গাভিপুরম গভর্নমেন্ট কন্নড় মডেল প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা করেন রজনীকান্ত। পড়াশোনায় যেমন ছিলেন মনোযোগী, তেমনি দুষ্টামিতেও পটু। ক্রিকেট, ফুটবলের মতো খেলায়ও ছিল তাঁর আগ্রহ। পরে ভাই তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেন রামকৃষ্ণ মিশনে। সেখানেই আধ্যাত্মচর্চার প্রতি অনুরাগ তৈরি হয় তাঁর, আর অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ জাগে। মঞ্চনাটকে অভিনয় করে শিক্ষক-সহপাঠীদের প্রশংসা কুড়ান। জীবনে বিচিত্র সব কাজ করেছেন। কখনো অফিস বয়, কুলি, কাঠমিস্ত্রি, বাস কন্ডাক্টর। বাসে টিকিট দেওয়া আর খুচরা ফেরানোর ভঙ্গি এতই জনপ্রিয় ছিল যে যাত্রীরা তাঁর বাসের জন্য অপেক্ষা করতেন। কাজ যা–ই করুন, অভিনয়ের স্বপ্ন ছাড়েননি। পরিবার প্রথমে আপত্তি জানালেও বন্ধুর সহায়তায় ভর্তি হন মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে। পরে অল্প কিছু তামিল শব্দ জেনেই মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। সেখানেই পরিচালক কে বালাচন্দর তাঁকে নতুন নাম দেন—রজনীকান্ত; অর্থাৎ রাতের রং। আজ এত দিন পরে ভারতীয় সিনেমার মহাতারকা তিনি। তবে তারকা ইমেজে নন, রজনী বলছেন তিনি বাস কনডাক্টর পরিচয়েই বেশি স্বচ্ছন্দ।
আজ ১৫ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে রজনীকান্ত অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত তামিল সিনেমা ‘জেলার ২’। ছবির প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজের অতীতের কথা বলতে গিয়ে রজনীকান্ত ফিরেছেন জীবনের সেই অধ্যায়ে, যখন অভিনয় নয়, বাসের টিকিট কাটাই ছিল তাঁর পেশা। পাঁচ বছর বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সেই দিনগুলোর কথা আজও ভোলেননি। বরং তাঁর কথায়, অভিনয়কে ভালোবাসলেও কন্ডাক্টরের কাজের প্রতি তাঁর টান আরও গভীর। সুপারস্টার পরিচয়ের আড়ালেও নিজেকে তিনি সেই বাস কন্ডাক্টর হিসেবেই ভাবতে ভালোবাসেন।
পাঁচ বছরের বাস কন্ডাক্টরের জীবন
রজনীকান্তের আসল নাম শিবাজি রাও গায়কোয়াড়। ১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুতে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার শৈশব কেটেছে সাধারণ পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। সিনেমায় আসার আগে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন কাজ করেছেন তিনি। একসময় বেঙ্গালুরুর বাস পরিবহনব্যবস্থায় কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন টানা পাঁচ বছর। তখন যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা, টিকিট দেওয়া আর প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততাই ছিল তাঁর জীবনের অংশ।
‘জেলার ২’-এর প্রচার অনুষ্ঠানে পরিচালক নেলসন দিলীপকুমারের সঙ্গে আলাপচারিতায় রজনীকান্ত জানিয়েছেন, বাস কন্ডাক্টরের কাজের সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। বাস দেখলে কিংবা খাকি পোশাক পরা কন্ডাক্টরদের দেখলে পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে। এমনকি বেঙ্গালুরুতে যাওয়ার পেছনেও এই স্মৃতির ভূমিকা আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রজনীকান্ত বলেন, ‘সত্যি বলতে, রজনীকান্ত বা সুপারস্টার—এই পরিচয়ের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে আমার কিছুটা অসুবিধা হয়। এ কারণেই আমি বারবার বেঙ্গালুরুতে যাই। বাস দেখলেই ভালো লাগে। কিছুদিন আগেও বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলাম। কন্ডাক্টরের সেই খাকি পোশাক দেখলে এখনো পুরোনো দিনের জন্য মন কেমন করে। আমি নিজেকে একজন বাস কন্ডাক্টর হিসেবেই ভাবি।’
‘জেলার ২’ সম্পর্কে
রজনীকান্তর বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জেলার ২’। এটি ২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘জেলার’-এর সিক্যুয়েল। পরিচালনায় আগের সিনেমার পরিচালক নেলসন দিলীপকুমার, সংগীতে অনিরুদ্ধ রবিচন্দর।
প্রথম সিনেমায় রজনীকান্ত অভিনয় করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে, যিনি ‘টাইগার’ নামেও পরিচিত। পরিবারের ওপর বিপদ নেমে এলে পুরোনো অপরাধজগতের যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন।
দ্বিতীয় পর্বেও সেই চরিত্রে ফিরছেন রজনীকান্ত। নতুন করে অপরাধজগতের হুমকি তৈরি হলে পরিবার ও নিজের উত্তরাধিকার রক্ষায় আবারও কঠোর হয়ে উঠতে হবে তাঁকে। ট্রেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবার শত্রুর পরিধি বড়, বিপদও বেশি। তবে গল্পের সব খুঁটিনাটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সিনেমাটিতে রজনীকান্ত ছাড়াও আছেন বিদ্যা বালান, এস জে সূর্য, মোহনলাল, শিবরাজকুমার, মিঠুন চক্রবর্তী, সুরাজ ভেঞ্জারামুডু, রম্যা কৃষ্ণন, যোগী বাবু, জ্যাকি শ্রফসহ আরও অনেকে।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে