বলিউডে আলোচনার কেন্দ্রে এখন অভিনেতা রণবীর সিং। কারণ, হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পের সংগঠন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই) তাঁর বিরুদ্ধে ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেকটিভ’ বা অসহযোগিতার নির্দেশ জারি করেছে। অর্থাৎ বিভিন্ন ইউনিয়নের সদস্যদের রণবীরের সঙ্গে কাজ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফারহান আখতারের ‘ডন ৩’ সিনেমা থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়ানোয় এ পদক্ষেপ নিয়েছে সংগঠনটি।
এ ঘটনার পক্ষে–বিপক্ষে কথা বলেছেন অনেকেই। এবার ‘ডন ৩’ বিতর্কে সরব হলেন লেখক ও কলামিস্ট শোভা দে। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনার পেছনে শুধু ‘ডন ৩’ থেকে অভিনেতার সরে দাঁড়ানো নয়, বরং আরও বড় কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ কাজ করছে। বিশেষ করে তিনি মনে করছেন, এ আক্রমণ শুধু রণবীরের বিরুদ্ধে নয়; বরং আদিত্য ধর এবং তাঁর ব্লকবাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ধুরন্ধর’–এর বিরুদ্ধেও।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে শোভা দে রণবীরের নীরব অবস্থানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী দিল্লি জিমখানা ক্লাব বিতর্কের তুলনা টানেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে শোভা দে লেখেন, ‘রণবীর সিং বলিউডের দিল্লি জিমখানা ক্লাব। একই রকম, আবার আলাদা। অন্তর্ভুক্তির বদলে একচেটিয়া আধিপত্য? ভয় দেখানো বা চাপ প্রয়োগে কিছু হবে না।’
এই লেখক আরও বলেন, ‘আমি রণবীর সিংয়ের ঘটনাটি অনুসরণ করছি, আবার দিল্লি জিমখানার ঘটনাও দেখছি। দুটির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। বিষয়টি মূলত ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ আর কাউকে নিজের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। রণবীরকে নিষিদ্ধ করা গভীর ষড়যন্ত্র।’
শোভা দের মতে, এফডব্লিউআইসিই হঠাৎই নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। কারণ, তারা বলছে, তারা দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজনকে স্টুডিওতে ঢুকতে দেবে না। কিন্তু এর ফলে প্রযুক্তিকর্মীসহ অনেক সাধারণ কর্মীও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
শোভা প্রশ্ন তোলেন, যদি ফারহান আখতার তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবং রণবীরের মধ্যে চুক্তিগত সমস্যা থেকেই থাকে, তাহলে সেটি আদালতে গিয়েও সমাধান করা যেত। সেখানে শিল্পীসংগঠনকে টেনে আনার প্রয়োজন ছিল কি না, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
এই লেখক বলেন, ‘এটি যদি এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট, ফারহান আখতার আর রণবীর সিংয়ের মধ্যকার বিষয় হয়, তাহলে আইনজীবী নিয়োগ করে আদালতে যাওয়া যেত। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে, সেটা খুবই কুৎসিত।’
শোভা দে দাবি করেন, ‘ধুরন্ধর’–এর বিশাল সাফল্যের পর থেকেই পরিচালক আদিত্য ধর বলিউডের কিছু ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর’ চোখে বড় হুমকি হয়ে উঠেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এটি শুধু রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নয়; বরং ধুরন্ধরের সঙ্গে যুক্ত সবার বিরুদ্ধে, বিশেষ করে আদিত্য ধরের বিরুদ্ধে।’
তবে পুরো পরিস্থিতিতে রণবীরের নীরবতাকেই কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন শোভা। তাঁর মতে, অভিনেতা প্রকাশ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দিয়ে বরং নিজের জনপ্রিয়তাই আরও বাড়িয়ে তুলছেন।
শোভা বলেন, ‘রণবীর বুদ্ধিমান। তিনি চুপ থেকেছেন, তাঁর ভক্তদেরই তাঁর হয়ে কথা বলতে দিচ্ছেন। আর এই নীরবতাই তাঁর ব্র্যান্ড ইমেজ আরও শক্তিশালী করছে।’
বর্তমান বিতর্কের সূত্রপাত ‘ডন ৩’–কে ঘিরে। ২০২৩ সালে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, শাহরুখ খানের পর এবার ‘ডন’ চরিত্রে দেখা যাবে রণবীর সিংকে। কিন্তু পরে খবর আসে, তিনি হঠাৎই সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে ফারহান আখতার অভিযোগ করেন, রণবীরের সিদ্ধান্তে প্রায় ৪৫ কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। এরপরই এফডব্লিউআইসিই অভিনেতার বিরুদ্ধে ‘নন-কো–অপারেশন ডিরেকটিভ’ জারি করে।
এর জবাবে রণবীরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, অভিনেতা চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রাখেন। তিনি বিশ্বাস করেন, পেশাগত ও ব্যক্তিগত বিষয়গুলো মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গেই সামলানো উচিত।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে