বলিউড অভিনেতা সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী আজ বলিউডের জনপ্রিয় মুখগুলোর মধ্যে অন্যতম। ‘গাল্লি বয়’-এর মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান; সিনেমাটির সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও জেতেন। এরপর ‘বান্টি অউর বাবলি ২’, ‘ফোন ভূত’, ‘গেহরাইয়া’, ‘খো গায়ে হাম কাহাঁ’, ‘ধড়ক ২’–এর মতো বিভিন্ন ধারার ছবিতে অভিনয় করেছেন এই তরুণ অভিনেতা। এবার ‘দো দিওয়ানে শহর মেঁ’ ছবিতে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে ধরা দিয়েছেন সিদ্ধান্ত। এ ছবিতে তিনি জুটি বেঁধেছেন ম্রুণাল ঠাকুরের সঙ্গে। রবি উদয়বার পরিচালিত ছবিটি সাধারণ মানুষ থেকে চিত্রসমালোচকের মন জয় করেছে। প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সিদ্ধান্ত নিজের লড়াই, অনিশ্চয়তা, স্বপ্ন ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
‘দো দিওয়ানে শহর মেঁ’ প্রযোজনা করেছেন সঞ্জয় লীলা বানসালি। তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত বলেন, ‘এ অভিজ্ঞতা কখনো ভোলার নয়। প্রথমবার যখন চিত্রনাট্য শুনলাম এবং ওনার সঙ্গে দেখা হলো, তখনই বুঝেছিলাম ছবিটা ওনার হৃদয়ের খুব কাছের। কোথাও না কোথাও তিনি নিজেকে এই গল্পের দুই প্রধান চরিত্রের মধ্যে দেখেন। সেটা ছবিটাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। একই সঙ্গে আমার ওপর একটা চাপও ছিল। মনে হচ্ছিল, আমি কি এই চরিত্রের প্রতি সুবিচার করতে পারব? বানসালি স্যারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব? কিন্তু কাজ শুরু করার পর দেখলাম উনি কতটা সংবেদনশীল ও সৃজনশীলভাবে পরামর্শ দেন।’
সিদ্ধান্ত আরও বলেন, ‘অনেকে তাঁকে কঠোর বলে মনে করেন, কিন্তু উনি পরিচালক এবং আমাদের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। ‘গাল্লি বয়’-এর পর আমি ওনাকে বলেছিলাম, একদিন ওনার সঙ্গে কাজ করতে চাই। উনি আগে থেকেই ম্রুণালের কাজ জানতেন এবং তাঁর প্রতিভার প্রশংসা করতেন। আমাদের তিনজনের ওপর ওনার বিশ্বাসই এই যাত্রার ভিত্তি হয়ে উঠেছে।’
নিজের জীবনের অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব নিয়ে সিদ্ধান্ত বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার অনেক অনিশ্চয়তা ছিল। ছোটবেলায় আমার কোঁকড়ানো চুলের জন্য আমাকে নিয়ে মজা করা হতো। অনেকে “ম্যাগি নুডলস” বলত। ছোট চোখের জন্যও কটূক্তি শুনতে হয়েছে। আমার ইংরেজিও খুব ভালো ছিল না। বাড়িতে ভোজপুরি ভাষায় কথা বলতাম, সেটাও নিয়ে ঠাট্টা হতো। সবকিছু আমার আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেছিল। ক্লাসে উত্তর জানলেও হাত তুলতাম না। কারও সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা পেতাম। কেউ অন্যায় করলেও প্রতিবাদ করতাম না। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজেকে মেনে নিতে শিখেছি। আজ আমার এই কোঁকড়ানো চুল আর ছোট চোখই আমার পরিচয়। বুঝেছি, আলাদা হওয়া দুর্বলতা নয়, সেটাই শক্তি।’
ছবির নামের ‘সেহের’ শব্দের অর্থ নিয়ে সিদ্ধান্ত বলেন, ‘সেহের মানে ভোর, অন্ধকারের পর প্রথম আলো। আমাদের ছবিতে এর দুটো অর্থ আছে। আমার চরিত্র “শশাঙ্ক”-এর “শ” উচ্চারণ করতে পারে না, তাই “শহর”-এর বদলে “সেহের” বলে। এতে গল্পে একটা সরলতা আসে। কিন্তু এর গভীরতাও আছে। এটা আশার প্রতীক। আজকের পৃথিবীতে এত হিংসা, বিষাক্ত সম্পর্ক আর মানসিক অস্থিরতার মধ্যে আমাদের ছবি একটা কোমল আলো দেখানোর চেষ্টা করেছে।’
মেট্রোপলিটন গল্প নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত বলেন, ‘আমাদের ছবি খুব আলাদা। এটা জোরে চিৎকার করা বা অতিরঞ্জিত নাটকীয়তার ছবি নয়; বরং এটা সহজ, আবেগঘন গল্প। পুরোনো দিনের সরল সিনেমার মতো, কিন্তু পুরোপুরি আধুনিক প্রেক্ষাপটে তৈরি। এখানে একটা সংলাপ আছে, “হয়তো আমি সুন্দর নই।” সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই কথা খুবই প্রাসঙ্গিক।’
এ প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত বলেন, ‘ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে সবাইকে নিখুঁত মনে হয়। ফিল্টার একটা অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ড তৈরি করে। এতে তরুণ-তরুণীরা অনিশ্চয়তায় ভোগে। আমাদের গল্প সেই অনুভূতিগুলোকেই ছুঁয়ে গেছে। এখানে দুই অসম্পূর্ণ মানুষ একে অপরকে খুঁজে পায়।’
সহ-অভিনেত্রী ম্রণাল ঠাকুরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত বলেন, ‘আমি আগে থেকেই ওর কাজের ভক্ত ছিলাম। ওর ‘সুপার ৩০’ আর টেলিভিশনের কাজ দেখেছি। ও অনেক পরিশ্রম করে টিভি থেকে সিনেমায় এসেছে, সেটা আমি সম্মান করি। আমাদের মধ্যে একটা স্বাভাবিক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল; কারণ, দুজনেরই সংগ্রাম আর যাত্রাটা অনেকটা একই রকম।’
বন্ধুত্ব ও সততার গুরুত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত বলেন, ‘আমার কাছে এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুত্ব থাকলে বিশ্বাস তৈরি হয় আর বিশ্বাস থাকলে অভিনয় আরও স্বাভাবিক হয়।’
নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত বলেন, ‘আমি শুধু নায়ক হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমি চাই, আমার কাজ মানুষের মনে ছাপ ফেলুক। আমি এই সময়ের সংস্কৃতিতে কিছু অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে চাই।’
প্রখ্যাত নির্মাতা ভি শান্তারামের জীবন অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করছেন সিদ্ধান্ত। এ ছবিতে কাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জন্য বড় দায়িত্ব। তিনি শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, একজন দূরদর্শী মানুষ ছিলেন। তাঁকে পর্দায় তুলে ধরা মানে শুধু অভিনয় নয়, একটা দায়িত্ব পালন করা।’ এ চরিত্রের প্রস্তুতি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানান, ‘খুব শিগগির প্রস্তুতি শুরু করব। পরিচালকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিত্ব, কাজের ধরন—সবকিছু নিয়ে পড়াশোনা করছি। তাঁর পরিবারকেও দেখেছি, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। কোনো ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করতে হলে শুধু তাঁর চেহারা নয়, চিন্তাভাবনাও বুঝতে হয়। আমি একদিকে উত্তেজিত, অন্যদিকে একটু নার্ভাসও। তবে বিশ্বাস করি, এই চরিত্র আমাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’