলে খবরই বা কীভাবে বিক্রি হবে? আমি যদি কথার মধ্যে কোনো ভুল করে ফেলি, আর সেটাই শিরোনাম হয়ে যায়, তখন আমি শুধু প্রার্থনা করি, আমার কারণে বেচারাদের যেন কিছু ভিউ হয়। এত ভালো কথা বলে তো আমার কোনো লাভ হয়নি, অন্তত কারও একটা উপকার হোক।’

গুরুতর কোনো অভিযোগের জবাব দেওয়ার বদলে এভাবে রসিকতা করেই বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা শেহনাজের স্বভাবের সঙ্গে বেশ মানানসই। কারণ, নিজের এই হাস্যরসকে তিনি কোনো কৃত্রিম কৌশল মনে করেন না। তাঁর মতে, এটা তাঁর ব্যক্তিত্বেরই অংশ।

‘আমি কমেডি করি না, কমেডি হয়ে যায়’
নিজের এমন রসিক স্বভাবের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে শেহনাজ বলেন, এর পেছনে রয়েছে তাঁর পাঞ্জাবি শিকড়। তাঁর ভাষায়, ‘পাঞ্জাবি রক্ত তো, তাই আমি কমেডি করি না, কমেডি হয়ে যায়। মানুষ এটাকে মজার মনে করে, পছন্দও করে। আমি আসলে চেষ্টা করে এমন করি না, স্বাভাবিকভাবেই হয়ে যায়।’

এই স্বাভাবিকতাই সম্ভবত শেহনাজের জনপরিচিতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তারকাদের অনেকেই ক্যামেরার সামনে নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা করেন। শাহনাজ বরং নিজের কথাবার্তা ও আচরণে অনেকটাই স্বতঃস্ফূর্ত থাকার চেষ্টা করেন।
আর সেই জায়গাটিই ধরে রাখতে চান তিনি। কারণ, খ্যাতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশাও বাড়ে। কখন কী বলা উচিত, কীভাবে হাঁটতে হবে, সংবাদমাধ্যমের সামনে কীভাবে আচরণ করতে হবে—এসব নিয়ে তাঁকে পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অন্যের নির্দেশে নিজেকে বদলাতে রাজি হননি শেহনাজ।

শেহনাজ বলেন, ‘আমি কখনো কাউকে আমাকে প্রভাবিত করতে দিইনি—কীভাবে কথা বলব, হাঁটব বা সংবাদমাধ্যমের সামনে কীভাবে আচরণ করব। আমাকে অনেক কিছু বলা হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, তুমি যা, সেটাই থাকো। নিজেকে সত্যি করে তুলে ধরতে পারলে মানুষ তোমাকে গ্রহণ করবে।’

শেহনাজ গিল। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থৈকে

কেন শেহনাজ আর শ্রদ্ধার নাম একসঙ্গে?
নিজের স্বভাবের প্রতি এই আস্থার ফল যে তিনি পাচ্ছেন, তার একটি মজার উদাহরণও দিয়েছেন শেহনাজ। বিমানবন্দরে একদিন দুই আলাদা ব্যক্তি প্রায় একই ধরনের কথা বলেছিলেন তাঁকে। দুজনই বলেছিলেন, তাঁরা শেহনাজ ও অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরের সঙ্গে দেখা করতে চান।

প্রথমবার এমন কথা শুনে বিষয়টিকে কাকতালীয় ভেবেছিলেন শেহনাজ। কিন্তু একই দিনে দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছ থেকেও একই কথা শুনে তাঁর কৌতূহল হয়। তিনি জানতে চান, কেন তাঁর সঙ্গে একই নিশ্বাসে শ্রদ্ধার নাম নেওয়া হচ্ছে।
তখন ওই ব্যক্তিরা তাঁকে জানান, দুজনের মধ্যেই তাঁরা একটি মিল খুঁজে পান—দুজনেই নিজেদের মতো থাকেন এবং নিজেদের ভাষা ও শিকড়কে ভালোবাসেন।

শেহনাজ বলেন, ‘একবার হলে কাকতালীয় মনে হতো। কিন্তু দুবার একই কথা শুনে আমি জানতে চাইলাম, কেন আপনারা দুজনের নাম একসঙ্গে বলছেন? তাঁরা বললেন, “আপনি যেমন, তেমনই থাকেন। আপনি নিজের ভাষাকে ভালোবাসেন, তিনিও (শ্রদ্ধা) তেমন।” তখন আমার মনে হলো, দুজন মানুষ যদি এভাবে ভাবেন, তাহলে আরও কত মানুষ হয়তো একইভাবে ভাবেন।’

পাঞ্জাবি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক
শেহনাজের জনপ্রিয়তার একটি বড় অংশ তাঁর পাঞ্জাবি পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত। তিনি মনে করেন, পাঞ্জাবি গণমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও সময়ের সঙ্গে বদলেছে।
একসময় সেখানেও তাঁকে অন্যদের মতোই সাধারণভাবে দেখা হতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। শেহনাজের ভাষায়, পাঞ্জাবি গণমাধ্যমের অনেকেই এখন তাঁর সঙ্গে দেখা হলে জড়িয়ে ধরেন এবং বলেন, তাঁকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবেন, কারণ তিনি তাঁদের হৃদয় জয় করেছেন।

হিন্দি গণমাধ্যম থেকেও ভালোবাসা পান বলে জানিয়েছেন শেহনাজ। তবে দুই পক্ষের ভালোবাসার ধরন তাঁর কাছে আলাদা।

শেহনাজ বলেন, ‘পাঞ্জাবি গণমাধ্যমও একসময় আমার সঙ্গে খুব স্বাভাবিকভাবেই আচরণ করত। জানি না কী বদলে গেল। এখন সেখানকার সবাই এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তাঁরা আমাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবেন, কারণ আমি তাঁদের হৃদয় জয় করেছি। হিন্দি গণমাধ্যমও আমাকে ভালোবাসে, তবে তাঁদের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, সেটার অনুভূতি একটু আলাদা।’

শেহনাজ গিল। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

‘মানুষ আমার যাত্রার সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারে’
শেহনাজের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অবশ্য জনপ্রিয়তা নয়। তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে তখনই, যখন কেউ তাঁর জীবনযাত্রা বা ক্যারিয়ারের সঙ্গে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পান।

সাক্ষাৎকারে শেহনাজ বলেন, মানুষ যখন তাঁকে জানায় যে তাঁর পথচলা তাদের অনুপ্রাণিত করে, তখন নিজেকে বিশেষ মনে হয়। এত মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার পর কখনো কখনো তাঁর নিজেরও মনে হয়, হয়তো জীবনে কিছু একটা ঠিকই করেছেন।

শেহনাজ বলেন, ‘মানুষ যখন আমাকে বলে যে তারা আমার যাত্রা থেকে অনুপ্রেরণা পায়, আমার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পায়, তখন খুব বিশেষ লাগে। আমি এত ভালোবাসা পেয়েছি যে কখনো কখনো আমার নিজেরও মনে হয়, নিশ্চয়ই আমি কিছু একটা ঠিক করেছি।’

একসময় রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া শেহনাজ গিল এখন অভিনয়েও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। হিন্দি ও পাঞ্জাবি বিনোদনজগতে কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর বড় অনুসারী গোষ্ঠী রয়েছে। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি পাঞ্জাবি সিনেমা ‘সিং বনাম কৌর ২’।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে