চিকিৎসাবিদ্যাতেও ডিগ্রি আছে এই তারকাদের

প্রতিবছর ১ জুলাই ভারতে পালিত হয় জাতীয় চিকিৎসক দিবস। দেশের চিকিৎসকদের অবদান ও সেবাকে সম্মান জানাতেই বিশেষ এই দিন পালন করা হয়। রুপালি পর্দায় চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় বহু তারকাকে। তবে বাস্তব জীবনেও ভারতীয় বিনোদনজগতে এমন অনেক পরিচিত মুখ আছেন, যাঁদের পরিচয় শুধু অভিনেতা, সংগীতশিল্পী বা মডেল নয়—তাঁরা চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষিতও। কেউ এমবিবিএস চিকিৎসক, কেউ দন্তচিকিৎসক, কেউ আবার মনোরোগ বা অস্থিরোগবিশেষজ্ঞ। কেউ চিকিৎসা পেশায় কাজ করেছেন, কেউবা ডিগ্রি অর্জনের পর পুরোপুরি অভিনয় ও সংগীতকেই বেছে নিয়েছেন। জাতীয় চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক, চিকিৎসকের সাদা কোট থেকে শোবিজের আলোয় উঠে আসা এমন কয়েকজন তারকার গল্প।

অদিতি গোভিত্রিকার
অভিনেত্রী, মডেল এবং ২০০১ সালের মিসেস ওয়ার্ল্ড অদিতি গোভিত্রিকার পেশায় একজন চিকিৎসক। অভিনয়জগতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে তিনি মুম্বাইয়ের গ্র্যান্ট মেডিক্যাল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজেও সক্রিয় তিনি। অদিতির ভাষ্য, চিকিৎসাশাস্ত্রে অর্জিত জ্ঞান আজও তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সমানভাবে কাজে লাগে।

সাই পল্লবী

সাই পল্লবী
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবী জর্জিয়ার তিবলিসি স্টেট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। যদিও চিকিৎসক হিসেবে তিনি কখনো পেশাগতভাবে কাজ করেননি। চিকিৎসাবিদ্যার পড়াশোনা শেষ করেও অভিনয়কেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী।


শ্রীলীলা
তেলেগু সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলীলা অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও চিকিৎসাবিদ্যার পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ২০২১ সালে নাভি মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্কুল অব মেডিসিন থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিকিৎসক হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করায় তিনি ভক্তদের কাছেও বিশেষভাবে প্রশংসিত হন।

শ্রীলীলা

মেয়াং চ্যাং
গায়ক, উপস্থাপক ও অভিনেতা মেয়াং চ্যাং বেঙ্গালুরুর ভি এস ডেন্টাল কলেজ থেকে বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বিনোদনজগতে আসার আগে তিনি কিছুদিন দন্তচিকিৎসক হিসেবেও কাজ করেছেন। পরে সংগীত ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থেকেই শোবিজে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।


মোহন আগাশে
ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা মোহন আগাশে চিকিৎসাবিদ্যায় এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর মনোরোগবিদ্যায় এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। অভিনয়ে আসার আগে তিনি মনোরোগবিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিনয়জীবন শুরু হলেও চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি।

পলাশ সেন

পলাশ সেন
জনপ্রিয় ব্যান্ড ইউফোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও কণ্ঠশিল্পী পলাশ সেনও একজন চিকিৎসক। তিনি এমবিবিএস সম্পন্ন করার পাশাপাশি অর্থোপেডিকস বা অস্থিরোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। সংগীতজগতে প্রতিষ্ঠিত হলেও চিকিৎসাবিদ্যার পরিচয় তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।


শ্রীরাম লাগু
ভারতীয় চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের কিংবদন্তি অভিনেতা শ্রীরাম লাগু পুনের বি জে মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ও এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। কয়েক বছর কান নাক গলা (ইএনটি) সার্জন হিসেবে কাজ করার পর অভিনয়কে জীবনের মূল পেশা হিসেবে বেছে নেন। পরে তিনি ভারতীয় নাটক ও চলচ্চিত্রে কিংবদন্তির মর্যাদা অর্জন করেন।

মানুষি ছিল্লার

মানুষি ছিল্লার
সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও অভিনেত্রী মানুষি ছিল্লার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। তিনি সোনিপতের ভগৎ ফুল সিং মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএসে ভর্তি হন। তবে ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয়ের পর তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। মডেলিং ও অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় চিকিৎসাবিদ্যার পড়াশোনা আর শেষ করা হয়নি।


বিনীত কুমার সিং
বলিউডের প্রশংসিত অভিনেতা বিনীত কুমার সিং অভিনয়ে আসার আগে চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। নাগপুরের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল থেকে তিনি আয়ুর্বেদে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় অভিনয় শেখার। তবে পরিবারের চাপে চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করতে হয়। শেষ পর্যন্ত অভিনয়ের টানই তাঁকে রুপালি পর্দায় নিয়ে আসে, যেখানে নিজের অভিনয়গুণে তিনি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।