ডিজাইনিং নিয়ে পড়তে পড়তেই অভিনয়ে চলে আসেন কৃতিকা কামরা। তাঁর বয়স তখন মাত্র ১৮। দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজির বাইরে এক ট্যালেন্ট স্কাউটের চোখে পড়ে যান তিনি। ‘সেখানে মাত্র একটাই সেমিস্টার পড়েছিলাম। সেখানকার পাট চুকিয়ে পাকাপাকি অভিনয়ের দিকে পা বাড়াই,’ হেসে বলেন কৃতিকা। অনুষা রিজভির ‘দ্য গ্রেট শামসুদ্দিন ফ্যামিলি’তে প্রথমবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়। জিওহটস্টারে মুক্তি পাওয়া ছবিতে তিনি বনি আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি দ্য হলিউড রিপোর্টারকে এক সাক্ষাৎকারে নতুন এ ছবি ছাড়াও নানা বিষয়ে কথা বলেন কৃতিকা।
উচ্চমধ্যবিত্ত এক মুসলিম পরিবারের দুই প্রজন্মকে ঘিরে নির্মিত ‘দ্য গ্রেট শামসুদ্দিন ফ্যামিলি’ ছবিতে উঠে এসেছে পারিবারিক কোলাহলের মধ্যে নিজের জায়গা খুঁজে নেওয়ার গল্প। বনি আহমেদের চরিত্রে সুযোগ পাওয়া সহজ ছিল না, জানান কৃতিকা। তিনি বলেন, ‘আমার মতো একজন অভিনেত্রীর জন্য কেন্দ্রীয় চরিত্র পাওয়া কঠিন। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংয়ের পেছনে অনেক হিসাব থাকে। তার ওপর নারীকেন্দ্রিক গল্প এমনিতেই কম লেখা হয়।’ অভিনেত্রী জানান, ছবির কিছু অংশ নিজে ভিডিও করে অডিশন দিয়েছিলেন। ‘সেই ভিডিও অনুষা রিজভিকে পাঠানো হয়, আর আমি কাজটা পাই। এখনো যে অডিশনের প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস রাখা হয়, এটা জেনে খুব ভালো লেগেছিল,’ বলেন কৃতিকা।
‘দ্য গ্রেট শামসুদ্দিন ফ্যামিলি’ ছবিটি বড় কোনো প্রচার ছাড়াই দর্শকের ভালোবাসা পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গ টেনে কৃতিকা বলেন, ‘এ ছবির কোনো মার্কেটিং বাজেট ছিল না। পুরোপুরি মুখে মুখে প্রচারের ওপর ভরসা করেছিলাম আমরা। তবে সবার ভালোবাসা পেয়ে দারুণ লাগছে। দর্শক লম্বা লম্বা মেসেজ লিখে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবির প্রশংসা করেছেন করণ জোহর ও নীরজ ঘেওয়ান। বরুণ গ্রোভার লেটারবক্সে সুন্দর রিভিউ লিখেছেন। এটা আমার জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা।’
ওয়ার্কশপ ও মহড়ার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন কৃতিকা। ‘মুম্বাই ও দিল্লিতে সবাই মিলে বসে চিত্রনাট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়া অনেকটা থিয়েটারের মতো ছিল,’ বলেন কৃতিকা। ছবির বেশির ভাগ শুটিং দক্ষিণ দিল্লির চত্তরপুরের একটি বাড়িতে হয়েছিল বলে জানান অভিনেত্রী, ‘এক জায়গায় শুট করার কারণে চরিত্রের ছন্দটা ঠিকভাবে ধরতে অনেক সুবিধা হয়েছিল।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে কৃতিকা স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ার কোনো এজেন্সি ঠিক করে না। এটা আমার নিজের সিদ্ধান্তের ফল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ছবি আমাকে ঝুঁকি নিতে আরও সাহস দিয়েছে।’ টেলিভিশনের পর ওটিটিতেও সবার ভালোবাসা পাচ্ছেন কৃতিকা। অভিনেত্রী মনে করেন যে আজ তাঁর এ উত্তরণের পেছনে টেলিভিশনের বড় ভূমিকা আছে।
কৃতিকা বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ার ও জীবনের ক্ষেত্রে টেলিভিশন অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে। ছোট পর্দায় কাজের মাধ্যমে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। তবে একসময় মনে হয়েছিল, এবার নতুন কিছু করতে হবে। আর সে কারণে বলিউড আর ওটিটিতে নিজের ভাগ্যপরীক্ষা করতে পা বাড়িয়েছিলাম।’ কৃতিকার কাছে মাধ্যম কতটা গুরুত্ব পায়, এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কাজটাই বড় কথা। কোন মাধ্যমে কাজ করছি, সেটা খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। ওটিটিতে কাজ করলে কী ধরনের দর্শক পাব, তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না।’
আগামী কাজ বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘একটি সিনেমায় কাজ করছি। এ সিনেমায় আমাকে চরিত্রের প্রয়োজনে শারীরিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি নাগরাজ মঞ্জুলের পরিচালনায় ‘মটকা কিং’ সিরিজে বিজয় ভার্মার সঙ্গে অভিনয় করছি। সত্তরের দশকের বোম্বের গ্ল্যামার, জ্যাজ আর রেট্রো স্টাইল—সব মিলিয়ে দারুণ একটা জগতে পা রাখছি।’